ঢাকাTuesday , 15 February 2022
  1. epaper
  2. অর্থনীতি
  3. আইন ও অপরাধ
  4. আন্তর্জাতিক
  5. ইতিহাস ঐতিহ্য
  6. ইসলামি দিগন্ত
  7. কুষ্টিয়ার সংবাদ
  8. কৃষি দিগন্ত
  9. খেলাধুলা
  10. গণমাধ্যম
  11. জনদূর্ভোগ
  12. জাতীয়
  13. জেলার খবর
  14. তথ্য প্রযুক্তি
  15. দিগন্ত এক্সক্লুসিভ

দেশে ফোনালাপ রেকর্ড ও ফাঁসের ঘটনার নেপথ্যে কারা?

Link Copied!

দেশে সর্বশেষ আইনমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টার টেলিফোন আলাপ ফাঁসের ঘটনা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন সময় টেলিফোন আলাপের অডিও ফাঁসের ঘটনা ঘটলেও কোন ঘটনার রহস্য উন্মোচন করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।

টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির কর্মকর্তারা বলেছেন, অডিও ফাঁসের কোন ঘটলে তারা সাধারণত এর পরবর্তী ঘটনাবলী মনিটর করে থাকেন।

 

কিন্তু টেলিফোন আলাপের অডিও ফাঁসের ঘটনায় জড়িতদের কেন চিহ্নিত করা যাচ্ছে না-এই প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।

টেলিফোন আলাপ রেকর্ড এবং ফাঁস করা-এই দু’টোই আইনে গুরুতর অপরাধ।

কিন্তু এরপরও হরহামেশাই ফাঁসের ঘটনা ঘটছে দীর্ঘদিন ধরে।

 

মানবাধিকার কর্মীদের মতে, এপর্যন্ত সরকার বিরোধী রাজনীতিকদের টেলিফোন আলাপ ফাঁসের ঘটনা বেশি ঘটেছে।

বিভিন্ন সময় সাধারণ নাগরিকেরও ফোন আলাপ ফাঁস হয়েছে। এসব কোন ঘটনার তদন্ত হয়েছে-কখনও তা জানা যায়নি।

ফাঁসের ঘটনা রহস্যই থাকছে

সর্বশেষ আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের টেলিফোন আলাপের যে কথিত অডিও ফাঁস হয়েছে, এটি তাদের দু’জনের কথোপকথন বলে সরকার থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।

টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করে যে সরকারি সংস্থা, সেই সংস্থা বিটিআরসির ভাইস চেয়ারম্যান সুব্রত রায় মৈত্র বলেছেন, কোন অডিও ফাঁস হলে তারা এর পরবর্তী ঘটনাবলী মনিটর করে থাকেন।

“এটা আমরা তদন্ত ঐভাবে করি না। আমরা মনিটর করি। মনিটর করে আমরা এগুলো ধরার চেষ্টা করি” বলেন তিনি।

কিন্তু ফোন আলাপ কোথায় রেকর্ড করা হয় বা কারা এসব ফাঁস করে-কোন একটি ঘটনায় কী তাদের চিহ্নিত করার গেছে?

এই প্রশ্নে বিটিআরসির ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, “ধরা ঐভাবে পড়েনি বা চিহ্নিত করা যায়নি।”

তিনি আরো বলেন, “অনেক সময় দু’জন ফোনে কথা বলছে, তাদের একজন হয়তো স্পিকার অন করে কথা বলছে। তাদের দু’জনের কেউ যদি রেকর্ড করে ফাঁস করে। সেটা একটা বিষয়।”

“এছাড়া তৃতীয় কোন ব্যক্তি যদি কৌশলে কোন কিছু রেকর্ড করে থাকে, সেটা একটা বিষয় হতে পারে।”

সুব্রত রায় বলেন, “সরকার যেটা করে, সেটা হচ্ছে, রাষ্ট্রের নিরাপত্তার স্বার্থে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো সীমিত পর্যায়ে রেকর্ড করতে পারে। কিন্তু ফাঁস করতে পারে না।”

তদন্ত হয় না

আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কখনও এ ধরনের ঘটনা তদন্ত করেছে এবং তদন্ত শেষ করেছে এমনটা তথ্য পাওয়া যায় না।

পুলিশের উর্ধ্বতন একাধিক কর্মকর্তা বলেছেন, ফোন আলাপ ফাঁস হওয়ার ঘটনা নিয়ে কখনও লিখিত অভিযোগ বা মামলা তারা পাননি।

টেলিফোন আলাপ ফাঁস হওয়ার ঘটনার তদন্ত চেয়ে একটি মানবাধিকার সংস্থা হাইকোর্টে রিট মামলা করেছিল। সেই মামলা এখনও নিস্পত্তি হয়নি।

সে সময়ই একই ধরনের একটি মামলা করেছিলেন একজন ব্যক্তি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঐ ব্যক্তি বলেছেন, মামলা করার পর চাপের কারণে তিনি তা প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন।

