শিরোনাম

কুমারখালীতে গড়াই নদীর এলংগী আচার্য্য গ্রাম রক্ষা বাঁধে ধ্বস-ভাঙ্গন

মাহমুদ শরীফ ঃ জেলার কুমারখালী উপজেলার শহরতলীর এলংগী আচার্য্য গ্রাম রক্ষা বাঁধে ধ্বস ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। গড়াই নদীর পানি হ্রাসের সাথে সাথে প্রায় প্রতিদিনই বাঁধের কিছু অংশ গড়াই গর্ভে ধ্বসে যাচ্ছে। ফলে বিলীন হওয়ার হুমকীর মুখে পড়েছে কুমারখালী শহর-বড়ুরিয়া গ্রাম সংযোগ সড়ক এবং এলংগী আচার্য্য সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বসতবাড়ী ও নানান স্থাপনা
জানা যায়, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড ২০০৩-২০০৪ অর্থ বছরে দুইটি পর45500430_2179110965697568_2753244503987978240_n্যায়ে আট কোটি টাকা ব্যয় করে ৫৫ মিটার এলংগী আচার্য্য গ্রাম রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করেছিল। গত দুই বছর যাবত উক্ত গ্রাম রক্ষা বাঁধে ধ্বস ভাঙ্গন পরিলক্ষিত হচ্ছে। এবছর নদীর পানি নেমে যাওয়ার সাথে সাথে বাঁধে ভাঙ্গনের তীব্রতাও বেড়েছে। ফলে আতংকের মধ্যে দিনানিপাত করছে এলাকাবাসী।
গতকাল শহরতলীর এলংগী আচার্য্য গ্রাম রক্ষা বাঁধ ধ্বস ভাঙ্গন সরেজমিন পরিদর্শনে গেলে দেখা যায়, ৫৫ মিটার বাঁধের প্রায় ৪০মিটার ভাঙ্গনের কবলে পড়েছে। ব্লগগুলো খসে খসে নদীতে চলে যাচ্ছে। কোন কোন স্থানে দেবে যাচ্ছে ধীরে ধীরে। এই ধ্বস ভাঙ্গনের কারণ হিসেবে নন্দলালপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম এই প্রতিবেদককে জানান, গ্রামে গড়াই নদীর তীর এলাকায় বেশ কিছু পুকুর থাকায় নিচ দিয়ে গলন রয়েছে। সে জন্য ঝর্ণার ধারা পরিলক্ষিত হয়। তাছাড়া গড়াই নদী খনন অত্র গ্রাম রক্ষা বাঁধের নিকট দিয়ে করার কারনেও এই ধ্বস ভাঙ্গনের সৃষ্টি হতে পারে। তিনি আরো জানান, গ্রাম রক্ষা বাঁধের উপরে থাকা কুমারখালী শহর-বড়ুরিয়া গ্রাম সংযোগ সড়কটি এখনও ৩/৫টি গ্রামের মানুষের যাতায়াতের প্রধান পথ। শহরের থেকে বের হয়ে নদীর তীর দিয়ে সড়কটি এলংগী, বড়–রিয়া, সোন্দাহ, বাঁশআড়া, কাশিমপুর হয়ে গড়াই সেতু পর্যন্ত পৌছেছে। এই সড়ক দিয়েই এক সময় বাউল সম্রাট লালন শাহ, উপন্যাসিক মীর মশাররফ হোসেন কুমারখালী শহরের কুন্ডুপাড়ায় গ্রামীণ সাংবাদিকতার পথিকৃৎ কাঙ্গাল হরিনাথ মজুমদারের কাছে আসতেন বলে ইতিহাসে উল্লেখ রয়েছে, সে কারনে হুমকীর মুখে থাকা ঐ সড়কটিরও রয়েছে ঐতিহাসিক গুরুত্ব।
এলংগী আচার্য্য গ্রাম রক্ষা বাঁধ ধ্বস ভাঙ্গনের ব্যাপারে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবি) কুষ্টিয়া অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী পিযুষ কুমার কুন্ডু জানান, ভাঙ্গনের বিষয়টি শুনেছি। পরিদর্শন পূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। ভাঙ্গন কবলিত এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহনের জোর দাবী জানিয়েছেন।
কুমারখালী (কুষ্টিয়া) ঃ শহরতলীর এলংগী আচার্য্য গ্রাম রক্ষা বাঁধে ধ্বস ভাঙ্গন

