বাংলাদেশের শিল্প বিকাশে স্টীল বিল্ডিং শিল্পের সম্ভাবনা

Kushtiar Diganta
By Kushtiar Diganta July 8, 2015 15:11

বাংলাদেশের শিল্প বিকাশে স্টীল বিল্ডিং শিল্পের সম্ভাবনা

rashed khanমোঃ রাশেদ খান, পরিচালক-মডার্ণ স্ট্রাকচার্স লিমিটেড, সদস্য-স্টীল বিল্ডিং ম্যানুফ্যাকচারার্স এ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ ……(এসবিএমএ)

………………………………………………………………………………………………….

১। বাংলাদেশের শিল্প বিকাশে স্টীল বিল্ডিং শিল্পের সম্ভাবনা কতটুক?
মোঃ রাশেদ খান : আপানার প্রশ্নটি বাংলাদেশের বর্তমান বিকাশমান অর্থনৈতির প্রেক্ষাপটে খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। ভৌতিক অবকাঠামো তৈরীতে প্রয়োজন টেকসই প্রযুক্তি আর পরিবেশ বান্ধব কর্মক্ষেত্র। কারখানাটি হতে হবে উন্মুক্ত আর নিরাপত্তার জালে পরিবেষ্টিত। কারখানা ভবন নির্মাণে যদি রড, ইট, বালু, সিমেন্ট ইত্যাদি ব্যবহার করা হয় তবে তা বর্তমান ভূমিকম্প প্রবন বিশ্ব প্রেক্ষাপটে খুবই ঝুঁকিপূর্ণ এবং আর্থিক ভাবেও সাশ্রয়ী নয়। এক্ষেত্রে প্রি-ফেব্্িরকেটেড স্টীল বিল্ডিং প্রযুক্তি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। কারণ ভূমিকম্পে স্টীল বিল্ডিং সহজেই টিকে থাকতে পারে। শুধু তাই নয় স্টীলে তৈরী ভবনে অব¯’ানরত জনবল ও অন্যান্য সম্পদও সুরক্ষিত থাকবে। প্রি-ফেব্রিকেড স্টীল বিল্ডিং প্রযুক্তিতে সময় সাশ্রয় হয় ফ্যাক্টরী শেডের ক্ষেত্রে তিন ভাগের দুই ভাগ আর বহুতল ভবনের ক্ষেত্রে ছয় ভাগের পাঁচ ভাগ। আর্থিক সাশ্রয় হয় ফ্যাক্টরী শেডের ক্ষেত্রে তিন ভাগের এক ভাগ। তবে বহুতল ভবনের ক্ষেত্রে খরচ বেশী হয় ছয় ভাগের এক ভাগ তবে সময় হিসাব করলে এখানেও আর্থিক ভাবে সাশ্রয়ীই হবে। যে কোন শিল্প বিকাশে সরকারী সহায়তা মুখ্য ভূমিকা পালন করে থাকে। কিš‘ আমাদের দেশে কোন সরকারই শিল্প বান্ধব নীতি অবলম্বন করে বাজেট প্রনয়ন করে না। এবারের ২০১৫-২০১৬ অর্থ বছরের বাজেটও তার ব্যতিক্রম নয়। আমাদের এই শিল্পে এগিয়ে আসছে একদল তরুন উদ্যোক্তা যারা দেশের সেরা বিশ্ববিদ্যায় হতে প্রযুক্তি বিদ্যায়  ডিগ্রিধারী অথবা উ”চ শিক্ষায় শিক্ষিত। তারা সরকারী সুবিধা বঞ্চিত হলেও মেধা, সততা আর সাহস নিয়ে এগিয়ে চলেছে দূর্বার গতিতে। এক্ষেত্রে সাংবাদিক ভায়েরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন। বাংলদেশে প্রচুর গণমাধ্যম রয়েছে। গণমাধ্যমে গঠনমূল লেখনীর মাধ্যমে স্টীল বিল্ডিং শিল্পের প্রচার ও প্রসার ঘটানো সম্ভব বলে আমি মনে করি।

 ২। আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, বেকারত্ব হ্রাস এবং পরিবেশ রায় এ শিল্প কতটুকু ভূমিকা পালন করছে বা সম্ভাবনা কতটুক? …………………………………………………………………………………………………..

