ঢাকাTuesday , 19 April 2022
  1. epaper
  2. অর্থনীতি
  3. আইন ও অপরাধ
  4. আন্তর্জাতিক
  5. ইতিহাস ঐতিহ্য
  6. ইসলামি দিগন্ত
  7. কুষ্টিয়ার সংবাদ
  8. কৃষি দিগন্ত
  9. খেলাধুলা
  10. গণমাধ্যম
  11. জনদূর্ভোগ
  12. জাতীয়
  13. জেলার খবর
  14. তথ্য প্রযুক্তি
  15. দিগন্ত এক্সক্লুসিভ

১৭ রমজান হক বাতিলের লড়াইয়ের ঐতিহাসিক প্রথম দিন

Link Copied!

আজ ১৭ রমজান। ইসলামের ইতিহাসে মহা বিজয়ের দিন। ইতিহাসের এই দিনে হিজরী দ্বিতীয় সনে রমজান মাসে মদিনা থেকে প্রায় ৮০ মাইল দক্ষিণে মক্কার পথে বদরের প্রান্তরে ঘটেছিল যুগান্তরকারী মহা বিজয়ের ঘটনা। বদরের প্রান্তরে সেদিন জালিম ও জুলুমের মুখোমুখি হয়েছিল মুসলমানরা।
একদিকে হক আর অপরদিকে বাতিল। একদিকে পিতা অন্যদিকে পুত্র। একদিকে ইসলাম, অন্যদিকে কুফর। দ্বীনকে বিজয়ী করার জন্য বদরের ময়দানে সেদিন মুসলমানরা ৩১৩ জন সৈন্যসহ এবং কাফিররা এক হাজারের উর্ধ্বে সৈন্য সামন্তের সাথে তুমুল যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
এই যুদ্ধে এক হাজারের উর্ধ্বে কাফিরের মোকাবিলায় অংশ গ্রহণ করে ছোট ছোট বালক, যুবক, বৃদ্ধ-বণিতা। আল্লাহতায়ালা আসমান থেকে শত শত ফেরেস্তা দিয়ে মুজাহিদদের সাহায্য করেন।
মাহে রমজানের অপরাপর মোবারক দিনের ঊর্ধ্বেও ইসলামের ইতিহাসে আজকের দিনটির একটি উজ্জ্বল ও অবিষ্মরণীয় বৈশিষ্ট্য চিহ্নিত হয়ে আছে। রমজানের রোজা ফরজ হয়েছে হিজরতের দ্বিতীয় বছর থেকে। অর্থাৎ দ্বিতীয় হিজরি সনে। আর সে বছরই রমজান মাসের ১৭ তারিখে সংঘটিত হয়েছে ইসলামের প্রথম সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী যুদ্ধ, ইসলামের অস্তিত্ব রক্ষার প্রথম রক্তক্ষরা মহাসংগ্রাম : জঙ্গে বদর, গজওয়ায়ে বদর বা বদরের জিহাদ। ১৭ রমজানকে এ জন্য বদর দিবসও বলা হয়ে থাকে।
মহানবী হজরত মোহাম্মদ (সা:) নবুওয়াত প্রাপ্তির পর দীর্ঘ ১৩ বছর অতিবাহিত করেন মক্কা মোকাররমায়। এরপর তিনি আল্লাহর হুকুমে মক্কায় বসবাসরত সাহাবিদের নিয়ে পর্যায়ক্রমে মদিনায় হিজরত করেন। হিজরতের দ্বিতীয় বছরেই নবীজীর (সা.) নেতৃত্বে গঠিত মদিান রাষ্ট্রটি মক্কার কাফের শক্তির পক্ষ থেকে হুমকির মুখোমুখি হয়। সিরিয়া থেকে ফেরার পথে মক্কার কাফেরদের একটি বাণিজ্য কাফেলা মুসলিম শক্তির প্রতিরোধের মুখে পড়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে মক্কা থেকে এক হাজার কাফের সেনার একটি সশস্ত্র দল মদিনা থেকে ৮০ মাইল দূলে অবস্থিত ‘বদর’ ময়দানে এসে যুদ্ধ প্রস্তুতি শুরু করে। এ অবস্থায় মাত্র ৩১৩ জন সাহাবিকে (যাদের মধ্যে মক্কা থেকে আসা মুহাজির ও মদিনায় বসবাসরত আনসাররা ছিলেন) নিয়ে বদর ময়দানের আরেক পাশে উপস্থিত হন শান্তি ও মানবতার নবী হজরত মোহাম্মদ (সা.)