শিরোনাম

ভারত ও পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ

ভারত ও পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ

ভারত ও পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ

*বিশ্বব্যাংকের ২০১৮ সালের মানবসম্পদ সূচক প্রকাশ
*সূচকে ১৫৭টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ১০৬ তম
*ভারত ও পাকিস্তান যথাক্রমে ১১৫ ও ১৩৪ তম
*মানবসম্পদ উন্নয়নে বাংলাদেশ ভালো করেছে
*বাংলাদেশের আরও ভালো করার সুযোগ আছে

ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ভারত ও পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার বিদ্যমান মান বিবেচনা করলে বাংলাদেশের শিশুরা ভারত ও পাকিস্তানের শিশুদের চেয়ে বেশি উৎপাদনশীল হবে। বিশ্বব্যাংকের ২০১৮ সালের মানবসম্পদ সূচকে এই চিত্র পাওয়া গেছে। এই সূচক অনুযায়ী, ১৫৭টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ১০৬ তম। ভারত ও পাকিস্তান যথাক্রমে ১১৫ ও ১৩৪তম।

ইন্দোনেশিয়ার বালিতে চলমান বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) যৌথ বার্ষিক সভায় গতকাল বৃহস্পতিবার বিশ্বব্যাংক এই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। বিশ্বব্যাংক বলেছে, মানবসম্পদ উন্নয়নে বাংলাদেশ ভালো করেছে। আরও ভালো করার সুযোগ আছে। কেননা, প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় এগিয়ে থাকলেও অন্য দেশগুলো আরও অনেক ভালো করছে।

পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুমৃত্যুর হার, শিশুদের স্কুলে পাঠ গ্রহণের সময়কাল, শিক্ষার মান, প্রাপ্তবয়স্কদের অন্তত ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত বেঁচে থাকা এবং শিশুদের সঠিক আকারে বেড়ে ওঠাসহ বেশ কয়েকটি সূচক দিয়ে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। আদর্শ শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসুবিধা পেলে একটি শিশু প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে শতভাগ উৎপাদনশীলতা দেখাতে পারে। কিন্তু নিজ নিজ দেশে ভিন্ন ভিন্ন মানের সুযোগ-সুবিধা অনুযায়ী বেড়ে ওঠে শিশুরা। তাই সবাই সমানভাবে শতভাগ উৎপাদনশীলতা দেখাতে পারে না।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের একজন শিশু বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা পেয়ে প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে গড়ে ৪৮ শতাংশ উৎপাদনশীলতা দেখাতে পারবে। আদর্শ শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসুবিধা পেলে তারা শতভাগ কর্মদক্ষতা দেখাতে পারত, সেখানে তারা অর্ধেকের কম দেখাতে পারবে। অন্যদিকে ভারত ও পাকিস্তান এ ক্ষেত্রে আরও পিছিয়ে। ভারতের শিশুরা ৪৪ শতাংশ ও পাকিস্তানের শিশুরা ৩৯ শতাংশ কর্মদক্ষতা দেখাতে পারবে।

পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সদস্য শামসুল আলম গতকাল রাতে প্রথম আলোকে বলেন, এক দশক ধরেই সরকার মানবসম্পদ উন্নয়নে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে। প্রতিবছর শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সরকার বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। এ জন্য বিভিন্ন ধরনের প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে, যা মেধাসম্পদ তৈরি করছে। এর প্রতিফলন দেখা গেছে বিশ্বব্যাংকের এই প্রতিবেদনে। তিনি জানান, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) অর্জনে মানবসম্পদ উন্নয়নের জন্য একটি কর্মপরিকল্পনা ঠিক করা হয়েছে। সেখানে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৩ থেকে ৪ শতাংশ শিক্ষা খাতে এবং ২ শতাংশ স্বাস্থ্য খাতে খরচ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে। সেই লক্ষ্যে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

