ঢাকাSaturday , 19 March 2022
  1. epaper
  2. অর্থনীতি
  3. আইন ও অপরাধ
  4. আন্তর্জাতিক
  5. ইতিহাস ঐতিহ্য
  6. ইসলামি দিগন্ত
  7. কুষ্টিয়ার সংবাদ
  8. কৃষি দিগন্ত
  9. খেলাধুলা
  10. গণমাধ্যম
  11. জনদূর্ভোগ
  12. জাতীয়
  13. জেলার খবর
  14. তথ্য প্রযুক্তি
  15. দিগন্ত এক্সক্লুসিভ

জনপ্রিয় হচ্ছে স্ট্রবেরি চাষ, লাভ তিনগুণ

Link Copied!

জয়পুরহাটে গতবারের চেয়ে বাণিজ্যিকভাবে বেড়েছে সুস্বাদু ও পুষ্টিকর বিদেশি ফল স্ট্রবেরি চাষ। লাভ বেশি হওয়ায় চাকরির পেছনে না ছুটে স্ট্রবেরি চাষে ঝুঁকছেন অনেকেই। স্বল্পমেয়াদি এ ফল জেলার চাহিদা মিটিয়ে সরবরাহ হচ্ছে রাজধানী ঢাকায়।

তবে অভিযোগ আছে কৃষকদের। তারা জানান, অর্থনৈতিকভাবে কৃষকদের স্বাবলম্বীর পাশাপাশি এখানকার উৎপাদিত স্ট্রবেরি বিদেশে রপ্তানির মাধ্যমে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব। কিন্তু এই চাষে নেই সরকারের কোনো প্রণোদনা। আর কৃষি অফিসও তাদের খোঁজখবর রাখে না। তাই কিছুটা বিপাকে তারা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, জয়পুরহাট সদর উপজেলার জামালপুর, চান্দা, খেজুরতলী গ্রামে সরকারি কোনো সহযোগিতা ছাড়াই শুধুমাত্র নিজ মেধা ও উদ্যোগে স্ট্রবেরি চাষ করে ব্যাপক সফলতা পাচ্ছেন প্রান্তিক কৃষকরা। ফসল রক্ষায় প্রতিটি জমির চারপাশ ও উপরে নেট দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। প্রায় ১০০ বিঘা জমিতে ৭২ জন কৃষক এসব স্ট্রবেরি চাষ করেছেন। ইতিমধ্যে গাছে গাছে ধরেছে লাল টুকটুকে স্ট্রবেরি। জমিতে ঘাসের আগাছা পরিস্কার করছেন কৃষকরা। অনেকেই আবার স্ট্রবেরি তুলে বাজারজাত করতে শুরু করেছেন। স্থানীয় বাজারে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি দরে এই ফল বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া এখানকার স্ট্রবেরি প্রতিদিন ট্রাকে করে সরবরাহ হচ্ছে ঢাকাতে।

কৃষকরা বলছেন, বিঘাপ্রতি স্ট্রবেরি চাষে ১ লাখ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা খরচ হয়। বাজারদর ভালো থাকলে ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা সম্ভব। তবে প্রণোদনা ও কৃষি অফিসের সহযোগিতা পেলে এ চাষ আরও বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছেন তারা।

জামালপুর কালিবাড়ী গ্রামের কৃষক মামুনুর রশীদ বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, আমি ৮ বছর থেকে স্ট্রবেরি চাষ করছি। এবার দুই বিঘা জমিতে চাষ করেছি। এক বিঘাতে এক লাখ টাকা খরচ হয়েছে। তিন লাখের ওপরে বিক্রির আশা করছি।

কৃষক মনোয়ার হোসেন বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, স্ট্রবেরি অত্যন্ত লাভজনক একটি ফসল। প্রতি বিঘাতে এক লাখের ওপরে খরচ হলেও ভালো ফলন হলে তিন লাখের ওপরে বিক্রি হবে। তবে অন্যান্য ফসল চাষে সরকারের প্রণোদনা থাকলেও স্ট্রবেরি চাষে আমরা সরকারের কোনো প্রণোদনা পাই না। অনেক সময় গাছে রোগবালাই দেখা দেয়, কিন্তু কৃষি অফিসের কোনো অফিসার আমাদের খোঁজখবর নিতে আসেন না।

তিনি আরও বলেন, আমরা প্রণোদনা চাই না, কৃষি অফিস আমাদের যদি পরামর্শ দিতো গাছের কোন রোগ হলে কি ওষুধ প্রয়োগ করতে হবে, তাহলে আমরা সুফল পেতাম। আর আমরা এখানে ৭০/৮০ জন কৃষক স্ট্রবেরি চাষ করছি। এগুলো প্রতিদিন ঢাকার কারওয়ানবাজারে বিক্রি করি। স্থানীয়ভাবে এটি বাজারজাত করারও কোনো ব্যবস্থা নেই। স্থানীয়ভাবে এটি বাজারজাত করা গেলে আমরা আরও লাভবান হতাম। এজন্য সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করছি।

কৃষক আবু তাহের বাংলাদেশ জার্নালকে বললেন, স্ট্রবেরি অনেক লাভজনক হলেও আমরা সরকার থেকে কোন সহযোগিতা পাই না। যদি সরকার থেকে সহযোগিতা পাওয়া যেতো, তাহলে এর চাষ আরও বাড়াতে পারতাম। এছাড়া সরকারিভাবে বা কোনো কোম্পানির মাধ্যমে স্ট্রবেরি বিক্রি হলে কৃষকরা আরো লাভবানের পাশাপাশি বিদেশে রপ্তানি করাও সম্ভব হতো।

চান্দার কৃষক রানা হোসেন বলেন, সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে আমরা স্ট্রবেরির চারা নিয়ে এসে সংরক্ষণ করি। ডিসেম্বর মাসে সেগুলো জমিতে রোপণ করা হয়। এরপর ২/৩ মাসের মধ্যে গাছে ফলন আসতে শুরু করে। বর্তমান স্ট্রবেরি বাজারজাত শুরু হয়েছে। আড়াইশ টাকা পাইকারি বিক্রি করছি।

এ বিষয়ে জয়পুরহাট সদর উপজেলা কৃষি অফিসার কায়সার ইকবাল বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, গত বছর জেলায় ৮ হেক্টর জমিতে স্ট্রবেরি চাষ হয়েছিল। এবার ১২ হেক্টরের বেশি জমিতে এর চাষ হয়েছে। এই চাষ সম্প্রসারণে বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

কৃষি অফিস থেকে কৃষকদের খোঁজখবর নেয়া হয় না- এমন অভিযোগ ও প্রণোদনার বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, সরকার থেকে এ চাষে কোনো প্রণোদনা নেই, তবে আমরা অন্যান্য সব পরামর্শ দিয়ে থাকি। আমি নিজেই ২/৩ দিন আগে স্ট্রবেরি বাগানগুলো ভিজিট করেছি। আমাদের মাঠপর্যায়ে কর্মীরাও প্রতিনিয়ত তাদের বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছে।

বাংলাদেশ জার্নাল

বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।