আ.লীগে অন্তদ্বন্দ্ব চরমে, এক বছরে নিহত ৮৩

shohag
By shohag February 6, 2017 21:43

আ.লীগে অন্তদ্বন্দ্ব চরমে, এক বছরে নিহত ৮৩

বিশেষ প্রতিবেদক: ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগে অভ্যন্তরীণ কোন্দল, সংঘাত ও হানাহানি বেড়েই চলেছে। নিজ দলের মধ্যে সংঘর্ষে গত বছর নিহত হয়েছে দলটির ৮৩ জন নেতা-কর্মী। আর চলতি বছরে গত এক মাসে নিহত হয়েছে চারজন।

এদিকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য দলকে কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত প্রস্তুত করার ঘোষণা দিয়েছে আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র বলছে, জেলা পরিষদ, উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সময় বিভিন্ন ¯’ানে দলের ভেতর বিরোধ তৈরি হয়েছে, যার জের এখনো রয়ে গেছে।এছাড়াও এলাকায় প্রভাব বিস্তার ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট কারণেও বিরোধ বা সংঘর্ষ হ”েছ। কিš‘ এসব কমাতে যতটা কঠোর হওয়ার কথা, দল ততটা হতে পারছে না। কিছু ব্যতিক্রম বাদ দিলে হানাহানির ঘটনায় চূড়ান্ত সাংগঠনিক ব্যব¯’া নেওয়ার নজির কম। কোনো ঘটনায় ¯’ানীয়ভাবে তাৎক্ষণিক সাময়িক বহিষ্কার করা হলেও পরে তা চূড়ান্ত করার দীর্ঘ প্রক্রিয়া বাস্তবায়িত হয়নি বললেই চলে। ২১০৬ অক্টোবরে জাতীয় সম্মেলনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটি গঠিত হয়। সম্মেলনের আগে সারা দেশের তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত নেতাদের সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করা হয়। ফলে দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গ, সংঘাত, দখলবাজিসহ নানা অপরাধে অভিযুক্ত অনেক নেতা পার পেয়ে যান বলে দলীয় সূত্র জানায়। সহযোগী সংগঠন যুবলীগ ও ছাত্রলীগেও লোক দেখানো বহিষ্কারের ঘটনা দেখা যায়। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই কয়েক দিন পর বহিষ্কৃত ব্যক্তিরা আগের অব¯’ায় ফিরে আসেন। ২০১৫ সালের ডিসেম্বরের পৌরসভা নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বির“দ্ধে গিয়ে অন্য প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার দায়ে খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহেদুল আলমকে সাময়িক বহিষ্কার করে দল। ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক করা হয় নির্মলেন্দু চৌধুরীকে। সাধারণ ক্ষমার আওতায় জাহেদুল দলে ফিরে আসেন। এরপর নির্মলেন্দু ও জাহেদুল দুজনই সাধারণ সম্পাদক হিসেবে কার্যক্রম চালাতে থাকেন। এরপর গত ১৭ জানুয়ারি নির্মলেন্দুকে পিটিয়ে হাসপাতালে পাঠায় জাহেদুলের লোকজন। এ ঘটনায় মামলা হয় জাহিদুলসহ অন্যদের বির“দ্ধে। এরপর জাহেদুল আলমকে কারণ দর্শানোর চিঠি দেয় কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ। আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, কাদের সিদ্দিকী ও মোস্তফা মহসীন মন্টুর মতো বড় অনেক নেতাকে দল থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। সেটা হয়েছে রাজনৈতিক কারণে। আর দলীয় নেতাকে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত এবং কারাবন্দী টাঙ্গাইলের সাংসদ আমানুর 01রহমানকে জেলা আওয়ামী লীগ সাময়িক বহিষ্কার করেছে। তবে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ তার বির“দ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো বা তদন্তের পথে হাঁটছে না বরং মামলার চূড়ান্ত রায় হওয়ার আগে কোনো সাংগঠনিক ব্যব¯’া নেবে না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র অনুসারে, কোনো সদস্য আওয়ামী লীগের আদর্শ, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, গঠনতন্ত্র ও নিয়মাবলি বা প্রতিষ্ঠানের স্বার্থের পরিপš’ী কার্যকলাপে অংশগ্রহণ করলে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে দলের কার্যনির্বাহী সংসদ যেকোনো শাস্তিমূলক ব্যব¯’া গ্রহণ করতে পারবে। এতে আরো বলা হয়েছে, কোনো সদস্যের বির“দ্ধে চূড়ান্ত শাস্তিমূলক ব্যব¯’া নেওয়ার ক্ষমতা কেবল আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহী সংসদের।
আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য বলছে, ২০১৬ সাল ছিল আওয়ামী লীগের জন্য বেশ ভ্রাতৃঘাতী। এর মূল কারণ ছিল ¯’ানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তরের নির্বাচন। গত বছর জুনে নির্বাচন শেষ হওয়ার পর দেখা যায়, ছয় ধাপের ইউপি নির্বাচনে সারা দেশে সহিংসতায় নিহত হয় ১১৬ জন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের সমর্থক ৭১ জন, যাঁরা নিজেদের মধ্যে সংঘাতে প্রাণ হারান।

shohag
By shohag February 6, 2017 21:43