যেখানে এগিয়ে বাংলাদেশ
স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে শিশুদের সুরক্ষার ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ এগিয়ে। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে যত শিশু জন্ম নেয় এবং পাঁচ বছর বয়স হওয়ার পর ৯৭ শতাংশ শিশুই বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বা উপযোগী থাকে। নবজাতক ও শিশুমৃত্যুর হার কমাতে বেশ সাফল্য দেখিয়েছে বাংলাদেশ। অন্যদিকে ভারতে এমন প্রতি ১০০ শিশুর মধ্যে ৯৬ শিশু বেঁচে থাকে। পাকিস্তানে এই হার ৯৩ শতাংশ।

বাংলাদেশের একটি শিশু ৪ বছর বয়সে পড়াশোনা শুরু করে ১৮ বছর পার হওয়ার আগে গড়ে ১১ বছর শিক্ষা কার্যক্রমের আওতায় থাকে। অন্যদিকে ভারতের শিশু ১০ দশমিক ২ বছর ও পাকিস্তানের শিশু ৮ দশমিক ৮ বছর স্কুলশিক্ষা পায়।

বাংলাদেশের ১৫ বছরের বেশি বয়সী শিশু-কিশোরদের মধ্যে গড়ে ৮৭ শতাংশ কমপক্ষে ৬০ বছর বেঁচে থাকবে। ভারতের ৮৩ শতাংশ শিশু-কিশোর কমপক্ষে ৬০ বছর বেঁচে থাকবে। আর পাকিস্তানের ৮৪ শতাংশ শিশু-কিশোরেরা এই বয়সসীমা পার করবে।

১০০ বাংলাদেশি শিশুর মধ্যে ৬৪ জন যথাযথ উচ্চতা নিয়ে বেড়ে ওঠে। প্রতি ১০০ জনে ভারতে তা ৬২ জন ও পাকিস্তানে ৫৫ জন। বিশ্বব্যাংক বলছে, এই ধরনের খর্বাকৃতি জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত বয়ে বেড়াতে হয়।

বিশ্বব্যাংক তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ মানবসম্পদ উন্নয়নে বেশ ভালো করছে। বিশ্বব্যাংক মনে করে, খর্বাকৃতি ও মানসম্পন্ন শিক্ষার অভাবই বাংলাদেশের শিশুদের ভবিষ্যৎ গড়তে বড় বাধা হিসেবে কাজ করে। কোনো দেশের শিশুরা যদি ভবিষ্যতে অর্ধেক উৎপাদনশীলতা দেখাতে পারে, তাহলে ওই দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সম্ভাবনা অর্ধেকই হারিয়ে যায়।

অন্যরা আরও ভালো
বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে ১৫৭টি দেশের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এই তালিকায় দক্ষিণ এশিয়ার ছয়টি দেশ আছে। বাংলাদেশের অবস্থান তৃতীয়। দক্ষিণ এশিয়ার শিশুর ভবিষ্যৎ গড়ে তোলায় সবচেয়ে এগিয়ে আছে শ্রীলঙ্কা। দেশটি ৭৪ তম স্থানে। শ্রীলঙ্কায় শিশুদের উৎপাদনশীলতা হবে ৫৮ শতাংশ। এরপর নেপালের অবস্থান ১০২ তম। নেপালের শিশুদের উৎপাদনশীলতা ৪৯ শতাংশ। আর ১৩৩ তম স্থানে থাকা আফগানিস্তানের শিশুদের উৎপাদনশীলতার হার ৩৯ শতাংশ।

বিশ্বব্যাংকের সূচকে শীর্ষ তিনটি স্থানেই এশিয়ার তিনটি দেশ। প্রথম স্থানে থাকা সিঙ্গাপুরের শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসুবিধা এমন যে তারা ভবিষ্যতে ৮৮ শতাংশ উৎপাদনশীলতা দেখাতে পারবে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে আছে যথাক্রমে কোরিয়া ও জাপান। ওই দেশেরই শিশুদের উৎপাদনশীলতা ৮৪ শতাংশ। বিশ্বব্যাংকের সূচকে সবচেয়ে খারাপ, মানে ১৫৭ তম স্থানে আছে আফ্রিকার দেশ শাদ। দেশটির শিশুরা ভবিষ্যতে মাত্র ২৯ শতাংশ কর্মদক্ষতা দেখাতে পারবে।

