‘পড়া’-যে কাজের শেষ নেই

shohag
By shohag March 7, 2017 17:39

‘পড়া’-যে কাজের শেষ নেই

অধ্যাপক ফরহাদ হুসাইন

বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম

“পড়া লেখা করে যে, গাড়ি ঘোড়া চড়ে সে”। “পড় এবং পড়,যে পড়ে সে বড়”। যতই পড়িবে ততই শিখিবে। আমাদের বই-পুস্তকে পড়াকে  উৎসাহিত করে এমন অনেক কথার প্রচলন আছে।

আল্লাহ তা’য়ালার  প্রিয় সৃষ্টি মানুষ। এ শ্রেষ্ঠ সৃষ্টির তিনিই পালনকারী। পালনকর্তা মানুষকে দিয়েছেন চলার জন্য উত্তম ও নির্ভুল জীবন ব্যাব¯’া আল-কুরআন। এ মহাগ্রšে’র প্রথম কথাই এসেছে “পড়ার” উপর গুরত্ব প্রদান করে।
মানুষই একমাত্র প্রাণি যে পড়তে পারে। তাকে দেয়া হয়েছে বাকশক্তি। আল্লাহ তা‘য়ালার কাছ থেকেই সে এ শক্তি পেয়েছে।“খালাকাল ইনসান আল্লামাহুল বায়ান” তিনিই মানুষকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাকে ভাষা শিখিয়েছেন। আবার আল্লাহপাক কলমের সাহায্যেও মানুষকে শিক্ষা দিয়েছেন। “ আল্লামা বিল কলমী”-তিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন। কলমের ¯’ান কাগজে। কাগজে লেখার শিকলে বাঁধা হাজারো মত-পথ, ই”ছা,আশা-আকাঙ্খা,প্রেম-বিরহ, অনুরাগ, বিরাগ, শিক্ষা-সংস্কৃতি। এক হৃদয়ের ভাব-উত্তাপ অন্য অন্তরে অনুভব করতে পারে পড়া ও লেখার মধ্য দিয়েই। এক যুগের কথা অন্য যুগে, এক দেশের কথা অন্য দেশে সঞ্চালন ও প্রেরণ এই লেখা পড়ার মধ্য দিয়েই সম্ভব।

আজকের দিনে প্রিন্টিং মিডিয়া ছাড়িয়ে ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় দ্রুত প্রসারিত। কিš‘ পড়াকে বাদ দিয়ে তাতে উত্তরণ হয় না। পড়াকে আল্লাহপাক এমনই গুরত্ব দিলেন যে সকল হুকুমের পূর্বে “পড়–ন”  দিয়ে। “পড়–ন” আপনার  প্রভূর নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন। সৃষ্টি করেছেন মানুষকে জমাট বদ্ধ রক্ত থেকে। এখানে মানুষের কোন জাত-গোত্র বা অঞ্চল বিশেষকে উল্লেখ না করে সকল মানুষকেই পড়ার কথা বলা হয়েছে।

পড়ার মাধ্যমেই শিক্ষা ও জ্ঞান লাভ ঘটে। যার মধ্যে যত জ্ঞানালোক বিরাজমান সে তত আলোক-উদ্ভাসিত। অজ্ঞানতার অন্ধকারে মানুষ পশুত্বে পরিণত হয়। জ্ঞান সম্পদ লাভ অর্থাৎ শিক্ষা অর্জন। শিক্ষা অর্জন হয় পড়ে, দেখে শুনে ও সাহচর্যে ।এ শিক্ষা, সুশিক্ষা ও কুশিক্ষা দুটোই হতে পারে। বিবেক বর্জিত ক্ষতিকর শিক্ষাই কুশিক্ষা। মানুষের জন্য কল্যাণকর, মঙ্গলময়, উপকারী শিক্ষাই হলো সুশিক্ষা বা আসল শিক্ষা।

অনুৎপাদনশীল শ্রম যেমন পন্ডশ্রম-কুশিক্ষাও তেমনি পন্ডপাঠ। কুশিক্ষা রীতিমত ক্ষতিকর এবং মানবতা বিধ্বংসী। কুশিক্ষা মানুষকে অন্ধকারের মধ্যে ঠেলে দেয়। সুশিক্ষা মানব হৃদয়কে প্রশারিত করে। আলোকিত মহৎ করে। মানুষের  মন হিংসা, বিদ্বেষ,ক্রোধ, জটিলতা, পরশ্রিকাতরতা,অনুদার এবং ক্ষুদ্রতাযুক্ত । তাই তার চিন্তা-ভাব-ভাবনা অসম্পূর্ন ও সংকীর্ণ।

