ফারাজি মুন্সির দরবার অধিবেশন-২০১৭ (৩)

shohag
By shohag February 28, 2017 15:51

ফারাজি মুন্সির দরবার অধিবেশন-২০১৭ (৩)

বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম
ঘোষকের ঘোষণা ঃ হযরত শাহ সুফি ফারাজি মুন্সি গুলেবাতি দরবারে আসিতেছে………..ন। আপনারা সব্বাই নিরব হইয়া যান। মুন্সি গুলেবাতি…………….।

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
কেমন আছ দরবারী সাথী বন্ধুরা ? দরবার অনেকটাই ফাঁকা। জমছে না কেন ? এসো দরবার শুরু করি।
কমেন্ট : মুন্সী ছাহেব আচ্ছালামু আলাইকুম। আপনার প্রশ্ন-উত্তরে আমরা চরম উপকৃত হচ্ছি। আপনার দরবারে না বসলেও দূরে থেকে দেখার সুযোগ পাচ্ছি এ জন্য মোবারকবাদ। হাবিব, ছাত্র, জাবি।=হয়ত বা কিছুই নাহি পাব তবু দূর থেকে (দরবারকে) ভালবেসে যাব। দূরের ভালবাসা একদিন কাছে নিয়ে আসবে ইনশাআল্লাহ।

কমেন্ট : তানা বুঝলাম মুন্সীর দাবড়। কিন্তু শুরুতেই তার দরবারের হাঁক ডাকও যেন কেমন সূফীবাদের। অনেক আগে থেকে শুরু হয়েছিল বিয়ে দিয়ে আর এবার ঘোষকের ঘোষণা দিয়ে। হাকিম চা16807578_1460853463948589_8148002071963892603_nকলাদার, সিরাজগঞ্জ।= বিয়ে নিয়ে দরবার শুরু করেছিল মুন্সি, ঠিকই। অনেকদিন তো হয়ে গেল দরবারের কেউ কি বিয়ে করেছে ? একটা দাওয়াতো মুন্সি পায়নি। শুধু দূর থেকে মুন্সিকে ভালবাসলেই হলো ?। মুন্সি সুফিবাদে না যেয়ে করবে কি ? বিয়ে নেই সংসার নেই। সংসার নেই যখন তখন তো দরবার সুফিবাদের দিকে যাবেই।

কমেন্ট : মুন্সীর উত্তরে আনন্দ পায়। কবির, গাড়াগঞ্জ।= কবীর কমেন্ট করেছ “মুন্সির উত্তরে আনান্দ পায়”। কে পায় ? ‘পায়’ ক্রিয়া ব্যবহার করেছ। তাতে বোঝা যায় তুমি না। সে পায় । বাংলা ব্যাকারণের দিকে তাকাও, তুমি যখন প্রথম পুরুষের জন্যে কোন বাক্য রচনা করবে তখন লিখতে হবে “ মুন্সির উত্তরে আনান্দ পাই। যাক ব্যকরনের কথা ছাড়ো। এবার শোন, মুন্সির উত্তরে শুধুই কি আনান্দ পাও ? ভেবে দেখতো, আর কিছু পাওনা?

