শিরোনাম

ধর্ম যার যার কিন্তু উৎসব সবার: প্রধানমন্ত্রী

ধর্ম যার যার কিন্তু উৎসব সবার: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সোমবার শারদীয় দুর্গোৎসবের মহাষষ্ঠীর দিনে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির পরিদর্শন করেন। ছবি: পিআইডি
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সোমবার শারদীয় দুর্গোৎসবের মহাষষ্ঠীর দিনে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির পরিদর্শন করেন। ছবি: পিআইডি
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে–বিদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের সবাইকে শারদীয় দুর্গোৎসবের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ধর্ম যার যার, কিন্তু উৎসব সবার।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সকলে সেটাই মানি আর বাংলাদেশ বিশ্বে সেটার একটা দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। প্রত্যেকটা উৎসবে সবাই ভাইবোনের মতো কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আমরা এই উৎসবটা উদ্‌যাপন করে যাই।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সোমবার শারদীয় দুর্গোৎসবের মহাষষ্ঠীর দিনে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির পরিদর্শনে এসে দেওয়া ভাষণে এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাধীনতাসংগ্রামে এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় আমরা মুসলমানরা শুধু নয়, আমাদের সবধর্মের মানুষ—হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান সকলে মিলেই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বুকের রক্ত ঢেলে এ দেশ স্বাধীন করে গেছেন। বাংলাদেশ লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এবং এই বাংলাদেশে জাতি–ধর্ম–বর্ণনির্বিশেষে সকলে যার যার অধিকার নিয়েই বসবাস করবে, তাদের ধর্মকর্ম পালন করবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই দেশকে আমরা সকলে একসঙ্গে গড়ে তুলতে চাই। বাংলাদেশ উন্নত হোক, সমৃদ্ধিশালী হোক, দারিদ্র্যমুক্ত এবং ক্ষুধামুক্ত বাংলাদেশ হোক—এটাই ছিল জাতির পিতার স্বপ্ন। আমি এটুকু বলতে পারি, আমি বাবা, মা, ভাই—সব হারিয়েছি এবং আমরা দুটি বোন বেঁচে আছি। আমাদের জীবনের একটাই লক্ষ্য—এই বাংলাদেশটাকে আমরা গড়ে তুলব। লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা কখনো ব্যর্থ হতে পারে না।’

সরকারপ্রধান বলেন, ‘আজ আমরা আনন্দিত, সারা বাংলাদেশেই পুজো হচ্ছে এবং প্রতিবছরই পুজোর সংখ্যা বাড়ছে। প্রায় ৩০ হাজারের বেশি মন্ডপে পুজো হচ্ছে’ (সারা দেশে ৩১ হাজার ২৭২টি পূজামন্ডপে পূজা হচ্ছে)। তিনি বলেন, ‘আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সকলেই দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে এখানকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সব রকম প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয় জনগণও সহযোগিতা করে যাচ্ছেন।’ তিনি সারা বাংলাদেশে পূজা অনুষ্ঠানে কর্মরতদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। তিনি এই উৎসব যাতে উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়, সেই কামনাও করেন।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী রামকৃষ্ণ মিশন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে যান। সেখানে মিশনের অধ্যক্ষ স্বামী ধ্রুবেশানন্দ প্রধানমন্ত্রীকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান।

ঢাকেশ্বরী মন্দিরকে দেড় বিঘা জমি দিলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দীর্ঘ ৬০ বছরের পুরোনো (ভূমি) সমস্যা মিটিয়ে সোমবার ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরকে দেড় বিঘা জমি দিয়েছেন।
পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নির্মল চ্যাটার্জি বাসসকে বলেন, ‘মন্দিরের দীর্ঘ ৬০ বছরের সমস্যা মিটিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ এই জমি আমাদের দিয়েছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী আমাদের এই জমি প্রদান করলেন।’
চ্যাটার্জি দীর্ঘ দিনের সমস্যা সমাধানে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরকে জমি দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

31 total views, 2 views today

121,826 total views, 607 views today

প্রধান খবর

  • আজ ৯ ডিসেম্বর কুমারখালী হানাদার মুক্ত দিবস

    কুমারখালি প্রতিনিধি : ১৯৭১ সালের ৯ ডিসেম্বর এই দিনে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করে কুমারখালীর মুক্তিযোদ্ধারা বিজয় ছিনিয়ে এনেছিলেন এবং কুমারখালীকে হানাদার মুক্ত করেছিলেন।

    ১৯৭১ সালের ৭ ডিসেম্বর সকালে মুক্তিযোদ্ধারা পরিকল্পিত ভাবে কুমারখালীতে প্রবেশ করে শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত কুন্ডুপাড়ার রাজাকারদের ক্যাম্প আক্রমণ করেন। রাজাকার কমান্ডার ফিরোজ বাহিনীর সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের তুমুল যুদ্ধ শুরু হয়।

    এ খবর কুষ্টিয়া জেলা শহরে অবস্থানরত পাক-সেনাদের কাছে পৌঁছালে তারা দ্রুত কুমারখালীতে এসে গুলিবর্ষণ করতে থাকলে পুরো শহর আতঙ্ক গ্রস্থ হয়ে পড়ে। এবং মুক্তিযোদ্ধারা তাদের অkkkkপর্যাপ্ত অস্ত্র ও সংখ্যায় কম থাকায় শহর ত্যাগ করেন।

    এ সময় পাকিস্তানি বাহিনী ও রাজাকাররা কুমারখালী শহরজুড়ে হত্যাযজ্ঞ, অগ্নিসংযোগ ও লুটতরাজ শুরু করে।৭ ডিসেম্বরের যুদ্ধে পাকিস্তানী বাহিনীর হাতে আওয়ামী লীগ নেতা মুক্তিযোদ্ধা তোসাদ্দেক হোসেন ননী মিয়া শহীদ হন।
    পাকিস্তানী হানাদারদের হত্যাযজ্ঞের শিকার হয়েছিলেন মুক্তিকামী বীর বাঙালী সামসুজ্জামান স্বপন, সাইফুদ্দিন বিশ্বাস, আব্দুল আজিজ মোল্লা, শাহাদত আলী, কাঞ্চন কুন্ডু, আবু বক্কার সিদ্দিক, আহমেদ আলী বিশ্বাস, আব্দুল গনি খাঁ, সামসুদ্দিন খাঁ, আব্দুল মজিদ ও আশুতোষ বিশ্বাস মঙ্গল।

    পরবর্তীতে মুক্তিযোদ্ধারা সুসংগঠিত হয়ে ৯ ডিসেম্বর পাকবাহিনীর ক্যাম্পে (বর্তমানে কুমারখালী উপজেলা পরিষদ) আক্রমণ করেন।

    দীর্ঘসময় যুদ্ধের পর পাকিস্তানি বাহিনী মুক্তিযোদ্ধাদের আক্রমণের কাছে টিকতে না পেরে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় । ৯ ডিসেম্বরের যুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে রাজাকার কমান্ডার খুশি মারা যায়।

    এইদিন কুমারখালী শহর হানাদার মুক্ত হওয়ার পর সর্বস্তরের জনতা এবং মুক্তিযোদ্ধারা রাস্তায় নেমে আনন্দ মিছিল বের করেন।

    6,819 total views, 529 views today

আজকের খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : খালিদ হাসান সিপাই.

নির্বাহী সম্পাদক : মাজহারুল হক মমিন।

বড় জামে মসজিদ মার্কেট, এন এস রোড কুষ্টিয়া।

০১৭১৬২৬৮৮৫৮, E-mail: Kushtiardiganta@gmail.com .