আল্লাহ তা‘য়ালার শিক্ষা কোর্সই সর্বত্তম শিক্ষা এবং মুহাম্মদ (সা:) শিক্ষকতাই সর্বশেষ্ঠ শিক্ষকতা। রসুল (সা:)কে শিক্ষক করে  পাঠানো হয়েছে। রসুল (সা:) বলেন, “ ইন্নামাল বুয়ি¯‘ মুয়াল্লিমা” নিশ্চয়ই আমাকে শিক্ষক করে পাঠানো  হয়েছে। (বুখারী)

আল-কুরআনে আল্লাহপাক বলেন,“যেমন আমরা তোমাদের মধ্য থেকেই তোমাদের মাঝে রসুল পাঠিয়েছি। সে তোমাদেরকে আমার আয়াত পড়ে শুনায়, তোমাদের জীবনকে বিশুদ্ধ ও বিকশিত করে। তোমাদের আল কিতাব শিক্ষা ও  কর্মকৌশল শিক্ষা দেয়। আর তোমরা যা কিছু জানতেনা তা তোমাদের জানিয়ে দেয়। [সুরা বাকারা-১৫১]

অতএব আল্লাহ তা‘য়ালার ঘোষণা রসুল (সা:) নি:সন্দেহে নির্ভুল ও শ্রেষ্ঠতম, শিক্ষক। তিনি প্রাকট্রিক্যাল ড্রেমোনেষ্ট্রেটর বা প্রত্যক্ষ প্রদর্শক। আল্লাহ তা‘য়ালা আরও বলেন,“তিনিই আল্লাহ, যিনি তাঁর রসুলকে সঠিক পথের শিক্ষা ও সত্য জীবন যাপনের বিধানসহ পাঠিয়েছেন।  যেন তা সে অন্য সকল বিধানের উপর বিজয়ী করে দেয়। [ সুরা আত-তওবা-৩৩]

আল্লাহ কোন শিক্ষাকোর্স,‘পড়ার’ দিকে নিদের্শ দিয়েছেন তাও সুস্পষ্ট,“তোমার কাছে  প্রেরিত কিতাব পাঠ করতে থাকো”। [আন কাবুত-৪৫]

বিশ্ব জ্ঞান গবেষণার কেন্দ্রবিন্দু আল-কুরআন। জ্ঞানের মূল  উৎস আল্লাহ তা‘য়ালা তাঁর জ্ঞানের বাইরে কিছু নেই। দৃশ্য-অদৃশ্য সবই তাঁর জানা। সবকিছুর উপর তাঁর জ্ঞান পরিবেষ্টন করে আছে। আল-কুরআনে উল্লেখিত হয়েছে,“ ইন্নামাল ইলমু ইনদাল্লাহি” সমস্ত জ্ঞানের উৎস আল্লাহ তা‘য়ালা । [সুরা আল আহকাক-২৩, সুরা মুলক-২৬]

“ওয়া ইন্নাল্লাহ ক্বাদ আহাতা বিকুল্লি শাইয়্যিন আলীমা” আর আল্লাহর জ্ঞান সবকিছুকে পরিবেষ্টন করে আছে। [সুরা আত তালাক-১২]

“ওয়াছিয়া রাব্বি কুল্লা শাইয়্যিন ইলমা”- আমার প্রভূর জ্ঞান সকল কিছুর উপর পরিব্যাপ্ত ।

[সুরা আন আম-৮০,সুরা আরাফ-৮৯]

“তিনিই আল্লাহ। তিনি ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই। গোপন ও প্রকাশ্য সব কিছুই তিনি জানেন। তিনি দয়াময় ও করুনাময়। [সুরা হাশর-২২]

“ওয়াল্লাহ আলিমুল হাকীম”- আল্লাহ মহাজ্ঞানী ও বিজ্ঞানময়। [সুরা আন নুর-১৮,৫৮,৫৯]

তিনি মহাজ্ঞানী। তাঁর জ্ঞানের পরিধির বাইরে কোন কিছুই নেই। তিনি তাঁর অপরিসীম জ্ঞান ভান্ডার থেকে মানুষকে কিছু দান করেছেন। এ জ্ঞান দান না করলে মানুষ অজ্ঞতার অন্ধকারে ডুবে থাকতো। জ্ঞানের এই আলো প্রাপ্তির পরেও যারা তা পড়বে না তারা বড়ই দুর্ভাগা। তাদের জন্য অপেক্ষা করছে বড়ই দুর্ভোগ।কুরআন শরীফে সুরা ত্বহা-১২৪-১২৬ নম্বর আয়াতগুলোতে সে কথা বলা হয়েছে, “আর যে ব্যক্তি আমার যিকির ( কুরআন হাদিসের নসিহত) হতে বিমুখ হবে তার জন্য দুনিয়ায় হবে সংকীর্ণ জীবন,আর কিয়ামতের দিন আমরা তাকে অন্ধ করে উঠাবো। সে বলবে,“হে আমার রব দুনিয়ায় তো আমি চক্ষুস্মান ছিলাম কেন আমাকে অন্ধ করে তুললে ? আল্লাহ বলবেন হ্যাঁ এমনিভাবেই তো আমার আয়াত গুলো তোমার নিকট এসেছিল তুমি তখন তা ভুলে গিয়েছিলে। ঠিক সেভাবেই আজ তোমাকেও ভুলে যাওয়া হ”েছ।”