মোঃ রাশেদ খান ঃ এই শিল্পটি শ্রম ঘন হওয়ায় আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও বেকারত্ব হ্রাসে খুবই তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে। বর্তমানে এই শিল্পে (প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ)দক্ষ-অদক্ষ মিলে প্রায় ৩.৫ লক্ষ মানুষ কর্মরত আছে। কিš‘ সরকারী সুবিধা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে পারলে এই শিল্পে ন্যূনতম ৩০ লক্ষ জনশক্তি কাজে লাগানো সম্ভব। পরি”ছন্ন কর্ম-পরিবেশ ও সবুজ বাংলাদেশ গড়তে হলে আমাদেরকে প্রি-ফেব্্িরকেটেড স্টীল বিল্ডিং প্রযুক্তির মাধ্যমে সব ধরনের ভবন নির্মাণের দিকে এগিয়ে আসতে হবে। বিশ্বে এবং বাংলাদেশে অধিকাংশ গ্রিণ প্রজেক্ট এখন এই প্রযুক্তির মাধ্যমে নির্মিত হ”েছ। খুব কম সময়ে নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা যায় বিধায় কর্মসং¯’ানও দ্রুত সৃষ্টি হয়। প্রি-ফেব্্িরকেটে স্টীল বিল্ডিং দ্বারা নির্মিত ভৌত অবকাঠামো সমূহ বেশীরভাগই কলাম মুক্ত হওয়ায় মূলধনী যন্ত্রপাতি বসাতে সুবিধা হয় এবং কর্ম পরিসরও সিভিল বিল্ডিং এর তুলনায় অধিক পাওয়া যায়। যা একজন শিল্প উদ্যোক্তার জন্য সহায়ক হিসেবে কাজ করে।

৩। অবকাঠামো উন্নয়ন, বিশেষ করে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রি-ফেব্রিকেটেড স্টীল বিল্ডিং শিল্পের সম্ভাবনা বাংলাদেশে কতটা?……………………………………………………………………………………………….
মোঃ রাশেদ খান : আমাদের দেশে ¯টীল বিল্ডিং শিল্পটি নতুন হওয়ায় সরকারী ও বেসরকারী অবকাঠামো উন্নয়নে তেমন গুরুত্ব পা”েছ না। অথছ এই শিল্পের মাধ্যমে আমাদের দেশেই শত বর্ষ পূবে বৃহৎ বৃহৎ অবকাঠামো নির্মিত হয়েছে। রাস্তা-ঘাটে আমাদের সরকারী কর্মমর্তাগণ যখন চলাফেরা করেন তখন তারা সম্ভবত ঘুমিয়েই পার করে দেন। প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও ঠিক তেমনি, তাদের পাঠ্য সূচীতেও প্রি-ফেব্রিকেটেড (বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং এ এই জুলাই ২০১৫ সেশনে যারা বের হবে তারা প্রথম প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে স্টীল ডিজাইন শিখে বের হবে) স্টীল স্ট্রাকচার পড়ানো হয় না। বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ রেল ব্রিজ (কুষ্টিয়ার হার্ডিঞ্জ ব্রিজ) কুষ্টিয়ার গড়াই নদীর উপরে কয়া রেল ব্রিজ, ভৈরবের ভৈরব নদীর উপর রেল ব্রিজ সবই প্রি-ফেব্রিকেটেড স্টীল বিল্ডিং প্রযুক্তিতে নির্মিত। এই রেল সেতু গুলো সবই ব্রিটিশ শাসনামলে এখন থেকে শত বর্ষ পূর্বে নির্মিত হয়েছে যা আজও ত্রুটিহীন ও কোন রূপ মেরামত বা সংস্কার ছাড়াই সচল রয়েছে। কিš‘ সেইদিন নির্মিত যমুনা সেতুতে (বর্তমানের বঙ্গবন্ধু সেতু) ফাটল দেখা দিয়েছিলো যা মেরামত করা হয়েছে। আমাদের দেশের আইন প্রণেতাগণও তা দেখেন কিনা আল্লাহই জানেন!
বর্তমান প্রেক্ষাপটে পদ্মা সেতুর মতো বড় সেতু টি অবশ্যই প্রি-ফেব্রিকেটেড স্টীলের মাধ্যমে নির্মাণ করা উচিৎ কারণ সিভিল কনস্ট্রাকশনের তুলনায় স্টীলের মাধ্যমে ভৌত অবকাঠামো অধিক ত্রুটিমূক্ত করা সম্ভব। শুধু তাই নয় স্টীলে নির্মিত হলে সেতুটির ওজন কমে আসবে অন্তত ৩০ ভাগ যা সেতুটিকে দীর্ঘজীবন দান করবে। ফাটল ধরার সম্ভবনা শুন্যের কোটায় নেমে আসবে। নির্মাণ ব্যয় কমবে এবং নির্মাণে সময় কম লাগবে। স্টীলের মাধ্যমে এই সেতুটি নির্মিত হলে সেখান থেকে যে অর্থ ও সময় সাশ্রয় হবে তা দিয়ে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া পয়েন্টে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণ করা যাবে।
বাংলাদেশ একটি নদীমাতৃক দেশ। সারা দেশে নদী-নালা, খাল বিল ও কেনেল ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে যা দেশের যোগাযোগ ব্যব¯’ায় ¯’বিরতা সৃষ্টি করে রেখেছে। এই সকল নদী-নালা, খাল বিল ও কেনেল গুলোর উপর দিয়ে যদি প্রি-ফেব্রিকেটেড স্টীলের মাধমে সেতু নির্মাণ করে দেয়া যায় তাহলে কম সময়ে ও সিভিল কনস্ট্রাকশনের তুলনায় মাত্র ৩০ শতাংশ খরচেই সেগুলো নির্মাণ করে জনগণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া সম্ভব। এজন্য দরকার সরকারের সিদ্ধান্ত আর প্রকৌশলীদের প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও জ্ঞান। দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য স্টীল বিল্ডিং ম্যানুফ্যাকচারার্স এ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ প্রকৌশলীগণের জন্য বিশেষ কর্মশালা ও প্রশিক্ষণ প্রদানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যব¯’া গ্রহণ করতে পারে।