তবে কোত্থেকে চাপ এসেছিল, সে ব্যাপারে তিনি কিছু বলতে রাজি হননি।

সাধারণ মানুষের শংকা বাড়ছে

টেলিযোগাযোগ বিষয়ে একজন বিশেষজ্ঞ আবু সাঈদ খান বলেছেন, এখন সরকারের উচ্চ পর্যায়ের দু’জনের টেলিফোন আলাপ ফাঁস হওয়ার ঘটনা সাধারণ মানুষকে আরো শংকিত করেছে।

“এপর্যন্ত ঐতিহাসিকভাবে যতগুলো টেলিফোন সংলাপ ফাঁস হতে দেখেছি, তার মধ্যে সম্প্রতি আইনমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার টেলিফোন সংলাপ ফাঁস হওয়ার ঘটনা আমাদের জন্য অত্যন্ত বিপদজনক” বলেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, “তারা কি নিয়ে আলাপ করেছেন-সেটা বিচার্য বিষয় নয়। কারণ তারা অত্যন্ত সিনিয়র এবং ক্ষমতাবান। তাদের ফোন আলাপ ফাঁস হওয়ার ঘটনা সাধারণ মানুষকে রীতিমত শংকিত করেছে।”

রাষ্ট্র বিরোধী তৎপরতায় নজরদারির কথা বলে সংশ্লিষ্ট আইনে সংশোধনী এনে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে বিশেষ ক্ষেত্রে টেলিফোনে আড়িপাতার ক্ষমতা দেয়া হয়েছিল।

কিন্তু সংশোধিত এই আইনের অপপ্রয়োগ হতে পারে-এই আশংকায় ২০০৬ সালে একটি রিট মামলা করেছিল একটি মানবাধিকার সংস্থা। সেটি এখনও নিস্পত্তি হয়নি।

ভূক্তভোগীরা মামলা করে না কেন

এদিকে মানবাধিকারকর্মীরা মনে করেন, সাধারণ কোন মানুষ টেলিফোন আলাপ ফাঁস করতে পারবেন না- এমন ধারণা প্রচলিত থাকায় ভূক্তভোগীরা মামলা করার সাহস পান না।

মানবাধিকার কর্মী সুলতানা কামাল বলেছেন, সরকার বা আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী থেকে কখনও তদন্ত করা হচ্ছে না এবং রহস্য যে উন্মোচন করা যাচ্ছে না, সেজন্য এই অপরাধগুলো থামছে না বলে তিনি মনে করেন।

তিনি বলেন, “সবার কাছে এই ডিভাইস বা যন্ত্র এবং এই কৌশল আছে-এটা কিন্তু মেনে নেয়া যায় না। এটা নিশ্চয়ই কিছু মানুষের কাছে আছে।”

“যাদের কাছে আছে-সেটা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে থাকুক আর ব্যক্তিগতভাবেই থাকুক, এটা ধরাটা এমন কঠিন ব্যাপার না।”

“যদি রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকে তাহলে এটা ধরা এবং বন্ধ করা সম্ভব” বলেন সুলতানা কামাল।

তিনি মনে করেন, একটি ঘটনার রহস্য বের করা হলেই ঘটনাগুলো কমে আসতো এবং এখন আইনমন্ত্রীর সাথে উপদেষ্টার আলাপ ফাঁসের ঘটনাকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত হওয়া উচিত।

কিন্তু আইন শৃঙ্খলা রক্ষকারি বাহিনী এসব ঘটনার রহস্য বের করতে পারে না কেন-এই প্রশ্নও রয়েছে।

পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত আইজি মোখলেসুর রহমান বলেছেন, কোন জায়গা থেকে রেকর্ড এবং ফাঁস হতে পারে- তদন্ত করলে চিহ্নিত করা সম্ভব।

“যেখানে যেখানে কথোপকথন রেকর্ড হতে পারে, সে সব জায়গা থেকে এগুলো লিক হয় কীনা- কেউ দুষ্ট বুদ্ধি থেকে এগুলো করে কীনা-সেগুলো অবশ্যই তদন্ত করে বের করা দরকার,” বলেন তিনি।

একইসাথে তিনি উল্লেখ করেন, “বিষয়টাতে তদন্ততো চাইতে হবে। কারও কথোপকথন ফাঁস হলো এবং তদন্ত চাইলো না। তাহলেতো পুলিশ তদন্ত করবে না। কিন্তু তদন্তে কোন বাধা নেই।”

এদিকে, শেষপর্যন্ত আইনমন্ত্রীর সাথে উপদেষ্টার ফোন আলাপ ফাঁস হওয়ার ঘটনার তদন্ত শেষ হবে কীনা-এই সন্দেহ রয়েছে মানবাধিকার কর্মীদের।

যদিও স্বরাষ্ট্রিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেছেন, ঘটনাটির তদন্ত হবে। একইসাথে তিনি বলেছেন, আইন অনুযায়ী একমাত্র ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার রেকর্ড করতে পারে। কিন্তু তারা এটি রেকর্ড করেনি বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানতে পেরেছেন।

সূত্র: বিবিসি

বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।