শিরোনাম

দেশ এখন স্বাধীন

খাদিজা তুত তাহিরা

ভোর বেলা রমজান দৌড়াচ্ছিল আর বলছিল, গ্রামবাসী পালাও, রাতের শেষ প্রহরে পাকিস্থানি সৈন্যরা হামলা চালিয়েছে। রহিম চাচার বাড়িতে ওরা আগুন দিয়েছে, দাউ দাউ করে জ্বলছে চাচার বাড়ি।খবর পেয়ে গ্রামবাসী আতঙ্কিত হয়ে পালাতে শুরু করলো। প্রীতি সাজিদকে বলল, সাজিদ তুমি কি শুনেছো?রহিম চাচার বাড়িতে পাকিস্থানি হায়েনারা আগুন দিয়েছে? শুনে সাজিদ কুড়িগ্রামের রাস্তা ধরে দৌড়াচ্ছিল আর বলছিল, ” সকলে সাবধানে থাকবেন, মিলিটারিরা হামলা চালিয়েছে, রিহম চাচার বাড়িতে আগুন দিয়েছে।

” মিলি নিজ গ্রাম হতে অন্য গ্রামে পালিয়ে যাবার কালে পথে অর্পার সাথে দেখা হল। সে বলল,” জান, গ্রামের কি অবস্থা?”অর্পা বলল, না সে জানেনা। মিলি বলল, গ্রামে মিলিটারি আক্রমন করেছে,বাড়ি ঘরে আগুন দিচ্ছে, মেয়েদের বিশেষ করে যুবতী মেয়েদের, যাকে পাচ্ছে তুলে নিয়ে যাচ্ছে তাদের ডেরায় আর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাচ্ছে।তাইতো আতঙ্কে আমি পালাচ্ছি।flag-01201318

অর্পা তার বাড়ির দিকে হাটতে হাটতে বলল, শোন মিলি, আমরা যদি সবাই এভাবে ভয় পেয়ে পালাতে থাকি,তাহলে ওরা পেয়ে বসবে আর নির্যতনের মাত্রাও বাড়িয়ে দিবে।তারা আমাদের কাউকেই বাঁচতে দিবেনা। ওরা গ্রামকে গ্রাম নিশ্চিহ্ন করে দিবে।আমরা ঐ হায়েনাদের প্রতিরোধ করবো, তানাহলে আমরা আমাদের দেশ ও আমরা কেউই আস্ত থাকতে পারবো না। গড়ে তুলবো প্রতিরোধের দেয়াল।

আমাদের যা আছে তাই নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। সাজিদ নিজে এবং তার বন্ধু সারোয়ার,বিল্টু ও সবুজকে বলে, এসো আমরা আমাদের মা বোনদের ইজ্জত আর দেশকে বাঁচাতে প্রয়োজনে নিজের প্রাণটাও বিলিয়ে দেই। এ ভাবেই সবার কন্ঠে বেজে উঠে একই সুর।

মরতপ হলে মরবো, তবুও আমাদের দেশ কে স্বাধীন করে ছারবো। প্রীতি, মিলি ও নীপারাও ভাবলো যে, আমাদের ভায়েরা যদি যুদ্ধে যায়,তাহলে তাদের পাশে আমাদেরও থাকা দরকার। তাদের সাহস ও উৎসাহ দিব।

প্রয়োজনে তাদের কাঁধে কাঁধে মিলিয়ে যুদ্ধ করবো। আমাদের মান বাঁচাতে ঘরে বসে থাকলে চলবে না। প্রয়োজনে আহত যোদ্ধা ভাইদের সেবিকার মতো সেবা করবো, এভাবে সবাই একতা বদ্ধ হলো এবং জমিলার মাসির বাড়িতে সবাই অবস্থান নিলো।

 

 

 

 

33 total views, 2 views today

149,858 total views, 504 views today

প্রধান খবর

  • আজ ৯ ডিসেম্বর কুমারখালী হানাদার মুক্ত দিবস

    কুমারখালি প্রতিনিধি : ১৯৭১ সালের ৯ ডিসেম্বর এই দিনে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করে কুমারখালীর মুক্তিযোদ্ধারা বিজয় ছিনিয়ে এনেছিলেন এবং কুমারখালীকে হানাদার মুক্ত করেছিলেন।

    ১৯৭১ সালের ৭ ডিসেম্বর সকালে মুক্তিযোদ্ধারা পরিকল্পিত ভাবে কুমারখালীতে প্রবেশ করে শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত কুন্ডুপাড়ার রাজাকারদের ক্যাম্প আক্রমণ করেন। রাজাকার কমান্ডার ফিরোজ বাহিনীর সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের তুমুল যুদ্ধ শুরু হয়।

    এ খবর কুষ্টিয়া জেলা শহরে অবস্থানরত পাক-সেনাদের কাছে পৌঁছালে তারা দ্রুত কুমারখালীতে এসে গুলিবর্ষণ করতে থাকলে পুরো শহর আতঙ্ক গ্রস্থ হয়ে পড়ে। এবং মুক্তিযোদ্ধারা তাদের অkkkkপর্যাপ্ত অস্ত্র ও সংখ্যায় কম থাকায় শহর ত্যাগ করেন।

    এ সময় পাকিস্তানি বাহিনী ও রাজাকাররা কুমারখালী শহরজুড়ে হত্যাযজ্ঞ, অগ্নিসংযোগ ও লুটতরাজ শুরু করে।৭ ডিসেম্বরের যুদ্ধে পাকিস্তানী বাহিনীর হাতে আওয়ামী লীগ নেতা মুক্তিযোদ্ধা তোসাদ্দেক হোসেন ননী মিয়া শহীদ হন।
    পাকিস্তানী হানাদারদের হত্যাযজ্ঞের শিকার হয়েছিলেন মুক্তিকামী বীর বাঙালী সামসুজ্জামান স্বপন, সাইফুদ্দিন বিশ্বাস, আব্দুল আজিজ মোল্লা, শাহাদত আলী, কাঞ্চন কুন্ডু, আবু বক্কার সিদ্দিক, আহমেদ আলী বিশ্বাস, আব্দুল গনি খাঁ, সামসুদ্দিন খাঁ, আব্দুল মজিদ ও আশুতোষ বিশ্বাস মঙ্গল।

    পরবর্তীতে মুক্তিযোদ্ধারা সুসংগঠিত হয়ে ৯ ডিসেম্বর পাকবাহিনীর ক্যাম্পে (বর্তমানে কুমারখালী উপজেলা পরিষদ) আক্রমণ করেন।

    দীর্ঘসময় যুদ্ধের পর পাকিস্তানি বাহিনী মুক্তিযোদ্ধাদের আক্রমণের কাছে টিকতে না পেরে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় । ৯ ডিসেম্বরের যুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে রাজাকার কমান্ডার খুশি মারা যায়।

    এইদিন কুমারখালী শহর হানাদার মুক্ত হওয়ার পর সর্বস্তরের জনতা এবং মুক্তিযোদ্ধারা রাস্তায় নেমে আনন্দ মিছিল বের করেন।

    29,207 total views, 484 views today

আজকের খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : খালিদ হাসান সিপাই.

নির্বাহী সম্পাদক : মাজহারুল হক মমিন।

বড় জামে মসজিদ মার্কেট, এন এস রোড কুষ্টিয়া।

০১৭১৬২৬৮৮৫৮, E-mail: Kushtiardiganta@gmail.com .