৪। স্টীল বিল্ডিং আবাসন হিসেবে কতটা উপযুক্ত? আবাসন সংকট মোকাবেলায় আপনারা কতটুক আশাবাদী? চীনে যেমন অতি অল্প সময়ে মিনি স্কাই সিটির মতগগনচুম্বি ভবন নির্মান করে তাক লাগিয়ে দিচ্ছে, আমাদের দেশে তা কি সম্ভব হতে পারে না?
মোঃ রাশেদ খান :…………………………………………………………………………….

শতভাগ উপযুক্ত। ভূমিকম্পের কথা চিন্তা করলে আমাদের মতো নি¤œ আয়ের  ও ঘনবসতি পূর্ণ শহরের জন্য সিভিল কনস্ট্রাকশনের মাধ্যমে ভবন নির্মাণ করা উচিত-ই নয়। জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে পারলে আমরা খুবই আশাবাদী। আমরা মনে করি পুরান ঢাকা এবং অপরিকল্পিত নগরায়ন গুলোকে পরিতক্ত ঘোষণা করে এখনই সরকারের উচিত পর্যাপ্ত রাস্তাঘাট রেখে আধুনিক হাউজিং এস্টেটের আওতায় এনে প্রি-ফেব্রিকেটেড স্টীল বিল্ডিং এর মাধ্যমে ৬০ থেকে ৮০ তলা ভবন নির্মাণ করে গ্রাহকদের মধ্যে বন্টন করে দেয়া। নয়তো আল্লাহ্ না করুন কোন বড় ধরনের ভূমিকম্প আঘাত হানলে আমাদের ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এবং সেনাবাহিনীর যে দশা তাতে ১০০০ মানুষকেও উদ্ধার করা সম্ভব হবে না। চীনারাও যেমন মানুষ আমারা বাংলাদেশীরাও ঠিক তেমনি মানুষ। ওরা পারলে আমরাও পারব। পারতে আমাদের হবেই কারণ ৫৫ হাজার বর্গমাইলের এই ছোট্ট একটি দেশে আমরা ১৬ কোটি মানুষ বসবাস করছি। আমাদের যে সমস্ত ভাইয়েরা বিদেশের মাটিতে কাজ করে (শ্রমিক হিসেবে এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায়) সুনাম অর্জন করতে পারে তারা দেশের মাটিতে কাজ করেও দেশের ভাবমূর্তি ও অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে পারবে।
৫। ভূমিকম্প মোকাবেলা কিংবা রানাপ্লাজা, স্পেকট্রাম গার্মেন্টসের মত ভবন ধসের মত আরসিসি নির্মিত ভবন নির্মান ত্রুটিজনিত দুর্ঘটনার হাত থেকে রা পেতেপ্রি-ফেব্রিকেটেড স্টীল বিল্ডিং কতটা সহায়ক হতে পারে বলে আপনি মনে করেন? বিশেষ করে রানাপ্লাজা ও স্পেকট্রাম গার্মেন্টস ভবন দুর্ঘটনার কারনণে বহির্বিশ্বেআমাদের গার্মেন্টস শিল্প সম্পর্কে যে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে তা কাটিয়ে উঠতে আপনারা কী করতে পারেন?
মোঃ রাশেদ খান :…………………………………………………………………..