বিশ্বব্যাংক বলছে, এখন সারা বিশ্বে যত শিশু জন্ম নেবে, এর ৫৬ শতাংশই তাদের অর্ধেক উৎপাদনশীলতা হারিয়ে ফেলবে। কেননা ওই সব দেশের সরকার নিজ নিজ দেশের ভবিষ্যৎ মানবসম্পদ গড়ে তোলার জন্য শিক্ষা, স্বাস্থ্য খাতে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ করতে পারছে না।

 

 

 

 

*বিশ্বব্যাংকের ২০১৮ সালের মানবসম্পদ সূচক প্রকাশ
*সূচকে ১৫৭টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ১০৬ তম
*ভারত ও পাকিস্তান যথাক্রমে ১১৫ ও ১৩৪ তম
*মানবসম্পদ উন্নয়নে বাংলাদেশ ভালো করেছে
*বাংলাদেশের আরও ভালো করার সুযোগ আছে

ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ভারত ও পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার বিদ্যমান মান বিবেচনা করলে বাংলাদেশের শিশুরা ভারত ও পাকিস্তানের শিশুদের চেয়ে বেশি উৎপাদনশীল হবে। বিশ্বব্যাংকের ২০১৮ সালের মানবসম্পদ সূচকে এই চিত্র পাওয়া গেছে। এই সূচক অনুযায়ী, ১৫৭টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ১০৬ তম। ভারত ও পাকিস্তান যথাক্রমে ১১৫ ও ১৩৪তম।

ইন্দোনেশিয়ার বালিতে চলমান বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) যৌথ বার্ষিক সভায় গতকাল বৃহস্পতিবার বিশ্বব্যাংক এই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। বিশ্বব্যাংক বলেছে, মানবসম্পদ উন্নয়নে বাংলাদেশ ভালো করেছে। আরও ভালো করার সুযোগ আছে। কেননা, প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় এগিয়ে থাকলেও অন্য দেশগুলো আরও অনেক ভালো করছে।

পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুমৃত্যুর হার, শিশুদের স্কুলে পাঠ গ্রহণের সময়কাল, শিক্ষার মান, প্রাপ্তবয়স্কদের অন্তত ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত বেঁচে থাকা এবং শিশুদের সঠিক আকারে বেড়ে ওঠাসহ বেশ কয়েকটি সূচক দিয়ে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। আদর্শ শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসুবিধা পেলে একটি শিশু প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে শতভাগ উৎপাদনশীলতা দেখাতে পারে। কিন্তু নিজ নিজ দেশে ভিন্ন ভিন্ন মানের সুযোগ-সুবিধা অনুযায়ী বেড়ে ওঠে শিশুরা। তাই সবাই সমানভাবে শতভাগ উৎপাদনশীলতা দেখাতে পারে না।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের একজন শিশু বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা পেয়ে প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে গড়ে ৪৮ শতাংশ উৎপাদনশীলতা দেখাতে পারবে। আদর্শ শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসুবিধা পেলে তারা শতভাগ কর্মদক্ষতা দেখাতে পারত, সেখানে তারা অর্ধেকের কম দেখাতে পারবে। অন্যদিকে ভারত ও পাকিস্তান এ ক্ষেত্রে আরও পিছিয়ে। ভারতের শিশুরা ৪৪ শতাংশ ও পাকিস্তানের শিশুরা ৩৯ শতাংশ কর্মদক্ষতা দেখাতে পারবে।

পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সদস্য শামসুল আলম গতকাল রাতে প্রথম আলোকে বলেন, এক দশক ধরেই সরকার মানবসম্পদ উন্নয়নে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে। প্রতিবছর শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সরকার বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। এ জন্য বিভিন্ন ধরনের প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে, যা মেধাসম্পদ তৈরি করছে। এর প্রতিফলন দেখা গেছে বিশ্বব্যাংকের এই প্রতিবেদনে। তিনি জানান, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) অর্জনে মানবসম্পদ উন্নয়নের জন্য একটি কর্মপরিকল্পনা ঠিক করা হয়েছে। সেখানে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৩ থেকে ৪ শতাংশ শিক্ষা খাতে এবং ২ শতাংশ স্বাস্থ্য খাতে খরচ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে। সেই লক্ষ্যে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

যেখানে এগিয়ে বাংলাদেশ
স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে শিশুদের সুরক্ষার ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ এগিয়ে। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে যত শিশু জন্ম নেয় এবং পাঁচ বছর বয়স হওয়ার পর ৯৭ শতাংশ শিশুই বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বা উপযোগী থাকে। নবজাতক ও শিশুমৃত্যুর হার কমাতে বেশ সাফল্য দেখিয়েছে বাংলাদেশ। অন্যদিকে ভারতে এমন প্রতি ১০০ শিশুর মধ্যে ৯৬ শিশু বেঁচে থাকে। পাকিস্তানে এই হার ৯৩ শতাংশ।

বাংলাদেশের একটি শিশু ৪ বছর বয়সে পড়াশোনা শুরু করে ১৮ বছর পার হওয়ার আগে গড়ে ১১ বছর শিক্ষা কার্যক্রমের আওতায় থাকে। অন্যদিকে ভারতের শিশু ১০ দশমিক ২ বছর ও পাকিস্তানের শিশু ৮ দশমিক ৮ বছর স্কুলশিক্ষা পায়।

বাংলাদেশের ১৫ বছরের বেশি বয়সী শিশু-কিশোরদের মধ্যে গড়ে ৮৭ শতাংশ কমপক্ষে ৬০ বছর বেঁচে থাকবে। ভারতের ৮৩ শতাংশ শিশু-কিশোর কমপক্ষে ৬০ বছর বেঁচে থাকবে। আর পাকিস্তানের ৮৪ শতাংশ শিশু-কিশোরেরা এই বয়সসীমা পার করবে।

১০০ বাংলাদেশি শিশুর মধ্যে ৬৪ জন যথাযথ উচ্চতা নিয়ে বেড়ে ওঠে। প্রতি ১০০ জনে ভারতে তা ৬২ জন ও পাকিস্তানে ৫৫ জন। বিশ্বব্যাংক বলছে, এই ধরনের খর্বাকৃতি জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত বয়ে বেড়াতে হয়।

বিশ্বব্যাংক তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ মানবসম্পদ উন্নয়নে বেশ ভালো করছে। বিশ্বব্যাংক মনে করে, খর্বাকৃতি ও মানসম্পন্ন শিক্ষার অভাবই বাংলাদেশের শিশুদের ভবিষ্যৎ গড়তে বড় বাধা হিসেবে কাজ করে। কোনো দেশের শিশুরা যদি ভবিষ্যতে অর্ধেক উৎপাদনশীলতা দেখাতে পারে, তাহলে ওই দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সম্ভাবনা অর্ধেকই হারিয়ে যায়।

অন্যরা আরও ভালো
বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে ১৫৭টি দেশের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এই তালিকায় দক্ষিণ এশিয়ার ছয়টি দেশ আছে। বাংলাদেশের অবস্থান তৃতীয়। দক্ষিণ এশিয়ার শিশুর ভবিষ্যৎ গড়ে তোলায় সবচেয়ে এগিয়ে আছে শ্রীলঙ্কা। দেশটি ৭৪ তম স্থানে। শ্রীলঙ্কায় শিশুদের উৎপাদনশীলতা হবে ৫৮ শতাংশ। এরপর নেপালের অবস্থান ১০২ তম। নেপালের শিশুদের উৎপাদনশীলতা ৪৯ শতাংশ। আর ১৩৩ তম স্থানে থাকা আফগানিস্তানের শিশুদের উৎপাদনশীলতার হার ৩৯ শতাংশ।

