শিরোনাম

কুষ্টিয়া শহর বাইপাস উদ্বোধন ৩০ অক্টোবর

kushtia bipusস্টাফ রিপোর্টার: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আজ ৩০ অক্টোবর মঙ্গলবার কুষ্টিয়া শহর বাইপাস সড়কটি উদ্বোধন করবেন। ১২০ কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত বাইপাস সড়কটি খুলে দেয়া হলে এ অঞ্চলের সড়ক ব্যবস্থায় এক নব দিগন্তের সূচনা হবে। দেশের উত্তরবঙ্গের সাথে দক্ষিণবঙ্গের একমাত্র যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার হবে কুষ্টিয়া শহর বাইপাস সড়ক। কুষ্টিয়া শহরকে নিরাপদ রাখতে ২০১৬ সালে ব্যস্ততম সড়কের বিকল্প বাইপাস সড়ক নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এদিকে নির্বাচনের আগ দিয়ে বহুল প্রত্যাশিত এ প্রকল্পটি উদ্বোধন হওয়ায় খুশি ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মি থেকে শুরু করে সাধারন মানুষ। শনিবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সড়কের শতভাগ কাজ শেষ হয়েছে। উদ্বোধনের জন্য সব
প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ।
কুষ্টিয়া সড়ক ও জনপথ সুত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ২৮ জানুয়ারি ১২০ কোটি টাকা ব্যয়ে কুষ্টিয়া শহর বাইপাস সড়ক নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ৭ কিলোমিটারের সড়কটি নির্মাণে কার্যাদেশ পান ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মনিকো লিমিটেড। ২০০৫ সাল থেকে বাইপাস নির্মাণ প্রক্রিয়া শুরু হলেও ভুমি অধিগ্রহণ জটিলতায় তা আটকে যায়। পরে ২০০৭-০৮ অর্থবছরে ফের শুরু হয় অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া। নানা অনিশ্চিয়তার পর শেষ পর্যন্ত ২০১৬ সালে আলোর মুখ দেখতে পায় প্রকল্পটি। এরপর দ্রুতগতিতে বাইপাস সড়ক নির্মাণ কাজ এগিয়ে যায়। সব জল্পনা-কল্পনা শেষে চলতি মাসের ৩০ অক্টোবর থেকে কুষ্টিয়া শহর বাইপাস সড়ককে গাড়ি চলতে যাচ্ছে। প্রকল্পের ৭ দশমিক ৩ মিটার প্রশস্তের ডাবল লেনবিশিষ্ট মূল সড়কের ৪ কিলোমিটার প্রায় সাড়ে ৬ কিলোমিটার দৈঘ্যের বাইপাস সড়ক, একটি পিসি গার্ডার সেতু ও ২১টি আরসিসি বক্স কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে।
এদিকে সড়কটি চালু হলে জেলার আর্থসামাজিক চিত্র বদলে যাবে বলে মনে করছেন সাধারণ মানুষ। অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের ক্ষেত্রে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জেলা কুষ্টিয়া। উর্বর কৃষিজমি এ জেলার অর্থনীতির মূল ভিত্তি হলেও গত তিন দশকে এখানে গড়ে উঠেছে নানামুখী শিল্প। তবে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার দিক দিয়ে জেলাটি দীর্ঘদিন পিছিয়ে ছিল। বিশেষ করে শহরের ওপর দিয়ে যাওয়া মহাসড়কটি নিয়ে স্থানীয়দের অভিযোগ ছিল দীর্ঘদিনের। কারণ সড়কটিতে যানজট ও দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ছিল নিত্য ঘটনা।
স্থানীয়রা বলছেন, সড়কটি খুলে দেয়া হলে দুর্ঘটনা তো কমবেই, একই সঙ্গে জেলার অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নেও রাখবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। স্থানীয়রা আরো জানান, বাইপাস সড়টি খুলে দেয়া হলে এটি জেলার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখবে। কমে আসবে অনাকাঙ্খিত যানজট। জেলায় উৎপাদিত কৃষিপণ্য পরিবহন আরো সহজ হবে। সহজ হবে এসব পণ্য অন্যান্য জেলায় পরিবহনও। এখানে বেশকিছু মাঝারি, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প রয়েছে। বাইপাস সড়ক নির্মাণ হলে কৃষি ছাড়াও এসব শিল্প আরো বিকশিত হওয়ার সুযোগ পাবে। এতে এ অঞ্চলের মানুষের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে, বাড়বে জীবনমানও। সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম বলেন, বাইপাস সড়কের কাজ শতভাগ শেষ হয়েছে। এখন শুধু খুলে দেয়ার অপেক্ষা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ৩০ অক্টোবর সড়কটি উদ্বোধন করবেন। সড়কটি খুলে দেয়া হলে শহরে গাড়ির চাপ যেমন কমবে তেমনি কমে যাবে দুর্ঘটনা। সড়কের দুই পাশে দৃষ্টিনন্দন করতে গাছও লাগানো হয়েছে।’
জেলা বাস মিনিবাস মালিক গ্রুপের সভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক আজগর আলী বলেন, বাইপাস সড়কটি কুষ্টিয়ার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন হাজার হাজার বাস, ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহন শহরের ওপর দিয়ে যাতায়াত করে। এতে অনেক সমস্যা হয়। সড়কটি খুলে দিলে সবাই উপকৃত হবে। আর এটি আমাদের দলের নেতার অন্যতম প্রতিশ্রুতি ছিল। ্যথাসময়ে বাস্তবায়ন হওয়ায় সাধারন মানুষ খুশি।