প্রশ্ন ঃ আচ্ছালামু আলাইকুম। মুন্সী সাহেব ফেবয়ারী মাস ভালোবাসার মাস। একটি বছর অপেক্ষায় থাকি এ মাসের অপেক্ষায়। ১৪ ই ফেব্রুয়ারী আমাদের জীবনে স্মরণীয় দিন। জনাব মুন্সী আমি গত ৬ মাস আগে আমার বান্ধবীর সাথে একটি গ্রন্থ হাতে নিয়ে শপথ করেছি। ১৪ ফেব্রুয়ারী আমার বান্ধবী সেই ওয়াদা পালন করবেন কিন্তু এখন আমার বান্ধবী সে ওয়াদা পালন করতে নারাজ। মুন্সী সাব বলেনতো যারা ওয়াদা পাল করবেন না। তারা মুনাফীক। তাদের অবস্থান কোথায় হবে? এ জন্য ১৪ ফেব্রুয়ারীর ব্যাপারে আমাদের তৎপর হতে হবে কিনা? এ দিবসটিতে অবিস্মরণীয় করে রাখতে হবে কিনা? জিন্স খান, ছাত্র জাবি।
উত্তর ঃ ফেব্রুয়ারী যদি ভালবাসার মাস হয় তবে আর ১১টি মাসে মারামারি করে বেড়াতে চাও ? সেখানে ভালবাসা থাকবে না ?মানুষের ভালবাসা সকল মাসে, সারা জীবন ভর। তুমি সংকীর্ণমনা। একটি বছর নয় সারাটি জীবন ধরে অপেক্ষায় থাক। তোমার সাথে আমাদের পড়তা হবে না। তোমার বান্ধবীকে নিয়ে কি শপথ করেছ তা জায়েজ না নাজায়েজ, আমাদের জানা নেই। একটি ছেলে ও মেয়ে গোপনে যে শপথ করে তা জায়েজ হবার কথা নয়। নাজায়েজ ওয়াদা করা আর তা পালন করা কবীরা গোনাহ। আমার মনে হয় শুধু ১৪ফেব্রুয়ারী নয়, ৩৬৫ দিনই মানুষকে ভালবাসতে শিখতে হবে। শুধু একটি দিনকে অবিস্বরণীয় করে রাখলে বাকী ৩৬৪দিন বিস্বরণীয় হয়ে জীবনকে বিষিয়ে তুলবে। এটা ভাল খবর না। আমাদের হৃদয় সংকীর্ণ নয়। আমরা তোমার সাথে নেই।

প্রশ্নঃ মুন্সী ছাহেব আচ্ছালামু আলাইকুম। মুন্সী সাহেব আমি সৌদি আরবে থাকি, সেখানে নামাজের সময় অনেকেই দৌড়ে এসে জামাতে হাজির হয়। অজু থাকুক বা না থাকুক সেদিকে লক্ষ্য রাখা হয়না। এমতাবস্থায় নামাজ পড়লে নামাজ হবে কিনা? আমিরুল ইসলাম, প্রবাসী, সৌদি আরব।
উত্তর ঃঅজু নামাযের পূর্ব শর্ত। শরীর পবিত্র করার জন্যে অজু ফরজ। অজু না হলে নামায হবে না।

প্রশ্ন ঃ আচ্ছালামু আলাইকুম। মুন্সী সাহেব ভাষার জন্য কেউ মারা গেলে তাকে শহীদ বলা হবে কিনা? বাংলাদেশে ১৯৫২ সালে ভাষার জন্য যারা মারা গেছে তাদেরকে শহীদ হিসাবে আখ্যায়িত করা হয়। তাদেরকে শহীদ বলা যাবে কিনা? আমাদের মসজিদে হুজুর একদিন ওয়াজে বলেন যারা শুধু মাত্র ইসলামের জন্য মারা গেছে তাদেরকেই শহীদ বলা যাবে তাছাড়া কাউকেই শহীদ বলা যাবে না? আসলে ঠিক কিনা? নবিছদ্দিন, ভাঙ্গা, ফরিদপুর।
উত্তরঃ শহীদ বলা আর না বলার উপর শহীদের মর্যাদা নির্ভর করে না। আল্লাহ যাকে শহীদি মর্যাদা দিবেন তাকে আমরা শহীদ না বললেও দিবেন। যাঁরা ভাষা আন্দোলনের জন্যে জীবন দিয়েছেন তাঁরা একটি মুহৎ কাজের জন্যেই জীবন দিয়েছেন। তাদের শহীদি মর্যাদা দানের জন্যে আল্লাহর কাছে দোয়া করা বেশী উত্তম। বিতর্কে কোন সমাধান নেই।

প্রশ্ন ঃ আচ্ছালামু আলাইকুম। মুন্সী সাব তাবীজ কবজ করা যাবে কিনা? অনেকেই কোরআানের আয়াতের তাবীজ কবজ দিয়ে থাকেন। এটা করা ঠিক হবে কিনা? আজগার আলী, নিশিপুর, সুনামগঞ্জ।
উত্তরঃ হাদিসে পরিস্কার উল্লেখ আছে তাবিজ কবজ করা এক প্রকার শিরক। শিরকের গোনাহ আল্লাহ মাফ করবেন না। তাবিজ কবজ করা ঠিক কি বেঠিক আর কি কিছু বলতে হবে ?