বিশ্বব্যাংকের সূচকে শীর্ষ তিনটি স্থানেই এশিয়ার তিনটি দেশ। প্রথম স্থানে থাকা সিঙ্গাপুরের শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসুবিধা এমন যে তারা ভবিষ্যতে ৮৮ শতাংশ উৎপাদনশীলতা দেখাতে পারবে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে আছে যথাক্রমে কোরিয়া ও জাপান। ওই দেশেরই শিশুদের উৎপাদনশীলতা ৮৪ শতাংশ। বিশ্বব্যাংকের সূচকে সবচেয়ে খারাপ, মানে ১৫৭ তম স্থানে আছে আফ্রিকার দেশ শাদ। দেশটির শিশুরা ভবিষ্যতে মাত্র ২৯ শতাংশ কর্মদক্ষতা দেখাতে পারবে।

বিশ্বব্যাংক বলছে, এখন সারা বিশ্বে যত শিশু জন্ম নেবে, এর ৫৬ শতাংশই তাদের অর্ধেক উৎপাদনশীলতা হারিয়ে ফেলবে। কেননা ওই সব দেশের সরকার নিজ নিজ দেশের ভবিষ্যৎ মানবসম্পদ গড়ে তোলার জন্য শিক্ষা, স্বাস্থ্য খাতে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ করতে পারছে না।

 