33 total views, 2 views today

121,870 total views, 651 views today

প্রধান খবর

  • আজ ৯ ডিসেম্বর কুমারখালী হানাদার মুক্ত দিবস

    কুমারখালি প্রতিনিধি : ১৯৭১ সালের ৯ ডিসেম্বর এই দিনে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করে কুমারখালীর মুক্তিযোদ্ধারা বিজয় ছিনিয়ে এনেছিলেন এবং কুমারখালীকে হানাদার মুক্ত করেছিলেন।

    ১৯৭১ সালের ৭ ডিসেম্বর সকালে মুক্তিযোদ্ধারা পরিকল্পিত ভাবে কুমারখালীতে প্রবেশ করে শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত কুন্ডুপাড়ার রাজাকারদের ক্যাম্প আক্রমণ করেন। রাজাকার কমান্ডার ফিরোজ বাহিনীর সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের তুমুল যুদ্ধ শুরু হয়।

    এ খবর কুষ্টিয়া জেলা শহরে অবস্থানরত পাক-সেনাদের কাছে পৌঁছালে তারা দ্রুত কুমারখালীতে এসে গুলিবর্ষণ করতে থাকলে পুরো শহর আতঙ্ক গ্রস্থ হয়ে পড়ে। এবং মুক্তিযোদ্ধারা তাদের অkkkkপর্যাপ্ত অস্ত্র ও সংখ্যায় কম থাকায় শহর ত্যাগ করেন।

    এ সময় পাকিস্তানি বাহিনী ও রাজাকাররা কুমারখালী শহরজুড়ে হত্যাযজ্ঞ, অগ্নিসংযোগ ও লুটতরাজ শুরু করে।৭ ডিসেম্বরের যুদ্ধে পাকিস্তানী বাহিনীর হাতে আওয়ামী লীগ নেতা মুক্তিযোদ্ধা তোসাদ্দেক হোসেন ননী মিয়া শহীদ হন।
    পাকিস্তানী হানাদারদের হত্যাযজ্ঞের শিকার হয়েছিলেন মুক্তিকামী বীর বাঙালী সামসুজ্জামান স্বপন, সাইফুদ্দিন বিশ্বাস, আব্দুল আজিজ মোল্লা, শাহাদত আলী, কাঞ্চন কুন্ডু, আবু বক্কার সিদ্দিক, আহমেদ আলী বিশ্বাস, আব্দুল গনি খাঁ, সামসুদ্দিন খাঁ, আব্দুল মজিদ ও আশুতোষ বিশ্বাস মঙ্গল।

    পরবর্তীতে মুক্তিযোদ্ধারা সুসংগঠিত হয়ে ৯ ডিসেম্বর পাকবাহিনীর ক্যাম্পে (বর্তমানে কুমারখালী উপজেলা পরিষদ) আক্রমণ করেন।

    দীর্ঘসময় যুদ্ধের পর পাকিস্তানি বাহিনী মুক্তিযোদ্ধাদের আক্রমণের কাছে টিকতে না পেরে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় । ৯ ডিসেম্বরের যুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে রাজাকার কমান্ডার খুশি মারা যায়।

    এইদিন কুমারখালী শহর হানাদার মুক্ত হওয়ার পর সর্বস্তরের জনতা এবং মুক্তিযোদ্ধারা রাস্তায় নেমে আনন্দ মিছিল বের করেন।

    6,862 total views, 572 views today

আজকের খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : খালিদ হাসান সিপাই.

নির্বাহী সম্পাদক : মাজহারুল হক মমিন।

বড় জামে মসজিদ মার্কেট, এন এস রোড কুষ্টিয়া।

০১৭১৬২৬৮৮৫৮, E-mail: Kushtiardiganta@gmail.com .