কুমারখালীতে কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে পশু মোটাতাজা করতে ব্যস্ত চাষী ও খামার মালিকেরা

Kushtiar Diganta
By Kushtiar Diganta September 20, 2014 20:03

কুমারখালীতে কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে পশু মোটাতাজা করতে ব্যস্ত  চাষী ও খামার মালিকেরা

মাহমুদ শরীফ :  আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে গরু মোটাতাজা করতে ব্যস্ত এখন কুষ্টিয়ার কুমারখালীcow kushtiaর পশু মোটাতাজা করনের কাজে নিয়োজিত সাধারণ চাষী ও খামার মালিকেরা। গো-খাদ্যের দাম বৃদ্ধি ও স্থানীয় সরকারী পশু চিকিৎকদের অসহযোগীতার পরও এবছর প্রায় ২০ হাজার গরু প্রস্তুত করা হচ্ছে কোরবানীর পশুহাটগুলোতে বিক্রির জন্য। যার বাজার মূল্য প্রায় শত কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। আর এ সমস্ত খামারীদের এখন দু:চিন্তার বড় কারণ হয়ে দাড়িয়েছে ভারতীয় গরু অনুপ্রবেশ। ভারতীয় গরু অনুপ্রবেশ রোধ করা হলে গত দুই বছরের তি কিছুটা পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট সাধারণ চাষী ও  খামার মালিকেরা। কুমারখালীর কোরবানির পশুর প্রধান বাজার হচ্ছে ঢাকা চট্টগ্রাম ও সিলেট। চাষী ও খামারিরা স্থানীয় ব্যাপারীদের কাছে পশু বিক্রি করতে না পারলে নিজেরাই ট্রাকে চেপে ঢাকা চট্টগ্রাম ও সিলেটের হাটগুলোতে পশু নিয়ে হাজির হয়। উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে এখন প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই পশুকে শেষ সময়ের মত আদর আপ্যায়ন করা হচ্ছে। অনেকেই ঢাকা চট্টগ্রাম ও সিলেট এলাকার হাটে যাওয়ার জন্য নিচ্ছে প্রস্তুতি। ইতিমধ্যে স্থানীয় ব্যাপারীরা বাড়িবাড়ি যেয়ে পশু কেনার জন্য দরদাম শুরু করেছে। তারা গরু অনুযায়ী ৪০ হাজার টাকা থেকে লাধিক টাকায় পশু কিনতে শুরু করেছেন।
কোরবানীর ঈদকে সামনে রেখে ইতিমধ্যেই নতুন পুরাতন পশুহাটগুলোতে প্রচুর কোরবানীর পশু উঠতে শুরু করেছে। বেচাকেনাও মোটামুটি ভালোই হচ্ছে বলে হাট মালিকেরা জানিয়েছেন। গত দুই বছর ভারতীয় গরুর অবাধ অনুপ্রবেশের ফলে খামার মালিকেরা  চরম তিগ্রস্ত হয়েছিলেন। গেল দুই বছরে অনেকেই তাদের পুজি হারিয়ে সর্বশান্ত হয়ে গেছে।
কুমারখালী উপজেলা কেশবপুর গ্রামের রেজাউল ইসলাম বলেন, গত বছর দুইটি নেপালী গরু মোটাতাজা করেছিলাম, আশা ছিল ৪০/৫০ হাজার টাকা লাভ হবে। কিন্ত ভারতীয় গরু অনুপ্রবেশ করার ফলে গরুও দাম নিচে নেমে যায়। ফলে আমার লাভের পরিবর্তে ৩০ হাজার টাকার তি হয়েছিল, সেজন্য পশু মোটাতাজা করা ছেড়ে দিয়েছি। যদি গত বছরের ন্যায় এ বছরও ভারতীয় গরু বাংলাদেশের বাজার দখল করে নেয়, তাহলে লাভের চেয়ে চাষী ও খামার মালিকদের লোকশানের পরিমানই গুনতে হবে বেশী।
এদিকে পশুর বিভিন্ন রোগবালাইয়ের জন্য চাষীরা সরকারী পশু দপ্তরে বার বার ঘুরেও নানা রকম টিকা ও ওষুধ এবং সঠিক পরামর্শ না পেয়ে গ্রাম্য পশু চিকিৎসকদের কাছে ছুটে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। কুমারখালী উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা এব্যাপারে জানিয়েছেন, আমাদের বিরুদ্ধে চাষীদের অসহযোগিতা করার অভিযোগ উঠেছে যেটা সত্য নয়। তিনি আরো বলেন, ভারতীয় গরু কুষ্টিয়া সীমান্ত দিয়ে যাতে অনুপ্রবেশ না করতে পারে সে জন্য কার্যকারী পদপে গ্রহণ করার জন্য আমরা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে রিপোর্ট করেছি।
নীরব বিপ্লব বলে খ্যাত দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের অবদান রাখা  কোরবানী উপলে গবাদি পশু মোটাতাজা করনের এই স্থানীয় প্রকল্পটি টিকিয়ে রাখতে ভারতীয় গরু অনুপ্রবেশ রোধে সরকার কার্যকরী পদপে নেবে সাধারন চাষী ও  খামার মালিকেরাএমনটাই মনে করছেন

Kushtiar Diganta
By Kushtiar Diganta September 20, 2014 20:03