ঢাকাWednesday , 28 October 2020
  1. epaper
  2. অর্থনীতি
  3. আইন ও অপরাধ
  4. আন্তর্জাতিক
  5. ইতিহাস ঐতিহ্য
  6. ইসলামি দিগন্ত
  7. কুষ্টিয়ার সংবাদ
  8. কৃষি দিগন্ত
  9. খেলাধুলা
  10. গণমাধ্যম
  11. জনদূর্ভোগ
  12. জাতীয়
  13. জেলার খবর
  14. তথ্য প্রযুক্তি
  15. দিগন্ত এক্সক্লুসিভ

ভেড়ামারায় নির্যাতন ও শ্বাসরোধে গৃহবধু হত্যা, পুলিশের সুরৎহালে আত্মহত্যা

Link Copied!

 

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি॥ ২৮অক্টোবর,২০২০॥ কুষ্টিয়া ভেড়ামারায় পিটিয়ে ও শ্বাসরোধে নববধু হত্যার ঘটনাটি কে আত্মহত্যা হত্যা বলে চালিয়ের দেয়ার অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে। নিহতের পরিবার ও ঘটনাস্থলের একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীর অভিযোগ শারিরীক নির্যাতন ও গলাটিপে শ্বাসরেধে হত্যা করেছে গৃহবধু শাহিদা বেগম ভাবনা (৩০) কে। বিক্ষুব্ধ স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জড়িত অভিযোগে নিহতের শাশুড়ী ঝরণা খাতুনকে আটক করে পুলিশের কাছে সৌপর্দ করেন বলে নিশ্চিত করেন স্থানীয় বাহাদুরপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আসিকুর রহমান।

সংবাদ পেয়ে ভেড়ামারা থানা পুলিশের ৬৬নং বিট ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক জাহাঙ্গীর আলম সংগীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থল থেকে নিহতের লাশ এবং এলাকাবাসীর হাতে আটক নিহতের শ^াশুড়ী ঝরণা খাতুনকে উদ্ধার করে ভেড়ামারা থানায় সৌপর্দ করেন। কিন্তু লাশ উদ্ধারকালে প্রস্তুতকৃত সুরৎহাল রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে আত্মহত্যা। নিহতের গলায় চন্দ্রাকৃতির কালো দাগ ব্যাতীত সারা শরীর উলট-পালট করে দেখেও কোনরূপ ক্ষতচিহ্ন বা দাগ পাওয়া যায়নি।

নিহত শাহিদা বেগমের ভাই ঈশ্বরদী উপজেলার পিয়ারপুর গ্রামের নজরুল ইসলাম আকালীর ছেলে আকরাম হোসেন বলেন, এটি আমার বোনের দ্বিতীয় বিয়ে। প্রথম স্বামী অন্যত্র আরেকটি বিয়ে করায় দীর্ঘদিন স্বামী পরিত্যাক্তা শাহিদা ঈশ্বরদী ইপিজেডে একটি কারখানায় কাজ করত। সেখানেই কাজ করত ভেড়ামারা উপজেলার ঠাকুর দৌলতপুর গ্রামের মহিবুলের ছেলে সোহেল। কিছুদিন আগে করোনার কারণে সে বিদেশ থেকে ফিরে আসে। এরই মাঝে দু’জনের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে উঠে। এক পর্যায়ে শাহিদা বেগম ওরফে ভাবনা খাতুন এবং সোহেল নিজেরাই বিয়ে করেন। গত ১৫দিন পূর্বে সোহেল আমার বোনকে তার বাড়িতে নিয়ে আসে। এসময় সোহেলের মা ঝরণা খাতুনের প্রবল আপত্তি যে, আমাদের কথা না শুনে তুই নিজে থেকে বিয়ে করেছিস ভালো, কিন্তু বিদেশ যাওয়ার সময় যে ৪লাখ টাকা ঋনী হয়েছিস সেই টাকা তোর বউকে শোধ করতে বল। এই কথা বলে ৪লাখ টাকার দাবি করে এক সপ্তাহের মধ্যেই শাহিদার উপর নির্যাতন শুরু করে। বিষয়টি আমার বোন মোবাইল করে আমাদের জানিয়েছেন। এসব কল রেকর্ড আমার কাছে আছে। সেকারনে আমি জোড়ালো ভাবে বিশ^াস করি ওরা যৌতুক দাবির টাকা না পেয়েই আমার বোনের উপর নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করেছে।

নিহতের বড় ভাই টিটনের অভিযোগ, ‘তার বোনকে হত্যা করা হয়েছে। কারণ পুলিশ লাশ উদ্ধার করেছে মাটিতে শোয়ানো অবস্থায়, ঝুলন্ত অবস্থা পুলিশ দেখেনি। তাছাড়া আত্মহত্যাই যদি হবে তাহলে এলাকাবাসী ওর শ^াশুড়ী ঝরনা খাতুনকে বেধে রেখে পুলিশে দেবে কেন ? আমরা সংবাদ পেয়ে ভেড়ামারা থানাতে গেলে পুলিশ আমাদের আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা দিতে চাপ দেয়। আমি তাতে রাজি হয়নি। কারণ আমার বোনের শরীরে বিভিন্ন স্থানে নির্যাতনের আঘাতে কালশিরা দাগ রয়েছে। অথচ সুরৎহাল রিপোর্টে পুলিশ কোন আঘাতের চিহ্নের কথা উল্লেখ করেনি। আমি এই হত্যাকান্ডের সঠিক তদন্তসহ নায্য বিচার চাই।
নাম প্রকাশ না করা শর্তে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের একজন ময়না তদন্ত সহকারী নিহত শাহিদা বেগমের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত জনিত কালশিরা দাগ ছিলো বলে প্রতিবেদককে নিশ্চিত করেছেন।

লাশের সুরৎহাল প্রস্তুতকারী পুলিশ কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক জাহ্ঙ্গাীর আলম বলেন, সাহিদা বেগম ভাবনার লাশ উদ্ধারকালে আমি যেভাবে দেখেছি, সেভাবেই উল্লেখ করেছি। অন্যেরা কে কি বল্লেন তাতে আমার কিছু যায় আসে না।

ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, গৃহবধু শাহিদা বেগমের মৃত্যুর ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে দ:বি: ৩০৬ধারায় মামলা রেকর্ড হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে লাশের ময়না তদন্ত শেষে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে। এঘটনায় আত্মহত্যা প্ররোচনা অভিযোগে গ্রেফতাকৃত নিহতের শাশুড়ী ঝরণা খাতুনকে আদালতে সৌপর্দ করা হয়েছে। তার স্বামীকেও গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।