প্রশ্ন ঃ আচ্ছালামু আলাইকুম। মুন্সী সাহেব আমাদের দেশে বড় এক পীর ওয়াজে বললেন পীর ধরতেই হবে। পীর না ধরলে পার পাওয়া যাবেনা। যার পীর নেই তার পীর শয়তান। পীর ধরলে কবরের সওয়াল জওয়াবের সময় পীর সাহেব থাকবেন। মুনকার-নকীরের প্রশ্নের উত্তর সহজ করে দেবেন। আসলে ঠিক কিনা। আব্দুল বাতেন, পটুয়াখালী।
উত্তর ঃ মৃত্যুর পর ভাল আমল ছাড়া কেউ মৃতু ব্যক্তির জন্যে কোন সাহায্য করতে পারবে না। নামাজ ,রোজা, জাকাত, হজ্জ, কোরআন এবং তার ভাল আমল গুলি মৃত ব্যক্তির কেউ মাথার কাছে,কেউ পার্শ্বদেশে, কেউ পায়ের কাছে এসে চারিদিক দাড়িয়ে যাবে। তখন পীর সাহেব কোথায় দাড়াবেন ? তোমার কথায় বোঝা যাচ্ছে ঐ পীর হুজুর নিশ্চিত জেনেই ফেলেছেন তার জন্যে সওয়াল জওয়াব লাগবে না অর্থাৎ তিনি পাশ। তিনি এখন প্রশ্নের উত্তর লিখতে শুরু করেছেন।। অথচ আল্লাহর রাসুল (সাঃ) তাঁর পরিবার বর্গের সদস্যদের উদ্দেশ্য করে বলেছেন যে, “ হে ফাতেমা তোমার আমল যদি না থাকে তবে সেদিন আমার কন্যা হিসাবে তোমাকে কোন ছাড় দেয়া হবে না। উক্ত পীর সাহেব কি এসব হাদিসগুলি পড়েন নি ?

প্রশ্ন ঃ আচ্ছালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। মুন্সী সাহেব অনেকেই আছেন ফতোয়া দেন মাজহাব মানার প্রয়োজন নেই। শুধুমাত্র কোরআন হাদিস মানলেই হবে। তাদের এ মুর্খতাকে আপনি কোন দৃষ্টিতে দেখেন। মাজহাব মানার প্রয়োজন আছে কি নাই? হাফেজ সাইফুল্লাহ, দড়াটানা মাদ্রাসা, যশোর।
উত্তর ঃ মাজহাবের সকল ইমামগনকে আমি আন্তরিকভাবে শ্রোদ্ধা করি। তাঁরা কোরআন হাদিসের আলোকে ইসলাম পালনের দিক নির্দেশনা দিয়েছেন যা আমাদের মত উম্মি লোকদের ইসলাম পালন করতে সহজ হয়েছে। তাঁদের সকলের দিক নির্দেশনা কোরআন হাদিসের বাইরে নয়। কেউ যদি নিজে কোরআন হাদিসের মধ্যে থেকে ইসলাম পালন করার মত জ্ঞান অর্জন করে থাকে এবং পালন করে তবে মাজহাব না মানলে দোষ কি ? আল্লাহর রাসুল (সাঃ) কি বলেছেন, আমি তোমাদের মাঝে মাজহাব রেখে যাচ্ছি ? তোমরা মাজহাব মানবা। তিনি বলেছেন, আমি তোমাদের মাঝে দু‘টি জিনিষ রেখে যাচ্ছি! তোমরা তা আঁকড়ে ধরলে বিভ্রান্ত হবে না। একটি হলো আল্লাহর কুরআন আরেকটি হলো তাঁর রাসুলের সুন্নাহ।কেউ এই দু’টি জিনিষের বাইরে না গেলেই হলো। এ নিয়ে ফেৎনা সৃষ্টি করা ভাল না। “ ফেৎনা হত্যা থেকেও বড় গোনাহ”-আল কোরআন।

