ফারাজি মুন্সির দরবার ১৫ তম অধিবেশন

kushtiardiganta
By kushtiardiganta June 5, 2014 15:59

ফারাজি মুন্সির দরবার ১৫ তম অধিবেশন

faraji munsi webআসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ। সাথী বন্ধুরা দেখেছো ? সমস্যা কত ? যুবক যুবতীরা এবার চিন্তা কর। জীবন চলার পথে কি সংঘর্ষ। কেউ স্বামীকে ধরে মারতে চায়,কাউকে স্বামী ধরে পিটিয়ে হাতের আংগুল ভেঙ্গে দেয়। কেউ বৌকে তালাক দিয়ে আবার হায় হায় করে। কেউ সিভিল ড্রেসে চলতে চায়। কেউ দুধ না পেয়ে কার দুধ খায় তার ঠিক থাকে না। কেউ বিয়ে করার আগে বৌকে এতবেশী ভালবেসে ফেলেছে যে, বৌকে বিধাব হবার ভয়ে বিয়েই করবে না। আরে তোমার যেটা আল্লাহ বরাদ্দ রেখেছে তাকে তো কেউ বিয়ে করতে পারবে না। তাহলে কি ঐ যুবতী শুকিয়ে শুকিয়ে মরবে ? যতসব। হাজারো সমস্যা । তারপর ঐ মুন্সি। তার কাছে সমাধান। আমি বলেছি আমার কথা বিয়ের আগে ফলো করো, সমাধান লাগবে না। কেউ কথা শোনে না। আনমেরিহ যুবক-যুবতীরা, সাবধান। কথায় বলে,“ ভাবিয়া করিও কাজ, করিয়া ভাবিও না”। তা’নাহলে বলতে হবে,সুখেরও লাগিয়া এ ঘরও বাধিনু,সকলই গরল ভেল। সমস্যার কারণে আজকে যারা মুন্সির দরবারে ধর্না দিয়েছে তাদের প্রশ্ন শোন,-
প্রশ্ন ঃ ফারাজী মুন্সী সাহেব আচ্ছালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। ফারাজী মুন্সী সাহেব আপনার কাছে আমার জানার বিষয় দাড়ি রাখা প্রসঙ্গে। আমি দাড়ি রাখার ইচ্ছা করলে আমাকে একজন বললেন স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া দাড়ি রাখা যাবে না। এটা ঠিক কিনা। আমার স্ত্রী অনুমতি না দিলে আমি কি দাড়ি রাখতে পারবো না?
রফিকুল ইসলাম, খাজানগর, বটতৈল, কুষ্টিয়া।
উত্তর ঃ দাড়ি রাখা সুন্নাত। আল্লাহর রাসুল (সাঃ)এর নির্দেশ। তোমাকে একজন বলেছে দাড়ি রাখতে স্ত্রীর অনুমতি লাগবে। লোকটি কে ? স্ত্রীর কথামত রাসুল (সাঃ) এর বিরুদ্ধে দাড়িয়ে গেছে। আবার তোমাকে দাড়াবার পরাপমর্শ দিচ্ছে ? শরীয়ত নির্দ্ধার্রিত কাজ যদি স্ত্রীর অনুমতি নিয়ে নিয়ে করতে হয় তবে একদিন স্ত্রী যদি বলে বাথরুম করতে হলে আমার অনুমতি নিতে হবে। আর সময় কালে যদি অনুমতি দিতে দেরী করে অথবা না দেয় ? তখন ? বেকুব, বে-কিতাবী কোথাকার। দাড়ি তো রাখবাই, স্ত্রীর সাথে করে রাখবা। দাড়াও সমস্যা হয়ে গেল। তোমার স্ত্রীর দাড়ী আছে কি না তাতো জানিনে।

