কুমারখালীতে কলার বাম্পার ফলন ॥ ন্যায্য মূল্য পেয়ে কৃষকের মুখে হাসি

kushtiardiganta
By kushtiardiganta August 9, 2014 06:39

কুমারখালীতে কলার বাম্পার ফলন ॥ ন্যায্য মূল্য পেয়ে কৃষকের মুখে হাসি

NYXমাহমুদ শরীফ, কুমারখালী ঃ কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে এ বছর কলার বাম্পার ফলন হয়েছে। জমিতে বসেই কলার ন্যায্য মূল্য পাওয়ায় কৃষকের মুখে ফুটেছে সোনালী হাসি । ফলনশীল অর্থকারী এই ফসলের সাফল্যে এবং একই ফসলের সাথে একাধিক সাথী ফসল উৎপাদন হওয়ায় কৃষক তামাক ও ভুট্টা চাষের প্রতি আগ্রহ হারিয়েছে। যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এখান থেকেই বৈদেশীক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব বলে মনে করেন কৃষক।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায় উপজেলার বিস্তৃর্ণ জমিতে এবার কলার বাম্পার ফলন হয়েছে। বর্তমানে প্রচলিত ফসল চাষে কৃষকরা আর্থিকভাবে লাভবান না হওয়ায় তারা এই সব ফসলের বিকল্প হিসেবে বেছে নিয়েছেন অধিক লাভজনক ফসল কলা চাষ। কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এবার কুমারখালী উপজেলার প্রায় ৪ হাজার বিঘা জমিতে বিভিন্ন জাতের কলার চাষ হয়েছে। বিভিন্ন জাতের কলার মধ্যে রয়েছে জয়েন্টগর্ভানর, সাগর ও সর্বি কলা। তরে সিংহভাগ জমিতে চাষ করা হয়েছে সর্বি কলা।  ধান, পাট ও আখসহ প্রচলিত অন্যান্য ফসলের তুলনাই কলাচাষে শ্রম ব্যয় হয় কম, বিক্রি করতেও ঝামেলা নেই বাগান থেকেই বিক্রি হয়। অন্যদিকে কলার বাজারে সহজে ধস নামে না। চড়াঞ্চলের এসব জমিতে অন্যকোন ফসল ভাল না হওয়ায় পুষ্টিকর ফল কলার চাষ দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। কলাচাষের পাশাপশি এখানকার কৃষকরা সাথী ফসল হিসেবে ওল এবং পটল চাষ করে বাড়তি আয় করছে। একই সময়ে একাধিক ফসল চাষের ফলে কৃষকরা বেশী লাভবান হচ্ছেন । ফলে এখানকার কৃষকরা জমির জন্য তিকর তামাক ও ভুট্টা চাষের প্রতি দিন দিন আগ্রহ হারাচ্ছে।
উপজেলার চর আগ্রাকুন্ডা গ্রামের সফল কলাচাষি ইমরান হোসেন, সেকেন জর্দার জানান, তিনি এক যুগেরও বেশী সময় ধরে কলার চাষ করছেন। প্রাথমিক ভাবে প্রধান ফসলের সাথে কিছু সংখ্যক জমিতে সাথী ফসল হিসাবে কলার চাষ শুরু করেন। স্বল্প বিনিয়োগে ও কম পরিশ্রমে কলা চাষে অধিক মুনাফা হওয়ায় তিনি এ ফসলকেই বেছে নিয়েছেন। তার কলা চাষের এ সাফল্য দেখে এলাকার অন্যান্য কৃষকরা এখন কলা চাষের দিকে ঝুঁকছেন। কৃষক আরিফুল ইসলাম বলেন, কলাচাষের জন্য স্বল্পপুঁজি বিনিয়োগ করে অধিক লাভ হয় এবং একবার কলা গাছ লাগালে সেই খরচেই দুই বছর ফল পাওয়া যায়। এক বিঘা জমিতে আড়াইশ থেকে তিন শত কলার গাছ লাগাতে ব্যয় হয় ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা। যা থেকে বছর শেষে আয় হবে প্রায় লাখ টাকা। কলার চাষ করলে কলা বিক্রির পাশাপাশি কলা গাছের চারাও বিক্রি করা যায়।
কৃষক রবিউল ইসলাম বলেন, কলা বিক্রি করতে তাদের কোন সমস্যা হয় না। কারণ হিসাবে তিনি জানান, পাইকারী ব্যবসায়ীরা কলার বাগান থেকেই ন্যায্য মূল্যে কলা ক্রয় করে নিয়ে যায়। কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর থেকে তাদেরকে কলা চাষের উপর প্রশিণ দেওয়া হলে আরো অধিক লাভবান হবেন বলেও তিনি জানান।
এ ব্যপারে কুমারখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তামাক চাষের তিকর দিক তুলে ধরে বলেন, তামাক ও রুট্টা চাষ করলে মাটির গুনাগুন নষ্ট হয়ে যায়। ঐ জমিতে অন্যকোন ফসল ভাল হয়না। অল্প বিনিয়োগে অধিক মুনাফা অর্জন করায় এখানকার কৃষকরা কলা চাষের প্রতিই বেশী উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে।
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু
স্টাফ রিপোর্টার : কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে বজ্রপাতে সিরাজ উদ্দীন (৩০) নামে এক কৃষক মারা গেছেন। মঙ্গলবার বিকাল ৫ টার দিকে উপজেলার বোয়ালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাছে এ ঘটনা ঘটে।
এ সময় আরো দুই জন আহত হন। তাদের দৌলতপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রত্যদর্শীরা জানায়, বোয়ালিয়া গ্রামের মৃত সমির উদ্দীনের ছেলে সিরাজ উদ্দীন ও একই গ্রামের আলম মণ্ডলের দুই ছেলে কামাল (২০) ও হাবিল (২৩) মাঠ থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। গুড়ি গুড়ি বৃষ্টির সঙ্গে হঠাৎ বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলে সিরাজ মারা যান। এ সময় আহত অবস্থায় দুই ভাই কামাল ও  হাবিলকে উদ্ধার করে দৌলতপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

kushtiardiganta
By kushtiardiganta August 9, 2014 06:39