শিরোনাম

১২০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত : কুষ্টিয়া শহর বাইপাস সড়ক শিগগিরই উদ্বোধন

kushtia bipusখালিদ হাসান সিপাই, কুষ্টিয়া
কুষ্টিয়া শহর বাইপাস সড়কের নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিগগিরই ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সড়কটি উদ্বোধন করবেন বলে জানা গেছে। সড়কটি উদ্বোধনের মাধ্যমে এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবী পূরণ হচ্ছে।
কুষ্টিয়া সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্র জানায়, ২০১৬ সালে ১২০ কোটি টাকা ব্যয়ে কুষ্টিয়া শহর বাইপাস সড়ক নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ৭ কিলোমিটার সড়কের কাজ শেষ হয়েছে। নবনির্মিত বাইপাসটি বটতৈল থেকে শুরু হয়ে বারখাদা ত্রিমোহনীতে গিয়ে শেষ হয়েছে। বাইপাসের শুরু ও শেষ প্রান্তে দুটি গোল চত্বর নির্মাণ করা হয়েছে। বটতৈল প্রান্তের গোল চত্বরের দু’দিকে কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়ক- যার একদিক চলে গেছে খুলনা অভিমুখে, অপরপ্রান্ত শহরমুখে। গোল চত্বরের আরেক পাশের আঞ্চলিক মহাসড়ক গেছে চুয়াডাঙ্গার দিকে। অন্যদিকে বাইপাসের শেষ প্রান্ত বারখাদা গোল চত্বর থেকে জাতীয় মহাসড়কটি ঈশ্বরদী-সিরাজগঞ্জের দিকে এবং অন্যদিক গিয়েছে কুষ্টিয়া শহর ও বাইপাস অভিমুখে। দেশের উত্তরবঙ্গের সঙ্গে দক্ষিণবঙ্গের একমাত্র যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার হবে এ বাইপাস সড়ক।
কুষ্টিয়া শহর বাইপাসের ৭ দশমিক ৩ মিটার প্রশস্তের ডাবল লেনবিশিষ্ট মূল সড়ক ৪ কিলোমিটার এবং সাড়ে ৬ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে বাইপাস সড়ক। ওই সড়কের মাঝে একটি পিসি গার্ডার সেতু ও ২১টি আরসিসি বক্স কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে।
আওয়ামীলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ এমপির প্রচেষ্টায় বাইপাস সড়কটির কার্যক্রম এগিয়ে চলে।
কুষ্টিয়া সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম জানান, কুষ্টিয়া শহর বাইপাসের ৭ দশমিক ৩ মিটার প্রশস্তের ডাবল লেনবিশিষ্ট মূল সড়ক ৪কিলোমিটার এবং সাড়ে ৬ কিলোমিটার দৈঘ্যের বাইপাস সড়ক। উক্ত সড়কেরমাঝে একটি পিসি গার্ডার সেতু ও ২১টি আরসিসি বক্স কালভার্ট নির্মাণকরা হয়েছে। বাইপাসের প্রায় সকল কাজ সমপন্ন হয়েছে। তা এখন উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে।
এলাকাবাসী জানায়, দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের মধ্যে চলাচলকারী শত শত দূরপালার যানবাহন কুষ্টিয়া শহরের মধ্যে দিয়ে চলাচল করে। এতে শহরবাসীর স্বাভাবিক চলাচল যেমন বাধাগ্রস্থ হয় তেমনি স্কুল-কলেজগামী ছাত্র-ছাত্রীসহ শহরবাসীকে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই সড়কে চলাচল করতে হচ্ছে।
কুষ্টিয়ার উপর দিয়ে ১৯৮৮ সালে তৈরী হওয়া একটি মাত্র মহাসড়ক দিন দিন ভয়াবহ ব্যাস্ত হয়ে পড়ে। কুষ্টিয়ায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারী কলেজসহ বিভিন্ন বড় বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠায় অনেক মানুষ এ জেলায় আসে যায়। এছাড়াও মহাসড়কটির পাশে কুষ্টিয়া জিলা স্কুল, কুষ্টিয়া পুলিশ লাইনস স্কুল এন্ড কলেজ, চৌড়হাস মোড়ে চৌড়হাস মুকুল সংঘ প্রাথমিক বিদ্যালয়, প্রতীতি বিদ্যালয়, সড়ক সংলগ্ন এলাকায় গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসা কেন্দ্র, বারখাদা আর্দশ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ডিসি কোর্ট, জজ কোর্টসহ গুরুত্বপূর্ন অফিস-আদালত রয়েছে। এসব কারণে প্রতিনিয়তই ছোট-বড় দূর্ঘটনা ঘটছে। এছাড়া কুষ্টিয়া চিনিকলে আখ মাড়াই মৌসুম শুরু হলে আখ বহনকারী লরিগুলো এই সড়ক দিয়েই চলাচল করে। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়রে ৩০ টিরও বেশি গাড়ী কুষ্টিয়ায় শহরের উপর দিয়ে যায় আসে। তার উপর শহরের ভেতর দিয়ে বয়ে গেছে রেলপথ। ফলে ওই সময়ে যানজট আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে।
এছাড়াও, উত্তরবঙ্গের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ মংলা পোর্টসহ সমগ্র দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সড়ক  যোগাযোগের রুট এই কুষ্টিয়া। ভেড়ামারায় নির্মিত লালন শাহ সেতু হওয়ায় শহরের এ সড়কে যানবাহনের চাপ আরও বেড়ে যায়।
ফলে দল মত নির্বিশেষে কুষ্টিয়াবাসীর প্রাণের দাবী ছিল এই বাইপাস সড়ক। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি স্থানীয় বাস-ট্রাক মালিকগণ দীর্ঘ দিন থেকে বাইপাস সড়ক নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসলেও কোন ফল হয়নি।
বিএনপির সরকারের সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী ব্যারিষ্টার নাজমুল হুদা ২০০৮ সালে কুষ্টিয়া শহরতলীর বটতৈলে ভুমি অধিগ্রহন এবং অর্থ বরাদ্দ ছাড়াই কুষ্টিয়া বাইপাস সড়ক নির্মানের ফলক উন্মোচন করেছিলেন।
বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় এসে জমি অধিগ্রহনসহ বিভিন্ন কাজ হাতে নেয়। মাপযোগ ও জমির মালিকদের ৩ ধারা ও সর্বশেষ ৬ ধারায় চিঠি দিয়ে থেমে ছিল কাজ। সেগুলো সমাধান করে বাইপাস সড়কের কাজ এগিয়ে নেয়।
বিগত সরকারের প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রী পরিষদের সদস্যরা  কুষ্টিয়ার এই বাইপাস সড়কটি দ্রুতত নির্মাণ করা হবে বলে কুষ্টিয়াতে বিভিন্ন সভা সমাবেশে ঘোষনা দিলেও  সেটি আলোর মুখ দেখতে পায়নি।
এলাকাবাসিরা জানায়, নির্বাচনের আগে এবং পরে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা এবং বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া একাধিক বার কুষ্টিয়ার বটতৈল থেকে বারখাদা ত্রিমোহনী পর্যন্ত বাইপাস সড়কটি নির্মানের প্রতিশ্র“তি দিয়ে বলেছিলেন, তাদের সরকারের সময়ে যত দ্রুত সম্ভব কুষ্টিয়ার এই বাইপাস সড়কটি নির্মান সম্পন্ন করা হবে। অবশেষে আওয়ামীলীগ সরকারের সময়েই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্র“তি বাস্তবায়নে বাইপাস সড়কটি নির্মাণ হলো। কুষ্টিয়াবাসীসহ এলাকাবাসীর দাবী অবশেষে পূরণ হলো।