39 total views, 2 views today

121,927 total views, 708 views today

প্রধান খবর

  • আজ ৯ ডিসেম্বর কুমারখালী হানাদার মুক্ত দিবস

    কুমারখালি প্রতিনিধি : ১৯৭১ সালের ৯ ডিসেম্বর এই দিনে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করে কুমারখালীর মুক্তিযোদ্ধারা বিজয় ছিনিয়ে এনেছিলেন এবং কুমারখালীকে হানাদার মুক্ত করেছিলেন।

    ১৯৭১ সালের ৭ ডিসেম্বর সকালে মুক্তিযোদ্ধারা পরিকল্পিত ভাবে কুমারখালীতে প্রবেশ করে শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত কুন্ডুপাড়ার রাজাকারদের ক্যাম্প আক্রমণ করেন। রাজাকার কমান্ডার ফিরোজ বাহিনীর সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের তুমুল যুদ্ধ শুরু হয়।

    এ খবর কুষ্টিয়া জেলা শহরে অবস্থানরত পাক-সেনাদের কাছে পৌঁছালে তারা দ্রুত কুমারখালীতে এসে গুলিবর্ষণ করতে থাকলে পুরো শহর আতঙ্ক গ্রস্থ হয়ে পড়ে। এবং মুক্তিযোদ্ধারা তাদের অkkkkপর্যাপ্ত অস্ত্র ও সংখ্যায় কম থাকায় শহর ত্যাগ করেন।

    এ সময় পাকিস্তানি বাহিনী ও রাজাকাররা কুমারখালী শহরজুড়ে হত্যাযজ্ঞ, অগ্নিসংযোগ ও লুটতরাজ শুরু করে।৭ ডিসেম্বরের যুদ্ধে পাকিস্তানী বাহিনীর হাতে আওয়ামী লীগ নেতা মুক্তিযোদ্ধা তোসাদ্দেক হোসেন ননী মিয়া শহীদ হন।
    পাকিস্তানী হানাদারদের হত্যাযজ্ঞের শিকার হয়েছিলেন মুক্তিকামী বীর বাঙালী সামসুজ্জামান স্বপন, সাইফুদ্দিন বিশ্বাস, আব্দুল আজিজ মোল্লা, শাহাদত আলী, কাঞ্চন কুন্ডু, আবু বক্কার সিদ্দিক, আহমেদ আলী বিশ্বাস, আব্দুল গনি খাঁ, সামসুদ্দিন খাঁ, আব্দুল মজিদ ও আশুতোষ বিশ্বাস মঙ্গল।

    পরবর্তীতে মুক্তিযোদ্ধারা সুসংগঠিত হয়ে ৯ ডিসেম্বর পাকবাহিনীর ক্যাম্পে (বর্তমানে কুমারখালী উপজেলা পরিষদ) আক্রমণ করেন।

    দীর্ঘসময় যুদ্ধের পর পাকিস্তানি বাহিনী মুক্তিযোদ্ধাদের আক্রমণের কাছে টিকতে না পেরে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় । ৯ ডিসেম্বরের যুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে রাজাকার কমান্ডার খুশি মারা যায়।

    এইদিন কুমারখালী শহর হানাদার মুক্ত হওয়ার পর সর্বস্তরের জনতা এবং মুক্তিযোদ্ধারা রাস্তায় নেমে আনন্দ মিছিল বের করেন।

    6,918 total views, 628 views today

আজকের খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : খালিদ হাসান সিপাই.

নির্বাহী সম্পাদক : মাজহারুল হক মমিন।

বড় জামে মসজিদ মার্কেট, এন এস রোড কুষ্টিয়া।

০১৭১৬২৬৮৮৫৮, E-mail: Kushtiardiganta@gmail.com .