প্রশ্ন ঃ ফারাজী মুন্সী সাহেব ফেস বুক ও অনলাইনে আপনার অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর পড়ছি। আশা রাখি আমার প্রশ্নেরও উত্তর পাবো ইনশাআল্লাহ। আমার স্বামী বাজার থেকে জবাই করার জন্য জালালী কবুতর কিনে আনে। আমি জবাই করার জন্য প্রস্তুত হলে বাড়ির লোকজন জানালেন সিলেট এলাকার মধ্যে জালালী কবুর খাওয়া যাবে না। আমি ওই কবুতর জবাই না করায় স্বামী-স্ত্রীর মাঝে মনোমালিন্য সৃষ্টি হয়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে জালালী কবুতর খাওয়া যাবেনা একথাটা ঠিক কিনা? আকলিমা ফেরদৌসী, সিলেট।
উত্তর ঃ আকলিমা তুমি সালাম দাওনি  কেন ? সালাম দিলে আল্লাহ খুশী হন। আমাকে না হয় দিলে না, স্বামীকে কি দাও ? ভাই-বোন ? শশুর শাশুড়ী ? ছেলে মেয়ে ? বা আর সকলকে ? সকলকেই সালাম দেবে। জালানী কবুতর হালাল। না খাওয়ার কোন ভিত্তি নেই। আল্লাহ সকল পাক জিনিষ খাওয়া হালাল করেছেন। কবুতর খাওয়া তার মধ্যে একটি। হালাল জিনিষ হারাম করার  মতা আল্লাহ কাউকে দেননি। রসুল (সাঃ) স্ত্রীদের মন্তব্যের কারণে মধূ খাবেন না বলে একদিন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। আল্লাহ ওহী নাযিল করে জানিয়ে দিলেন, হে নবী হালাল করা জিনিষ আপনি আপনার উপর হারাম করে নিলেন কেন ? আল্লাহর রাসূল (সাঃ) সংগে সংগে মধু খেয়ে নিলেন। কবুতর খাওয়া হালাল। হযরত শাহ জালাল (রঃ) সেই কবুতর জালালী করে মানুষকে খাওয়া থেকে নিষেধ করতে পারে না এবং তিনি তা করেনও নাই। এক শ্রেনীর শিরকবাদ এবং বে-কেতাবী মানুষ বাবার জালানী কইতর আখ্যা দিয়ে খাওয়া নিষেধ করেছে। তোমার  স্বামী কবুতর জবাই করার হুকুম দিয়েছিল এবং তা শরীয়ত সম্মত। তুমি সে হুকুম পালন না করে ভুল করেছ। স্বামীর কাছে ভুল স্বীকার মাফ চেয়ে নাও। আর যদি কবুতার খেতে নাই চাও তবে মুন্সিেিক পাঠিয়ে দিও। দেখবে, জালানী কবুতর কিভাবে হালাল করতে হয়।

প্রশ্ন ঃ আচ্ছালামু আলাইকুম ফারাজী মুন্সী সাহেব। আমাদের এলাকায় এক অবিবাহিত যুবক তালাক প্রাপ্ত এক মহিলাকে বিয়ে করেছে। গ্রামের লোকজন এখন বলছেন অবিবাহিত যুবক কুমারী মেয়েকে বিয়ে করতে হয়। তাকেও অবিবাহিত মেয়েকে বিয়ে করতে হবে। ওই ছেলেটি দ্বিতীয় বিবাহ করতে নারাজ। এ নিয়ে ওই যুবকটি দ্বিধা দ্বন্দ্বে ভূগছেন এর সমাধান কি জানাবেন?
আব্দুল হাই, মিরপুর, কুষ্টিয়া।
উত্তর ঃ ধন্যবাদ ঐ যুবককে যে একজন তালাক প্রাপ্ত মহিলাকে স্ত্রী হিসেবে গ্রহন করেছে। বিয়ের শুরুতেই সে আল্লাহর রাসুল (সাঃ) একটি সুন্œাত পালন করল। আল্লাহর রাসুল (সাঃ) বয়স ২৫, তখন মা খাদিজা (রাঃ) এর সাথে বিয়ে হয়। এ সময় বিবি খাদিজা (রাঃ) বয়স ছিল ৪০ বছর। রসুল (সাঃ) এর এটা ছিল প্রথম বিবাহ আর খাদিজা (রাঃ) এটা ছিল তৃতীয় বিবাহ। মা খাদিজা (রাঃ) ইতিপুর্বে আরো দু’বার বিয়ে হয়েছিল। ঐ যুবকটির স্ত্রীর ইতিপুর্বে যদি দু’বার বিয়ে হয়ে থাকতো, তবে যুবকটি পুরাপুরি রাসুল (সাঃ) সুন্নাত পালন করতে পারতো। একবার হলেও তো কিছু একটা সুন্নাত পালন করেছে। আমার ভয় হয় ভাগ্যিস তোমার গ্রামের ঐ লোকজন রাসুল (সাঃ) প্রথম বিয়ের সময় উপস্থিত ছিল না। থাকলে বিবি খাদিজার সাথে আল্লাহর রাসুল (সাঃ) এর বিয়ে হতো কি না, আল্লাহই ভাল জানেন। আর বিয়ে হলেও হয়ত এমনি ভাবে পরামর্শ দিত। যুবকটি ২য় বিয়ে করতে নারাজ। কেননা তার আর বিয়ে করার দরকার নেই। জোর করে বিয়ে দেয়ার কথা যারা বলছে তারা কি একটা সংসারে অশান্তি বাধাতে চায় ? সংসারে অশান্তি বাধানোর কাজ তো মানুষের না, শয়তানের। অশান্তি সৃষ্টি করলে বড় শয়তান বেশী খুশী হয়। হাদিসটি পড়ে নিও।