86 total views, 3 views today

121,970 total views, 751 views today

প্রধান খবর

  • আজ ৯ ডিসেম্বর কুমারখালী হানাদার মুক্ত দিবস

    কুমারখালি প্রতিনিধি : ১৯৭১ সালের ৯ ডিসেম্বর এই দিনে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করে কুমারখালীর মুক্তিযোদ্ধারা বিজয় ছিনিয়ে এনেছিলেন এবং কুমারখালীকে হানাদার মুক্ত করেছিলেন।

    ১৯৭১ সালের ৭ ডিসেম্বর সকালে মুক্তিযোদ্ধারা পরিকল্পিত ভাবে কুমারখালীতে প্রবেশ করে শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত কুন্ডুপাড়ার রাজাকারদের ক্যাম্প আক্রমণ করেন। রাজাকার কমান্ডার ফিরোজ বাহিনীর সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের তুমুল যুদ্ধ শুরু হয়।

    এ খবর কুষ্টিয়া জেলা শহরে অবস্থানরত পাক-সেনাদের কাছে পৌঁছালে তারা দ্রুত কুমারখালীতে এসে গুলিবর্ষণ করতে থাকলে পুরো শহর আতঙ্ক গ্রস্থ হয়ে পড়ে। এবং মুক্তিযোদ্ধারা তাদের অkkkkপর্যাপ্ত অস্ত্র ও সংখ্যায় কম থাকায় শহর ত্যাগ করেন।

    এ সময় পাকিস্তানি বাহিনী ও রাজাকাররা কুমারখালী শহরজুড়ে হত্যাযজ্ঞ, অগ্নিসংযোগ ও লুটতরাজ শুরু করে।৭ ডিসেম্বরের যুদ্ধে পাকিস্তানী বাহিনীর হাতে আওয়ামী লীগ নেতা মুক্তিযোদ্ধা তোসাদ্দেক হোসেন ননী মিয়া শহীদ হন।
    পাকিস্তানী হানাদারদের হত্যাযজ্ঞের শিকার হয়েছিলেন মুক্তিকামী বীর বাঙালী সামসুজ্জামান স্বপন, সাইফুদ্দিন বিশ্বাস, আব্দুল আজিজ মোল্লা, শাহাদত আলী, কাঞ্চন কুন্ডু, আবু বক্কার সিদ্দিক, আহমেদ আলী বিশ্বাস, আব্দুল গনি খাঁ, সামসুদ্দিন খাঁ, আব্দুল মজিদ ও আশুতোষ বিশ্বাস মঙ্গল।

    পরবর্তীতে মুক্তিযোদ্ধারা সুসংগঠিত হয়ে ৯ ডিসেম্বর পাকবাহিনীর ক্যাম্পে (বর্তমানে কুমারখালী উপজেলা পরিষদ) আক্রমণ করেন।

    দীর্ঘসময় যুদ্ধের পর পাকিস্তানি বাহিনী মুক্তিযোদ্ধাদের আক্রমণের কাছে টিকতে না পেরে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় । ৯ ডিসেম্বরের যুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে রাজাকার কমান্ডার খুশি মারা যায়।

    এইদিন কুমারখালী শহর হানাদার মুক্ত হওয়ার পর সর্বস্তরের জনতা এবং মুক্তিযোদ্ধারা রাস্তায় নেমে আনন্দ মিছিল বের করেন।

    6,939 total views, 649 views today

আজকের খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : খালিদ হাসান সিপাই.

নির্বাহী সম্পাদক : মাজহারুল হক মমিন।

বড় জামে মসজিদ মার্কেট, এন এস রোড কুষ্টিয়া।

০১৭১৬২৬৮৮৫৮, E-mail: Kushtiardiganta@gmail.com .