এভাবেই আল্লাহ তা‘য়ালা পূর্বেই সতর্ক করে দিয়েছেন। না পড়ার খারাপ পরিণাম থেকে বাঁচতে হলে পড়াকে প্রথম ফরজ বিবেচনা করতে হবে। পড়ার জন্য আল্লাহ তা‘য়ালা মানুষকে জ্ঞান শিক্ষা দিয়েছেন। আল- কুরআনে একথা বারবার এসেছে,“ আর আল্লাহ তা‘য়ালা আদমকে সমস্ত জিনিসের জ্ঞান শিখালেন”। [সুরা বাকারা-৩১]

“দয়াময় মেহেরবান আল্লাহ কুরআন শিক্ষা দিয়েছেন। তিনিই মানুষকে সৃষ্টি করেছেন এবং কথা বলতে শিখিয়েছেন।

[সুরা আর রহমান-১৪]

“পড় তোমার প্রভূ বড়ই দয়াশীল। তিনি কলমের সাহায্যে জ্ঞান শিখিয়েছেন।  মানুষকে তিনি এমন জ্ঞান শিক্ষা দিয়েছেন যা সে জানতো না। [সুরা আল আলাক-৩-৫]

আল্লাহ অতি প্রশস্ত উদার মহাজ্ঞানী। তিনি যাকে চান জ্ঞান দান করেন। আর যাকে জ্ঞান দেয়া হয় সে  বিরাট কল্যাণের অধিকারী। আর শিক্ষা লাভ করে তো তারাই যারা বুদ্ধিমান ও জ্ঞানী”। সুরা আল বাকারা-২৬৮-২৬৯]

“হে মুহাম্মদ!অবশ্যি তুমি এই কুরআন এক সুবিজ্ঞ মহাজ্ঞানী মহান সত্তার কাছ থেকে লাভ করছো”।  [সুরা আন নামল-৬]

“আল্লাহ তোমার প্রতি আল কিতাব এবং হিকমাহ অবতীর্ণ  করেছেন। আর তুমি যা জানতেনা তা তোমাকে শিখিয়েছে।” [সুরা নেসা-১১৩]

“আর আমার পক্ষ থেকে আমি তাকে বিশেষ জ্ঞান শিক্ষা দিয়েছি”। সুরা কাহাফ-৬৫]

“ নি:সন্দেহে সে আমার দেয়া শিক্ষার ফলেই জ্ঞানবান ছিলো”। [সুরা ইউছুফ-৬৮]

“আমার প্রভূ! তুমি আমাকে রাষ্ট্র ক্ষমতা দান করেছ। আমাকে সকল কথার মর্ম উপলদ্ধি করার শিক্ষাদান করেছ”। সুরা ইউছুফ-১০১]

“তোমাদের খুব কম জ্ঞানই  দেয়া হয়েছে”। [ সুরা বনি ইসরাইল-৮৫]

কুরআন শরীফের উপরোক্ত শিক্ষামূলক আয়াত সমূহে মানুষকে জ্ঞান অর্জনের দিকেই নির্দেশনা  দেয়া হয়েছে। জ্ঞানহীন মানুষ অন্ধকারে নিমজ্জিত। কুরআন বর্জিত জ্ঞান অন্ধকারে কালো বিড়াল খোঁজার মতো। পড়াশুনা ও জানার জন্য ইসলাম মূল্যবান পরামর্শ ও গুরুত্ব প্রদান করেছে।

আল্লাহপাক জ্ঞানীর উ”চ মর্যাদা দিযেছেন,“তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং যাদেরকে জ্ঞানদান করা হয়েছে , আল্লাহ তাদেরকে সুউ”চ মর্যাদা দান করবেন।”[সুরা মুজদালা-১১]

“ওদের জিজ্ঞেস করো যারা জানে আর যারা জানেনা এই উভয় ধরণের লোক কি সমান হতে পারে”। [সুরা যুমার-৯]

“আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে কেবল জ্ঞান সম্পন্ন লোকেরাই তাঁকে ভয় করে ”। [সুরা ফাতির-২৮]

