৩০ বছর জোঁকের তেল বিক্রি করে স্বাবলম্বী বাবলু কবিরাজ

kushtiardiganta
By kushtiardiganta July 3, 2014 22:51

৩০ বছর জোঁকের তেল বিক্রি করে স্বাবলম্বী বাবলু কবিরাজ

kushtia jok oil babluস্টাফ রিপোর্টার ॥  আপনার শরীরের সকল প্রকার ব্যথা দূর করতে ব্যবহার করুণ সর্বরোগের মহাঔষধ জোঁকের তেল। ফুটপাতে হাক ছাড়া কবিরাজের এমন চটকদার কথায় থমকে দাড়ায় কুষ্টিয়া কোর্টের সব শ্রেণীর মানুষ। ছোট-বড় অনেক তেলের বোতল। চতুর্দিকে সারি সারি বৈয়াম। বৈয়াম ভর্তি বড় সাইজের জোক। এক একটি জোকের সাইজ হবে আট থেকে দশ ইঞ্চি।  এ প্রাণীর নির্জাস দিয়ে তৈরী হয় তেল । আর এই তেল শরীরের সর্বরোগের মহাঔষধ। বিশেষ করে বাত ব্যথা, বিষ ব্যথা উপশমে ব্যাপক ভূমিকা রাখে। পুরুষদের গোপনাঙ্গের অনেক রোগ প্রতিকার করে। এ জোঁকের তেল বিক্রি করেই বাবলু কবিরাজ আজ স্বাবলম্বী।
সমাজ-সংসার-রাজনীতি সকল েেত্রই তেলের বহুল ব্যবহার আদিকাল থেকে। রহস্যাবৃত এই তেলের চাহিদা বর্তমান পৃথিবীতে প্রকট আকার ধারণ করেছে। গৃহিনী থেকে প্রেসিডেন্ট সবারই এই অনন্ত চাহিদা -তেল চাই, কম দামে তেল চাই, জীবনের বিনিময়ে তেল চাই। এই চাওয়ার বাসনা নিবৃত করার জন্য প্রতিদিন ঝরে পড়ছে অসংখ্য জীবন- বিশ্বব্যাপী মানুষের প্রধান খাদ্য চাল-গম পচিয়ে ফারমান্টেশন প্রক্রিয়ায় তৈরী হচ্ছে যানবাহনের জ্বালানী তেল, মহাবিশ্বব্যপী চষে বেড়াচ্ছে তেলের নতুন উৎস্য সন্ধানে চাঁদে, মঙ্গল গ্রহে কোথায় না খোজা হচ্ছে এই তেল? কিনতু এখনো চু মেলিয়া কেউ দেখেনি – এই বাংলাদেশে রয়েছে অনন্ত সম্ভাবনাময় একটি ত্রে; ক্রড ওয়েলের মত দেখেতে কাল রঙ এর “জোকের তেল” রাস্তাঘাটে, পথে প্রান্তরে অহরহ বিক্রি হচ্ছে।
জোঁকের তেল বিক্রি করে জনসেবা করছে খন্দকার বাবলু কবিরাজ। এমনটিই জানালেন বেশ কয়েকজন রসিক আইনজীবি।
কুষ্টিয়া সদর উপজেলার বাড়াদি গ্রামের খন্দকার শামসুল হকের ছেলে খন্দকার বাবলু দির্ঘ্য ৩০ বছর ধরে জোঁকের তেল বিক্রি করে আসছে । খন্দকার বাবলুর  দাদা মৃত ডাঃ নওয়াব আলী এবং তার বাবা খন্দকার শামসুল হক এ জোঁকের তেল বিক্রি করে । খন্দকার বাবলু তার দাদা ও বাবার জোঁকের তেল বিক্রয়ের ব্যবসাটা আজও ধরে রেখেছেন । তিনি বাংলাদেশের বিভিন্ন হাওড় বাওড় বিল থেকে জোঁক সংগ্রহ করে তা থেকে তেল তৈরী করে কুষ্টিয়া ডিসি র্কোট, র্জজ র্কোট, র্কোট ষ্টেশন সহ জেলার বিভিন্ন স্থান বিক্রি করে । তার এ জোঁকের তেলের মালিশ ব্যবহার করলে   বিভিন্ন রোগ সহ জটিল ও কঠিন ব্যাথা নিমিশেই ভালো হয়ে যায় বলে অনেকেই জানিয়েছে।
বাবলু জানায়, তিনি বংশানুক্রমে এই ব্যবসার সাথে জড়িত। কুষ্টিয়া জর্জকোর্টের সামনে, বিভিন্ন হাট বাজার, শহরের ফুটপাত বা জনসমাগম হয় এমন এলাকায় তিনি এই ব্যবসা করে থাকেন। তবে নির্ধারিত কোন স্থান নেই। প্রায় ৩০ বছর যাবত সে নিজেই তেল তৈরী করে বিক্রি করে আসছে।
বাবলুর দেয়া তথ্য মতে, জেলার বিভিন্ন হাওড় বাওড় থেকে জোঁক কিনে আনা হয়।  বিভিন্ন পাত্রে এগুলো সাজিয়ে প্রদর্শনীর জন্য রাখা হয়। মুছাব্বর, অ্যালকালিন, গোলথেরিয়া, সিনামল, করপুল, পিপারম্যান, বিষ তারফিন, আদা-রসুন, ম্যানথন দিয়ে তেল তৈরী করা হয়।
প্রায় ১ ফুট লম্বাকৃতির বিশেষ জাতের জোকের তেলের মালিশ মানুষের বিশেষ অঙ্গকে লৌহ দন্ডের ন্যায় শক্ত করে বলে জানায় ওই ব্যবসায়ী।
আধুনিক চিকিৎসাবিদদের মতে, এ জোকের তেলের গুনাগুণ সম্পর্কে তেমন সাড়া না পাওয়া গেলেও বিশিষ্ট দার্শনিক, গবেষক মাওলানা আশরাফ আলী থানবী (রঃ) বেহেশতী জেওরের মধ্যে এ জোঁকের তেলের গুনাগুন বর্ণনা করেছেন। মেহ-প্রমেহ রোগেিদর জন্য এ জোঁকের তেল ফলপ্রসু বলে সেখানে বর্ণনা করা হয়েছে।
কুষ্টিয়ার বাবলু কবিরাজের জোঁকের তেলও এমনটাই মানুষের উপকার হচ্ছে বলে ব্যাবহারকারীরা জানিয়েছেন।

kushtiardiganta
By kushtiardiganta July 3, 2014 22:51