92 total views, 1 views today

181,700 total views, 634 views today

প্রধান খবর

  • বাংলাদেশ আজ জয় দিয়েই ওয়ানডে সিরিজ শুরু করতে চায়

    ঢাকা অফিস: ওয়েস্ট ইন্ডিজকে টেস্ট সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করেছে বাংলাদেশ। এবার দলটির বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ খেলেতে মাঠে নামবে টাইগাররা। আজ থেকে শুরু হওয়া তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজে জয় দিয়েই শুরু করতে চায় বাংলাদেশ। অবশ্য মাঠে নামার আগে মানসিকভাবে এগিয়ে বাংলাদেশ দলই। কারণ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ জয়ের সুখ স্মৃতি নিয়েই ওয়ানডে সিরিজ শুরু করবে টাইগাররা। আরো একটি কারণে এগিয়ে আছে টাইগাররা। টেস্টে না থাকলেও ওয়ানডে সিরিজে দলের হয়ে মাঠে নামবে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান ও দেশের সেরা ওপেনার তামিম ইকবাল। মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টায় শুরু হবে প্রথম ওয়ানডে।ddddd
    তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচেই জয়ের টার্গেট বাংলাদেশের। ফলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আজ আত্মবিশ্বাসের সাথেই ওয়ানডে সিরিজ শুরু করবে টাইগাররা। ২০১২ সালে দেশের মাটিতে ও সর্বশেষ ওয়ানডে সিরিজ এবং চলতি সফরে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ জয়ের সুখস্মৃতি রয়েছে টাইগারদের। তাই এমন সুখস্মৃতি নিয়ে ওয়ানডে সিরিজ খেলতে নামবে মাশরাফির দল। ২০১২ সালে দেশের মাটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সর্বশেষ ওয়ানডে সিরিজ খেলেছিলো টাইগাররা। পাঁচ ম্যাচের ঐ সিরিজে ৩-২ ব্যবধানে জিতে নেয় বাংলাদেশ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সর্বশেষ ওয়ানডে সিরিজটি জিতেছে বাংলাদেশ। চলতি বছরের জুলাইয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে তিন ম্যাচের সিরিজটি ২-১ ব্যবধানে জিতে মাশরাফির দল। এছাড়া  চলতি সফরে টেস্ট ফরম্যাটের দুই ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হোয়াইওয়াশ করেছে সাকিব আল হাসানের দলটি। একচেটিয়া পারফরমেন্স করে দু’টি টেস্টই জিতে নেয় বাংলাদেশ। চট্টগ্রামে প্রথম টেস্টে ৬৪ রানে এবং ঢাকায় দ্বিতীয় ম্যাচে ইনিংস ও ১৮৪ রানে জয় পায় টাইগাররা। এই সিরিজ দিয়ে আবারো ওয়ানডেতে ফিরছেন দলের দুই সেরা তারকা সাকিব-তামিম। এশিয়া কাপ চলাকালীন ইনজুরিতে পড়েছিলেন তারা। তবে ইনজুরি থেকে সুস্থ হয়ে ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরেছেন সাকিব। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। ব্যাট-বল হাতে উজ্জল ছিলেন সাকিব। ব্যাট হাতে ১১৫ রান ও বল হাতে ৯ উইকেট শিকার করেন সাকিব। ফলে সিরিজ সেরাও হন তিনি। সাকিবের চিন্তা দূর হবার পর তামিমকে নিয়ে চিন্তিত ছিলো বাংলাদেশ। তবে বাংলাদেশের চিন্তা মুছে দেন তামিমও। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে ফিরে সেঞ্চুরি করেই নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করেন। প্রস্তুতি ম্যাচে জয়ও পায় বাংলাদেশ। অপর দিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বাংলাদেশ সফরটা মোটেও ভালো হয়নি। কারণ টেস্টে হোয়াইটওয়াশ হয়েছে দলটি। এবার ওয়ানডে সিরিজ। ওয়ানডে সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে নেতৃত্ব দিবেন রোভম্যান পাওয়েল। নিয়মিত অধিনায়ক জেসন হোল্ডার ইনজুরির কারণে বাংলাদেশ সফরে আসেননি। তাই টেস্ট সিরিজে অনিয়মিত অধিনায়কের অধীনে খেলেছিলো ওয়েস্ট ইন্ডিজ। টেস্ট ফরম্যাটে ক্যারিবীদের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন ওপেনার ক্রেইগ ব্রাফেট। টেস্টে হারলেও ওয়ানডে সিরিজে ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া থাকবে দলটি। তাই জয়ের আত্মবিশ্বাসে থাকলেও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ নিয়ে সর্তক বাংলাদেশ। সিরিজটি বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে বলে মনে করেন বাংলাদেশের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা ও কোচ স্টিভ রোডস।
    বাংলাদেশ দল : মাশরাফি বিন মর্তুজা (অধিনায়ক), সাকিব আল হাসান (সহ-অধিনায়ক), তামিম ইকবাল, ইমরুল কায়েস, সৌম্য সরকার, লিটন কুমার দাস, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, রুবেল হোসেন, মুস্তাফিজুর রহমান, মেহেদি হাসান মিরাজ, নাজমুল ইসলাম অপু, মোহাম্মদ মিথুন, সাইফ উদ্দিন, আবু হায়দার ও আরিফুল হক।
    ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল : রোভম্যান পাওয়েল (অধিনায়ক), মারলন স্যামুয়েলস, ড্যারেন ব্রাাভো, রোস্টন চেজ, শাই হোপ, দেবেন্দ্র বিশু, চন্দরপল  হেমরাজ, শিমরন হেটমায়ার, কেমো পল, কাইরন পাওয়েল, ফ্যাবিয়ান অ্যালেন, কার্লোস ব্রাফেট, কেমার  রোচ, সুনীল অ্যামব্রিস ও ওশানে টমাস।

    18,157 total views, 322 views today

আজকের খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : খালিদ হাসান সিপাই.

নির্বাহী সম্পাদক : মাজহারুল হক মমিন।

বড় জামে মসজিদ মার্কেট, এন এস রোড কুষ্টিয়া।

০১৭১৬২৬৮৮৫৮, E-mail: Kushtiardiganta@gmail.com .