প্রশ্ন ঃ ফারাজী মুন্সী সাহেব ছালাম নিবেন । আমার এক বন্ধুকে এক আলেম বলেছে তার নিজ স্ত্রীর দুধ পান করায় তার স্ত্রী তালাক হয়ে গেছে। ওই আলেম আরও বলেছে স্ত্রীর স্তনে মুখ লাগাতে পারে কিন্তু দুধ পান করতে পারে না। আসলে উল্লেখিত বিষয়টি কি করা দরকার জানালে উপকৃত হবো। হামিদুল ইসলাম,  আলমডাঙ্গা, চুয়াডাঙ্গা।
উত্তর ঃ হামিদুল ইসলাম, তোমাদের আলমডাঙ্গার হাটে, বাজারে, গ্রামে দুধের অভাব ? নাহলে তোমার বন্ধু স্ত্রীর দুধ পান করতে গেল কেন ? সে কথা তো পরিস্কার কর নাই। একটি উপন্যাসের ঘটনা,সারেং বৌ ( লঞ্চ চালকের বৌ ) উপয়হীন এক মুমুর্ষ সময়ে  নিজের বুকের দুধ পান করিয়ে স্বামীর জীবন বাঁচিয়েছিল। এই ঘটনায় লেখককে আদমজী পুরস্কারে ভূষিত করা হয় । তোমার বন্ধু এবং তার স্ত্রীর পুরস্কার বিজয়ী হওয়ার এমন কোন বাসনা ছিল কি না ? যাক, অতো সতো ভেতরের কথা জানার দরকার কি ?
বিষয়টি ফয়সালা করার জন্যে কয়েকটি বিষয় সামনে রাখা দরকার;-
১)স্ত্রীকে হারাম করার নিয়তে দুধ পান করেছে কি না
২)হারাম করার নিয়ত নেই। স্ত্রীর দুধ পান করার পরিনতি সম্পর্কের অজ্ঞ শুধমাত্র  দুধের স্বাদ কেমন টেষ্ট করতে চেয়েছে,(এ ব্যাপারে এক আধ ফোটা দুধ পান করা হয় )
৩)অসাবধানতা বশত হয়ে গেছে। সে অনুতপ্ত।
তার নিয়ত কি ছিল তা প্রশ্নের মধ্যে উল্লেখ্য করা হয়নি। যদি প্রথমটি হয়ে থাকে তবে সে গোনাহগার। স্ত্রীর সাথে স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ক রাখা হারাম। দ্বিতীয়টি হলে স্ত্রী তালাক হবে না। তবে গোনাহগার। একজন মুসলমান হয়ে বিষয়টি জানা ফরজ ছিল। এখানেও না জানা আর একটি গোনাহ। একজন মুসলমান হয়ে এতটুকু জানবে না কেন ? অতএব তাকে তাওবাহ করতে হবে এবং গোনাহের কাফফারা আদায় করতে হবে। যেমন কমপে তিনটি নফল রোজা,কিছু দান সদকা ইত্যাদি। তৃতীয়টি হলে অসাবধানতার কারনে তাওবাহ করা, আল্লাহর কাছে মা চাওয়া। মনের মধ্যে এ রকম সাধ যেন আর না জাগে।

