ঢাকাTuesday , 15 February 2022
  1. epaper
  2. অর্থনীতি
  3. আইন ও অপরাধ
  4. আন্তর্জাতিক
  5. ইতিহাস ঐতিহ্য
  6. ইসলামি দিগন্ত
  7. কুষ্টিয়ার সংবাদ
  8. কৃষি দিগন্ত
  9. খেলাধুলা
  10. গণমাধ্যম
  11. জনদূর্ভোগ
  12. জাতীয়
  13. জেলার খবর
  14. তথ্য প্রযুক্তি
  15. দিগন্ত এক্সক্লুসিভ

২১ বছর কেটে গেছে, বাস্তবায়ন হয়নি ‌‘খুলনা ঘোষণা’র একটি দফাও

Link Copied!

সুন্দরবনের জন্য ‘খুলনা ঘোষণা’ নামে ১৮ দফার সংরক্ষণ কৌশল দাবি করা হয়েছিল ২০০১ সালে। ওই অঞ্চলের মানুষের প্রেক্ষিতে সুন্দরবন দিবসে জাতীয় সম্মেলনের মাধ্যমে ‘খুলনা ঘোষণা’ করা হয়। তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ও প্রধান বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ সম্মেলনের ফিতা কাটেন।

সুন্দরবন রক্ষায় ব্যাপক জনমত সৃষ্টির ফলে ‘খুলনা ঘোষণা’ ব্যাপক সমর্থন পায়। কিন্তু ২১ বছরেও এ ঘোষণার বাস্তবায়ন হয়নি। সুন্দরবনের সংকট এখন আরও প্রকট হয়েছে। নদী দূষণ বেড়েছে। নদী ভরাট হচ্ছে ও ভাঙছে। উদ্ভিদ-প্রাণীর ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে।

‘খু‌লনা ঘোষণা’র ১৮ দফার প্রথমেই রয়েছে—সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের লক্ষ্যে এ অঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাতে হবে। এরপরে রয়েছে, জাতীয় প্রতীক হিসেবে চিহ্নিত সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগার রক্ষা, হরিণসহ সকল প্রকার প্রাণী হত্যা বন্ধসহ যাবতীয় বেআইনি কার্যকলাপ বন্ধ, সুন্দরবনের পার্শ্ববর্তী এলাকায় উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণে যাতে তার কোনও ক্ষতিকর প্রভাব সুন্দরবনে না পড়ে সে ব্যবস্থা গ্রহণ, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যের অপূর্ব সমাহারকে সংরক্ষণ, নবায়ন ও উন্নয়নের লক্ষ্যে যথোপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ এবং সুন্দরবনের পরিবেশ-প্রতিবেশ বিপন্নকারী যেকোনও কার্যকলাপ বন্ধ করা, আইনানুগভাবে সম্পদ আহরণকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং যথার্থভাবে সুন্দরবন সংরক্ষণের পক্ষের শক্তি হিসেবে তাদেরকে বিকাশে সংগঠিত করা।

ঘোষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ দফা ছিল—খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান, দক্ষতা ও আগ্রহ বিবেচনা করে সুন্দরবনবিষয়ক গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রমে প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ ভূমিকা রাখার সুযোগ প্রদান, সুন্দরবনের সম্পদ ব্যবস্থাপনায়, বিশেষ করে সম্পদ ব্যবহার, নবায়ন ও সংরক্ষণে, বিভিন্ন সরকারী কর্মকাণ্ডে জনগণের ও সুশীল সমাজের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যের সকল উপাদানসমূহের প্রজনন বা বংশবৃদ্ধি, রোগ-বালাইসহ যেকোনও কারণের কোনও একটি উপাদানের আধিক্য বা লোপসহ সকল প্রকার পরিবর্তন সঠিকভাবে শনাক্তকরণ ও তার প্রতিকার করা, সুন্দরবনের অবক্ষয় রোধকল্পে বনবিদ, শিক্ষাবিদ, গবেষক, পরিবেশবিদ, জাতীয় ও স্থানীয় এনজিও, সামাজিক প্রতিষ্ঠান ও জনপ্রতিনিধি সমন্বয়ে নির্বাহী ক্ষমতাসম্পন্ন সুন্দরবন ওয়াচ গ্রুপ বা সুন্দরবন পর্যবেক্ষক দল গঠন করা।

দফাগুলো বাস্তবায়নের জন্য প্রতি বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি সুন্দরবন দিবস পালন করে সুন্দরবন অ্যাকাডেমি। দাবি জানানো হয় সুন্দরবন দিবসকে জাতীয় স্বীকৃতি দেওয়ার। বছরের প্রায় প্রতিটি দিনই বাংলাদেশে কোনও না কোনও আন্তর্জাতিক দিবস বা জাতীয় দিবস উদযাপিত হচ্ছে। অনেক গুরুত্বহীন বিষয়েও বাংলাদেশে বিভিন্ন দিবস উদযাপন করা হয়। কিন্তু বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ এবং বাংলাদেশের জাতীয় বন হয়েও সুন্দরবনের জন্য একটি দিন বরাদ্দ করা যায়নি দুই দশকেরও বেশি সময়ে।

পর্যবেক্ষক মহল বলছেন, ২১ বছর আগে সুন্দরবন সুরক্ষায় ১৮ দফার আদলে যে কথাগুলো বলা হয়েছে, সেগুলো সার্বিকভাবেই সুন্দরবনের জন্য কল্যাণকর।

সুন্দরবন অ্যাকাডেমির উপদেষ্টা ও রূপান্তরের নির্বাহী পরিচালক রফিকুল ইসলাম খোকন বলেন, সুন্দরবনের সঙ্গে এই অঞ্চলের মানুষের জীবনপ্রবাহ ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। সুতরাং এই বনকে রক্ষা করতে হবে এর পরিবেশগত এবং অর্থনৈতিক মূল্য বিবেচনা করেই। কারণ খুলনা-বরিশাল উপকূলীয় অঞ্চলের কোটি মানুষের উপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাব রয়েছে সুন্দরবনের। এছাড়া সুন্দরবনকে আবর্তিত করেই যেন গড়ে উঠেছে এখানকার পরিবেশ ও প্রতিবেশ ব্যবস্থা। তাই এই অঞ্চলের মানুষের বেঁচে থাকার প্রশ্নে সুন্দরবন প্রধান অবলম্বন।

অ্যাকাডেমির নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক আনোয়ারুল কাদির বলেন, বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে সুন্দরবন অ্যাকাডেমির আয়োজনে খুলনাসহ সুন্দরবন সন্নিহিত জেলাসমূহে বেসরকারিভাবে নানাবিধ কর্মসূচি পালিত হয়ে আসছে। দেশের সামগ্রিক পরিবেশসহ উপকূলীয় অঞ্চলের পরিবেশ এবং সুন্দরবননির্ভর মানুষের জীবিকা ও জীবন রক্ষায় সুন্দরবনের অসাধারণ ভূমিকা রয়েছে।

বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।