রানা প্লাজায় শুধু যে নির্মাণ ত্রুটি ছিলো তা কিš‘ নয়। সেখানে কাজের তেমন কোন পরিবেশ রাখা হয়নি। অল্প জায়গায় অপরিকল্পিত যন্ত্রপাতি ¯’াপন করা হয়েছিলো। বিশেষ করে তারা ভবনের বিভিন্ন ফোরে উ”চ মাত্রার ভাইব্রেশন সৃষ্টিকারী জেনারেটর ¯’াপন করেছিলো যা খুবই অন্যায়। জলাশয় বা ডোবা ভরাট করে খরচ কমানোর জন্য যথাযথ পাইলিং না করেই ভবনটি নির্মাণ করা ছিলো বড় ধরনের অপরাধ যা ক্ষামার অযোগ্য। আমরা মানুষের জীবন ও সম্পদ নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে পারিনা। অর্থ উপার্জনই যেন ব্যবসায় বাণিজ্যের একমাত্র লক্ষ্য উদ্দেশ্য না হয়ে যায় সেদিকে সকলের খেয়াল রাখা দরকার।
স্টীল বিল্ডিং এ রানা প্লাজা বা স্পেকট্রাম গার্মেন্টেসের মতো কোন ম্যাসিভ দূর্ঘটনার সম্ভবনা নেই। করণ এই ধরনের ভবনে মেম্বার গুলো আলাদা-আলাদা ভাবে নাট-বোল্টের মাধ্যমে যুক্ত করা থাকে এবং ছাদ নির্মিত হয় সাব-বীমের উপর মোটা পূরুত্বের সীট ভাঁজ করে বিছিয়ে দিয়ে তার উপরে অপেক্ষাকৃত পাতলা ঢালাই করা হয় যার ওজন অনেক কম থাকে। নাট-বোল্টের মাধ্যমে যুক্ত থাকার কারণে স্টীল বিল্ডিং এ যথেষ্ট দোলনাঙ্ক থাকে বলে সাইকোন বা ভূমিকম্পের মতো ম্যাসিভ দূর্ঘটনায় সহজেই দুলতে পারে।
গার্মেন্টস বা যে কোন ভবন যদি প্রি-ফেব্রিকেটেড স্টীল প্রযুক্তিতে নির্মিত হয় তবে কাজের পরিবেশ এবং নিরাপত্তা দুই-ই নিশ্চিত করা যাবে আর বিদেশেও আমাদের হারানো গৌরব আমরা ফিরে পাবো।

 ৬। বাংলাদেশে প্রি-ফেব্রিকেটেড স্টীল বিল্ডিং শিল্পের সূচনা তো হয় ২০০৩ সালে, এরপর তো এক যুগ পার হয়ে গেল। সে তুলনায় এ শিল্প প্রত্যাশা অনুযায়ীবিকশিত হয়েছে কী? বিশেষ করে শিপবিল্ডিং শিল্পের তুলনায়? এদুটো শিল্পই তো একই সময়ে যাত্রা শুরু করেছে?
মোঃ রাশেদ খান :…………………………………………………………………………………..