প্রশ্ন ঃ আচ্ছালামু আলাইকুম। আমি এখন পূর্ণ বয়স্ক যুবক। আমি বিয়ে করতে চায়। কিন্তু বর্তমান রাজনৈতিক পোপটের কথা ভেবে বিয়ে না করে বিলম্ব করছি। কারণ আমি ইসলামী ছাত্র সংগঠন করি। এেেত্র আন্দোলনের তপ্ত ময়দানে গিয়ে আমি শাহাদাৎ বরণ করলে আমার স্ত্রী বিধবা হবে। আমার স্ত্রীর জীবনে দূর্ভোগ নেমে আসতে পারে। এেেত্র আমার করণীয় কি? পরামর্শ দিলে উপকৃত হবো। ছাত্র, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।
উত্তর ঃ সাবাস ! বিয়ের আগেই বৌকে নিয়ে এ্যাতো ভাবনা ? ভাগ্যিস নাম ঠিকানা দাওনি। নইলে যুবতীরা অভিভাবক দিয়ে প্রস্তাব পাঠাতো। এমন জীবন সাথীই তো তাদের আকাঙ্খা। হবেই তো। মুন্সির শিষ্য না ! মুন্সি কি করেছিল শোন। বিয়ের দিন সন্ধ্যায় নতুন জীবন সাথী,তার ভাবী সাহেবানরা আর মুন্সি এক আসরে বসে আলাপ পরিচয় হচ্ছে। মুন্সি পানি খেতে চাইলো। পানির সাথে এক পেয়ালা দৈ এলো। মুন্সি অর্ধেক খেয়ে অর্ধেক রেখে দিল। সবার অনুরোধ আর পীড়াপীড়ি সবটুকু খেতে হবে। নতুন সাথীর দিকে ইংগিত করে মুন্সি বলল,এখন থেকে সবটুকুই আমার জন্যে না। হাসির রোল। তারপর মন্তব্য,বাববাহ বিয়ে করতে না করতেই এ্যাতো ভাবনা !
জানিনা তাদের মন্তব্যে ঈর্ষা ছিল কি না। তবে মুন্সি তার জীবনের সাথে আর একটি জীবনকে জড়িয়েই চিন্তা করেছিল। মুন্সির চিন্তাটা ভাল। কিন্তু তোমার চিন্তাটা ভাল না। কারণ (এক) তুমি ভবিষ্যতকে তোমার হাতে নিয়ে ফেলেছ। (দুই) বিধবা ইয়াতিম আল্লাহর মেহমান,দেখাশুনা করার দায়িত্ব আল্লাহর। (তিন) কেউ যদি শহীদের স্ত্রী হওয়ার মর্যাদা পায় তাতে তুমি বাদ সাধার কে ? (চার) আল্লাহর রাসুল (সাঃ) সাহাবাদের মদিনার জীবন ছিল সংঘাতময়। তারপরও বিয়ে বন্দ থাকেনি। বিধবার সংখ্যা মদিনাতেই বেশী। আল্লাহর রাসুল (সাঃ) তাঁর তৃতীয় বিবাহ থেকে সবকটি বিবাহ মদিনাতেই করেছেন। স্ত্রীদের নিয়ে ভাবনা কি তাঁর কম ছিল ? বিয়ে মানুষের জীবনের এমন সময়ে প্রয়োজন যা যুবক যুবতীর জন্যে ফরজ হয়ে দাঁড়ায়,তা না করা গোনাহ। তুমি পুর্ন বয়স্ক যুবক । তুমি বিয়ে করতে চাও। তোমার মুখে অমন কথা মানায় না। রবীন্দ্রনাথের “ঘাটের কথা” গল্পটি পড়ে দেখ। বাস্তবকে অস্বীকার করলে কুসুমের মত আত্মাহুতি দিতে হতে পারে। প্রাকৃতিগত প্রয়োজন আর বাস্তব একটা নিষ্ঠুর উদাহরণ। তাকে অস্বীকার করা যায় না। শরীয়ত তা বলে না। পরামর্শ হলো,বিয়ে,বিয়ে,বিয়ে। আর একটা ছোট্ট কথা। দাওয়াত পাবো তো ?  সমস্যা এড়াতে মুন্সির কথা ফলো করার জন্যে যুবক যুবতীরা তৈয়ার হইয়া যাও। আগামী পর্বে আবার দেখা হবে ইনশাআল্লাহ।

kushtiardiganta
By kushtiardiganta June 5, 2014 15:59