। এ ছিল এক অসম যুদ্ধ। একদিকে সত্যের পক্ষে মাত্র ৩১৩ জন যোদ্ধা, প্রায় নিরস্ত্র। সঙ্গে দুটি ঘোড়া, ৭০টি উট আর যুদ্ধে ব্যবহারের জন্য অল্প কয়েকটি ঢাল-তরবারি। অপরদিকে সশস্ত্র ১ হাজার যোদ্ধা, মিথ্যার পক্ষে। তাদের নিয়ন্ত্রণে একশ’টি ঘোড়া আর ৭শ’টি উট। যুদ্ধটি বিপুলভাবে অসম হলেও বিকাশমান মুসলিম শক্তির জন্য এ ছিল অস্তিত্ব রক্ষার এক মহাসংগ্রাম। সত্য-মিথ্যার সিদ্ধান্ত টানা এক লড়াই। এ যুদ্ধে আল্লাহতায়ালার শ্রেষ্ঠতম দূত মহানবী (সা.) আল্লাহর দরবারে প্রার্থনায় লুটিয়ে পড়েন।
হৃদয় উজাড় করে সাহায্য প্রার্থনা করতে থাকেন। প্রিয়তম হাবিবের ডাকে সাড়া দিয়ে মাওলায়ে করিম মুলমানদের বিজয় দান করেন। এ যুদ্ধে সাহাবি যোদ্ধা শহীদ হন ১২ থেকে ১৪ জন আর কাফেরদের মধ্যে উৎবা, শাইবা, আবু জেহেলের মতো শীর্ষ কাফেরসহ ৭০ জনের মতো নিহত হয়। বন্দি হয় আরও ৭০ জন।
বদর যুদ্ধের অভূতপূর্ব বিজয়ে মুসলমানদের ভিত দৃঢ়তর হয়। এরপরও মক্কার কাফের ও মদিনার ইহুদিদের সঙ্গে মক্কা বিজয় পর্যন্ত উহুদ, খন্দক, খয়বরের মতো আরও ক’টি রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে মুসলমানদের নামতে হয় বাধ্য হয়ে। রাসূলে জীবদ্দশায় মক্কা বিজয়ের পরও আরও কয়েকটি যুদ্ধ সংঘটিত হয়। কিন্তু ইসলামের ইতিহাসে দ্বিতীয় হিজরির ১৭ রমজানে সংঘটিত বদর যুদ্ধের তাৎপর্য সবসময়ই অনন্য মহিমায় ভাস্বর হয়ে আছে। বদর যুদ্ধে নিবেদিত মুজাহিদ সাহাবিদের সবসময়ই গণ্য করা হয় সবচেয়ে মর্যাদাবান শ্রেণী হিসেবে।
বদরের প্রান্তরে প্রার্থনার কান্না, যুদ্ধকালে রোজা রেখে ক্ষুধার্ত থাকা আর শান্তির ও সত্য প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় ধরে রাখর মধ্য দিয়ে ‘বদর যুদ্ধ’ তার এক উজ্জ্বল মানবিক রূপ উপহার দিয়েছে। রমজান মনুষ্যত্ব ও আল্লাহর দাসত্বকে অস্তিত্বে ধারণ এবং লালন করার যে শিক্ষা দিয়ে যায়, রোজা ফরজ হওয়ার প্রথম বছর দ্বিতীয় হিজরির ১৭ রমজানে তারই এক চুড়ান্ত প্রকাশ ঘটেছিল। ইসলামের আত্মশুদ্ধি, আত্মনিয়ন্ত্রণ, ধৈর্য, সাধনা, প্রার্থনা সেবা, আত্মনিবেদন ও সংগ্রামের সব অধ্যায় যে একই সূত্রে গাঁথা, তার এক মহান স্বাক্ষর দ্বিতীয় হিজরির এই ১৭ রমজান। বদর দিবসের এই সামগ্রিক শিক্ষা বিকশিত হোক প্রত্যেক মুসলমানের অন্তর ও জীবনে।

বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।