না। আসলে এই শিল্পে যাত্রা শুরু হয়েছিলো ১৯৯৯ সালে। তখন মূলত বিদেশ থেকে স্টীল স্ট্রাকচার্স বিল্ডিং আমদানী করে ফ্যাক্টরী সেড গুলো নির্মাণ করা হতো। তখন আমরা যারা এই ট্রেডে কাজ শুরু করি তখন শিল্প উদ্যোক্তাগণের দ্বারে দ্বারে যেয়ে বুঝাতাম যে, আপনার ফ্যাক্টরী সেড প্রি-ফেব্রিকেটেড স্টীল স্ট্রাকচারের মাধ্যমে তৈরী করতে। তখন তাদের নিকট আমাদের এই বিল্ডিং প্রযুক্তির ধারনা নতুন মনে হতো। ফলে তখন একটি সেড বিল্ডিং বিক্রয় করা খুবই দূরুহ ব্যাপার ছিলো।  কিš‘ এখন আর কাওকেই এই প্রযুক্তির কথা বুঝিয়ে বলা প্রয়োজন পড়ে না। ফলে আমাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী আমরা সাধারণ শিল্প উদ্যোক্তাগণের নিকট প্রযুক্তিটির সহজলভ্যতা ও গ্রহণযোগ্যতা সুন্দর দক্ষতার সাথে পৌঁছে দিতে পেরেছি। বিকশিত করার ক্ষেত্রে সরকারী ও বেসরকারী পর্যয়ের সহযোগিতা প্রয়োজন। সেখানেও আমরা কিছুটা হলেও সফল হয়েছি। প্রি-ফেব্রিকেটেড স্টীল স্ট্রাকচার বিল্ডিং এখন একটি শিল্প খাত হিসেবে সরকারী স্বাকৃতি লাভ করেছে, এটা আমাদের একটি বিরাট অর্জন। শিপ বিল্ডিং এর ক্ষেত্রে সরকার যে সকল সুযোগ-সুবিধা প্রদান করেছে তা আমাদেরকে দেয়া হ”েছনা। যেমন বন্ডেড ওয়্যার হাউজ সুবিধা। শিপ বিল্ডিং শিল্প বন্ডেড ওয়্যার হাউজ সুবিধার মাধ্যমে যেখানে শুণ্য শুল্কে কাচা মাল আমদানী করতে পারছে সেখানে সরকার আমাদের সাথে বিমাতা সূলভ আচরণ করছে এবং কোন কোন ক্ষেত্রে সর্ম্পূনায়িত বিল্ডিং আমাদানীর উপর ১% বা শুণ্য ভাগ করারোপ করে আমাদের শিল্প বিকাশের ক্ষেত্রে অন্তরায় সৃষ্টি করে রেখেছে। আবার ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়াতে আমাদের শিল্প নিয়ে তেমন কোন আলোচনা নেই কিš‘ শিপ বিল্ডিং নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও প্রচারনা বিদ্যমান।
৭। এই শিল্পে বিনিয়োগ কতটা লাভজনক  ও নিরাপদ?
মোঃ রাশেদ খান : ………………………………………………………………………..সকল ব্যবসাতেই লাভ-লোকসান আছে। তবে এই শিল্পের উদ্যোক্তাগণকে অবশ্যই কারিগরী জ্ঞানের অধিকারী হতে হবে। অন্যথায় লোকসান করার সম্ভবনা বেশী। বিনিয়োগ নিরাপত্তাহীন তখনই হয় যখন না বুঝে বিনিয়োগ করা হয় অথবা অতি উৎসাহী হয়ে যে কোন ব্যবসায়ে পুঁিজ বিনিয়োগ করা হয়। আপনি যে ব্যবসার ১০০ ভাগ না বুঝবেন সে ব্যবসা যতই লাভজনক হোকনা কেনো সেখানে বিনিয়োগ করবেন না। আপনি নিজে বোঝেন না কিš‘ আপনার পার্টনার বোঝে সে ব্যবসাতেও পুঁজি বিনিয়োগ করবেন না করলে আপনার পুঁজি হারিয়ে যাওয়ার সম্ভবনা ৮০ ভাগ। আপনাকে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট ব্যবসা সম্পর্কে ১০০ ভাগ জানতে হবে। তবে আমি মনে করি আমাদের এই শিল্পের ভবিষ্যত খুবই ভালো কারণ স্টীল স্ট্রাকচারে নির্মিত ভবন সব বিবেচনায় নিরাপদ ও দ্রুত বাস্তবায়ন যোগ্য ও প্রয়োজনে দ্রুত সরিয়ে ফেলা বা খুলে ফেলানো সম্ভব। ভবিষ্যতে এদেশের মানুষ তাদের বসবাসের জন্যও স্টীল স্ট্রাকচারের মাধ্যমে ঘরবাড়ী নির্মাণ করবে। সেদিন আর বেশী দূরে নয়।
৮। বর্তমানে এ শিল্পের বিকাশের েেত্র কোন অন্তরায় রয়েছে কি? এব্যাপারে সরকারের প থেকে আপনারা কী ধরণের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন?
মোঃ রাশেদ খান :………………………………………………….