প্রশ্ন ঃ আচ্ছালামু আলাইকুম। জনাব মুন্সী সাহেব আমি মুদি দোকানদার। বেচাকেনার সময় আমার গায়ে কেরোসিন তেল গায়ে লাগে। কেরোসিন তেল লাগা কাপড়-চোপড় পরে নামাজ পড়তে হয়। এতে অনেকেই রাগ করেন। মসজিদে যেতেও নিষেধ করেন। কেরোসিন তেল লাগা কাপড় চোপড় পরে নামাজ পড়লে নামাজ হবে কিনা? দিদার আলী, দ্বেবীদ্বার, কুমিল্লা।
উত্তর ঃ রাসুল (সাঃ) দুর্গন্দযুক্ত কোন খাদ্য খেয়ে (কাঁচা পেঁয়াজ, রশুন ইত্যাদি) মসজিদে যেতে নিষেধ করেছেন। কেরোসিন তেলে দুর্গন্দ আছে। কাপড়ে যদি এমন পরিমান লেগে থাকে যা দুর্গন্দ ছড়ায় তবে ঐ কাপড় পড়ে মসজিদে যাওয়া উচিৎ না। যদি অল্প সল্প হয় এবং দুর্গন্দ না ছড়ায় তবে দোষ হবে না।

প্রশ্ন ঃ আচ্ছালামু আলাইকুম। মুন্সী সাব ফেব্রয়ারী মাস। এ মাসের ২১ ফেব্রুয়ারীর দিন সকালে আমরা স্কুল কলেজর ছাত্ররা স্যারদের নির্দেশে খালি পায়ে হেটে শহীদদের স্মরণে শহীদ মিনারে ফুল দেয়। এতে শহীদদের শ্রদ্ধা দেখানো হয়। এরুপ করলে শহীদদের রুহের প্রতি যথাযথ মর্যাদা আদায় হবে কিনা? রেজাউল করিম, ছাত্র জয়পুরহাট সরকারী কলেজ।
উত্তর ঃ না, ইসলামের দৃষ্টিতে শহীদদের রুহের কোন উপকার হবে না। বরং তাদের জন্যে আল্লাহর দরবারে দোয়া করলে উপকার হবে।

প্রশ্ন ঃ আচ্ছালামু আলাইকুম। ফারাজী মুন্সী সাহেব আমি ঘুমে থাকা অবস্থায় মনে হলো স্বপ্নদোষ হলো। কিন্তু জেগে দেখি কাপড়ে কিছু নেই। এমতাবস্থায় গোসল করা ফরজ হবে কিনা? ওই রকম অবস্থায় নামাজ পড়লে পাপ হবে কিনা? জহির উদ্দিন, সরকারী কলেজ, কুষ্টিয়া।
উত্তর ঃ না, গোসল ফরজ হবে না। স্বপ্নদোষের মধ্যে মনি বের না হলে গোসল ফরজ হয় না। হ্যাঁ,নামাজ হবে।

প্রশ্ন ঃ আচ্ছালামু আলাইকুম। ফারাজী মুন্সী সাহেব শীতের সময় আমার দাদা জুতা না খুলে জুতার উপর মসেহ করে নামাজ পড়েন। এ রকম করলে অজু হবে কিনা? নামাজ পড়লে শুদ্ধ হবে কিনা? হারুন-উর রশীদ, চর ফ্যাশন, ভোলা।
উত্তর ঃ এই দাড়াও, দাড়াও। মোজার উপর মাসেহ করার হাদিস পেয়েছি। জুতার উপর মোসেহ করা সম্পর্কে হাদিস পাইনি। একটু অপেক্ষা কর।

আজকের মত আসি। ওয়ালাইকুম আসসালাম।

আপনিও আপনার মনে জমে থাকা প্রশ্ন পাঠিয়ে দিন আমাদের ঠিকানাই এবং চোখ রাখুন কুষ্টিয়ার দিগন্তের সাহিত্য পাতায়।

shohag
By shohag February 28, 2017 15:51