আল্লাহপাকের দেয়া এই মর্যাদা লাভের জন্য ‘পড়া’ একান্ত অপরিহার্য। পঠন-পাঠন ,অধ্যয়ন ছাড়া জ্ঞানার্জন সম্ভব নয়। আর পড়ার অর্থ শুধু মুখস্ত নয়। তোতা পাখিও কালেমা মুখস্ত করতে পারে কিš‘ তাই বলে সে মুমিন নয়। মানুষ ছাড়া অন্য প্রাণী জ্ঞানার্জন না করলে সে জিজ্ঞাসিত হবে না কিš‘ মানুষ জিজ্ঞাসিত হবে এবং না জানার জন্য খারাপ পরিণাম ভোগ করবে। দুনিয়ার শ্রেষ্ঠতম শিক্ষক মহানবী (সা:) এর বাণী আল হাদীসেও জ্ঞানীর মর্যাদা তুলে ধরা হয়েছে-“আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে দ্বীনের সঠিক বুঝ দান করেন।” [বুখারী, মুসলিম]

অন্যত্র রসুল (সাঃ) জ্ঞানীকে সোনা-রূপার খনির সাথে তুলনা করে বলেন, “সোনা-রূপার খনির মতো মানুষও খনি। তাদের মধ্যে যারা ইসলাম গ্রহণের পূর্বে উত্তম হয়ে থাকে, দ্বীনের সঠিক বুঝ জ্ঞান লাভ করতে পারলে ইসলাম গ্রহণের পরও তারাই উত্তম হয়ে থাকে”। [মুসলিম,আবু হুরাইরা]

জ্ঞানার্জনকে রসুল (সাঃ) অবশ্য কর্তব্য কাজ বলে উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেন, “জ্ঞান অন্বেষণ করা প্রত্যেক মুসলিমের এক কর্তব্য কাজ”। (ইবনে মাজা, বায়হাকি)

রসুল (সাঃ) আরো বলেন,“ দ্বীনের জ্ঞানী ব্যক্তিরা কতইনা উত্তম মানুষ। তাঁর কাছে এলে তিনি তাদের উপকৃত করেন, আর না এলে তিনি কারো মুখাপেক্ষি হন না। জ্ঞানান্বেষণকারীর দোষ ক্রটি মাফ হয়ে যায়।
“যে  ব্যক্তি জ্ঞানান্বেয়ণে আত্মনিয়োগ করে, এ কাজের  ফলে তার অতীতের দোষ-ক্রটি মুছে যায়”। [তিরমিযি ]

শুধু পড়া নয়, পড়া অনুযায়ী কর্মও সিদ্ধ করতে হবে। আমরা যা পড়ি তার অর্থ উপলদ্ধি করে থাকি। অর্থ বুঝা ছাড়া আমরা পন্ডপাঠ করি না। শুধু তেলওয়াতই অধ্যয়ণ নয়। প্রকৃত পড়ার তাৎপর্য হলো অর্থ উপলদ্ধি এবং তার যথার্থ প্রয়োগ। আসমানি কিতাব আল-কুরআনের প্রতিটি কথাতেই আছে অর্থের দ্বোতনা, ভাবের ব্যাঞ্জনা, মধুময় শ্রুতিমাধুর্য, প্রাক-ঐতিহাসিক ঘটনার বিবরণ, বহু জাতির উত্থান-পতনের কাহিনী, মানব জীবনের কর্মপদ্ধতির ধরণ এবং মানব জীবনের সর্ববিষয়ক আলোকপাত। এ গ্রš’কে আমরা শুধু চুমু খেয়ে মর্যাদা দান করি এবং এর মধ্যদিয়েই এ গ্রšে’র প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য সমাপ্ত করি। তখন এরূপ দেখে এমনটি মনে হয় স্ব”ছ পলিথিনে মধু বা মিষ্টি রেখে যদি চুমু খাওয়া বা চাটা যায় তাহলে যেমন কোন স্বাদ পাওয়া  যাবেনা তেমনি কুরআন শরীফে চুমু খেয়েও এর প্রতি কর্তব্য ও দায়িত্ব পালন সম্পন্ন হবে না। যখন মিষ্টির পলিথিন খুলে স্বাদ গন্ধ এবং মজা পাওয়া  যাবে তখনই  যখন খাওয়া হবে। তেমনি কুরআন শরীফের অর্থ উপলদ্ধি করে আমল করলেই প্রকৃত দায়িত্ব ও কর্তব্য পালিত হবে। এরূপ পড়াকেই পড়া বা অধ্যয়ন বলা যেতে পারে। এরূপ পড়াই কুরআন প্রেরকের ও প্রচারকের দাবী।

shohag
By shohag March 7, 2017 17:39