আমাদের এই শিল্পের প্রধান অন্তরায় হলো সরকারের ভূল শিল্প নীতি। শিল্পের জন্য কাচামালের উপর যেমন শুল্ক কমানো দরকার তেমনি আবার ঐ শিল্পকে রক্ষা করার জন্য সম্পূর্নায়িত ঐ পণ্যের আমদানীর উপর সর্বো”চ করারোপ করাও সরকারের দায়িত্ব। সরকারের উচিত আমাদের এই শিল্পে বন্ডেড ওয়্যার হাউজ সুবিধা দেয়া, দেশের স্বার্থে, শিল্পায়নের স্বার্থে। এবং সকল ক্ষেত্রে সম্পূর্নায়িত স্টীল বিল্ডিংয়ের উপর সর্বো”চ করারোপ করে এই শিল্পকে নিরাপত্তা দান করা। সরকার নিজে নিজে কোন উন্নয়ন মূলক কাজ করতে পারে না। সরকারকে অবশ্যই বেসরকারী উদ্যোক্তাদের কাজের পরিবেশ করে দিতে হবে। তাহলেই কেবল দেশের প্রকৃত উন্নয়ন করা সম্ভব হবে।
৯। এ পযর্ন্ত আপনাদের কোম্পানী কতটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পেরেছে বা আপনারা কতটুক সফলতা অর্জন করতে পেরেছেন বলে মনে করেন?
মোঃ রাশেদ খান :………………………………………………………………………………..

মডার্ণ স্ট্রাকচার্স লিমিটেড এ পর্যন্ত ছোট-বড় ছয় শতাধিক ফ্যাক্টরী বিল্ডিং সফলতার সাথে তার গ্রাহকগণের নিকট হস্তান্তর করেছে। কোম্পানীর যোগ্যতা অনুযায়ী এই সংখ্যা খুব বেশী নয়। মডার্ণ সংখ্যার তুলনায় গুণগত মানের দিকে বেশী গুরুত্ব দেয়। অধিকš‘ মডার্ণ স্ট্রাকচার্স লিমিটেড নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রজেক্ট হস্তান্তর করে সুনামের সাথে ব্যবসায় কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। কোন কোন ক্ষেত্রে মডার্ণ দেশের বৃহত্তম প্রজেক্টও অত্যন্ত দক্ষতা ও সফলতার সাথে সম্পন্ন করে বাজারে সুনাম অর্জন করেছে।

১০। পরবর্তীতে আপনাদের বিশেষ পরিকল্পনা কী? বিশেষ করে আবাসন, পর্যটন, কর্মাশিয়াল ভবন নির্মাণ বা অবকাঠামো উন্নয়নে আপনার বিশেষ কোন উদ্যোগনিচ্ছেন?
মোঃ রাশেদ খান :………………………………………………………………………….

আমাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হ”েছ দেশের টেকসই উন্নয়নে সরাসরি ভূমিকা রাখা। শিল্পের অবকাঠামো যদি টেকসই এবং কর্মপরিবেশ বান্ধব না হয় তাহলে প্রকৃত প্রস্তাবে দীর্ঘ মেয়াদী উন্নয়ন সম্ভব হবে না। শিল্প উদ্যোক্তা এবং সরকারকে আমরা বুঝানোর চেষ্টা করছি, সকল ভৌতিক অবকাঠামো প্রি-ফেব্রিকেটেড স্টীল বিল্ডিং প্রযুক্তির মাধ্যমে করার জন্য। সেই অবকাঠামো হতে পারে ফ্যাক্টরী বিল্ডিং, আবাসন প্রকল্প, পর্যটন কেন্দ্র, পাঁচ বা সাত তারা আধুনিক হোটেল, বাণিজ্যিক ভবন, সড়ক সেতু রেল সেতু ইত্যাদি।
আমাদের উদ্যোগ নিলেই সব হয়ে যাবে না। সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিদের এগিয়ে আসতে হবে। বলতে পারেন কর্তা ব্যক্তি কে? উত্তর হ”েছ, সকল দায়িত্বশীল ব্যক্তি। যেমন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, সকল মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রীগণ, সচিবগণ, সকল দপ্তর অধিদপ্তরের প্রধানগণ, প্রকৌশলীগণ অধিকš‘ সর্বো”চ আদালতের বিচারকগণও ভৌত অবকাঠামো উন্নয়নে প্রি-ফেব্রিকেটেড স্টীল বিল্ডিং প্রযুক্তি ব্যবহারের ব্যাপারে তাদের সিদ্ধান্ত প্রদান করতে পারেন। রানা প্লাজা বা অন্যান্য ¯’াপনা ধ্বসের পর প্রত্যেকেরই উচিত প্রি-ফেব্রিকেটেড স্টীল বিল্ডিং প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে তাদের ¯’াপনা নির্মাণ করা। আমরা আমাদের এই প্রযুক্তির পক্ষে প্রচার প্রচারনা চালানোর জন্য বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছি। যেমন, প্রকৌশলীদের নিয়ে বিভিন্ন সভা, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম। প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকগণকে আমাদের ফ্যাক্টরী পরিদর্শন করানো, তাদের থেকে পরামর্শ গ্রহণ ও পাঠ্যসূচীতে প্রি-ফেব্রিকেটেড স্টীল বিল্ডিং প্রযুক্তি শিক্ষাদানের জন্য উদ্বুদ্ধ করণ। প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় হতে পাস করা ছাত্র-ছাত্রীদেরকে আমাদের প্রতিষ্ঠানে ইন্টার্নী করানো হ”েছ। ভৌত অবকাঠামো তৈরীতে যারা কন্সাল্টেন্ট হিসেবে কাজ করেন তাদেরকে নিয়ে প্রি-ফেব্রিকেটেড স্টীল বিল্ডিং প্রযুক্তি ব্যবহারের যৌক্তিকতা তুলে ধরে সেমিনার-সিম্পোজিয়াম করা। সীমিত আকারে ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়াতে বিজ্ঞাপন দেয়া হ”েছ এবং তা আরো জোরদার করা। কলামিস্ট ও ফিচার লেখকগণকে আকৃষ্ট করা হ”েছ যাতে তারা আমাদের প্রি-ফেব্রিকেটেড স্টীল বিল্ডিং প্রযুক্তি ব্যবহারের উপযোগিতা ও উপকারীতা সাধারণের মধ্যে তুলে ধরতে পারেন। একাজে আমরা বেশ শুভ লক্ষণ দেখতে পারছি।

১১। গাজীপুরে স্টীল ফ্রেমে তৈরি ডিগনিটি গার্মেন্টস ভবনে আগুন নিয়ন্ত্রণে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়। অগ্নিনির্বাপক কর্মীরা জানিয়েছেন, স্টীল বিল্ডিংয়ে আগুন নেভানো সহজ নয়। এ ব্যাপারে আপনার মন্তব্য কী?
মোঃ রাশেদ খান :…………………………………………………………………………

আপনার এ প্রশ্নটি যথার্থ। তবে অগ্নিনির্বাপক কর্মিরা আপনাকে সঠিক তথ্যটি দিতে পারেনি। কারণ ডিগনিটি গার্মেন্টস বিল্ডিংটি আ্যাকর্ড-এ্যালায়েন্স ও কমপ্লায়েন্স মেনে নির্মিত হয়নি বলে আমরা জানতে পেরেছি। আগুন ধরে ১৯/২০ ঘন্টা জ্বললে কোন বিল্ডিং ই টিকে থাকবে না, সেটা স্টীলে নির্মিত হোক বা আর সি সি তে নির্মিত হোক। যেকোন ভবনে বা ¯’াপনায় আগুন জাতীয় দূর্ঘটনার শিকার হতে পারে। আমাদেরকে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপক ব্যব¯’পনা মওজুদ রাখতে হবে এবং ভবন বা ¯’াপনায় যাতে সহজে অগ্নিনির্বাপক কর্মীগণ প্রবেশ করে পানি, বালু ও গ্যাস ব্যবহার করতে পারেন তা নিশ্চিত করতে হবে।

Kushtiar Diganta
By Kushtiar Diganta July 8, 2015 15:11