ঢাকাFriday , 10 June 2022
  1. epaper
  2. অর্থনীতি
  3. আইন ও অপরাধ
  4. আন্তর্জাতিক
  5. ইতিহাস ঐতিহ্য
  6. ইসলামি দিগন্ত
  7. কুষ্টিয়ার সংবাদ
  8. কৃষি দিগন্ত
  9. খেলাধুলা
  10. গণমাধ্যম
  11. জনদূর্ভোগ
  12. জাতীয়
  13. জেলার খবর
  14. তথ্য প্রযুক্তি
  15. দিগন্ত এক্সক্লুসিভ

অর্থমন্ত্রীর উন্নয়নের বুলির সঙ্গে বাস্তবতার মিল নেই: জামায়াত

Link Copied!

বৃহস্পিতবার (৯ জুন) অর্থমন্ত্রী জাতীয় সংসদে ২০২২-২৩ অর্থ বছরের জন্য ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকার যে উচ্চাকাক্সক্ষী ঋণ নির্ভর বাজেট পেশ করেছেন সে সম্পর্কে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা’ছুম আজ এক বিবৃতিতে বলেন, ‘অর্থমন্ত্রী আ.হ.ম মোস্তফা কামাল জাতীয় সংসদে ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকার ঋণ নির্ভর ঘাটতি বাজেট পেশ করেছেন। বাজেটের শিরোনাম দেয়া হয়েছে ‘কোভিডের অভিঘাত পেরিয়ে উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় প্রত্যাবর্তন’। বলা হয়েছে এ বছর বাজেটে সবচেয়ে গুরুত্ব দেয়া হবে মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কৃষি, স্বাস্থ্য সুরক্ষা, মানবসম্পদ ও শিক্ষা খাতে। অর্থমন্ত্রীর এসব উন্নয়নের বুলির সঙ্গে আসলে বাস্তবতার কোন মিল নেই। বাজেটে প্রবৃদ্ধির হার ধরা হয়েছে ৭.৫ শতাংশ, আর বাজেট ঘাটতি হচ্ছে জিডিপির ৫.৫ শতাংশ। মূল্যস্ফীতি ধরা হয়েছে ৫.৬ শতাংশ। প্রস্তাবিত বাজেট এবং প্রবৃদ্ধির হার বাস্তবতা বিবর্জিত ও কল্পনা নির্ভর। বাজেটে আয় ও ব্যয়ের মধ্যে বিশাল ব্যবধান রয়েছে। চলতি বছর বাজেটের অনেকাংশেই সরকার লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি।’

বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘প্রস্তাবিত বাজেটে মোট এডিপি ধরা হয়েছে ২ লক্ষ ৪ হাজার ৬৬ কোটি টাকা, রাজস্ব খাতে আয় ধরা হয়েছে (বৈদেশিক অনুদানসহ) ৪ লক্ষ ৩৬ হাজার ২৭১ কোটি টাকা। গত অর্থবছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের দায়িত্ব ছিল ৩ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব সংগ্রহের। কিন্তু গত ৯ মাসে (জুলাই-মার্চ) রাজস্ব সংগ্রহ হয়েছে মাত্র ২ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা। লক্ষ্যমাত্রা থেকেও সংগ্রহ ১ লাখ ২৬ হাজার কোটি কম। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী চলতি অর্থবছরের শেষ তিন মাসে আয় করতে হবে ১ লাখ ২৬ হাজার কোটি টাকা। যা আদায় করা প্রায় অসম্ভব।’

তিনি আরো বলেন, ‘বাজেটে বৈদেশিক উৎস থেকে ঋণ ও অনুদান গ্রহণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৯৫ হাজার ৪৫৮ কোটি টাকা। ব্যাংক ঋণ ধরা হয়েছে ১ লাখ ৬ হাজার ৩৩৪ কোটি টাকা। ঘাটতি ধরা হয়েছে ২ লক্ষ ৪৫ হাজার ৬৪ কোটি টাকা অর্থাৎ মোট বাজেটের ৩৬ দশমিক ১৪ শতাংশই ঋণ নির্ভর। গত বছরের ন্যায় ঋণ পরিশোধ করতেই সরকারের নাভিশ্বাস উঠে যাবে।

এ বাজেটের মাধ্যমে সরকারের ব্যাংক নির্ভরতা আরো বৃদ্ধি পাবে। মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক মন্দার কারণে ব্যাংকগুলোর অবস্থা অত্যন্ত সোচনীয়। এ বছর বাজেটে ব্যাংক থেকে ১ লাখ ৬ হাজার ৩৩৪ কোটি টাকা ঋণ নেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ব্যাংকিং খাতকে আরো সংকটের দিকে ঠেলে দেয়া হবে। সরকারের প্রস্তাবিত এ বাজেটে দেশের আর্থিক শৃঙ্খলা আরো ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭.৫ শতাংশ। গত বছর জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৭.২। যা গত অর্থবছরে অর্জন করা সম্ভব হয়নি। অর্থমন্ত্রী প্রবৃদ্ধি নিয়ে আশার বাণী শোনালেও তা বাস্তবতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। দেশের চকিৎসা ব্যবস্থা অত্যন্ত ভঙুর। হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত চিকিৎসা সামগ্রী নেই। চিকিৎসার অভাবে মানুষের মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। এ পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ৩৬ হাজার ৮৬৩ কেটি টাকা। যা স্বাস্থ্য খাতের জন্য যথেষ্ঠ নয়। আমরা মনে করি বর্তমান পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাজেটের ১০ শতাংশ হওয়া দরকার।

দারিদ্র্য দূরীকরণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সামাজিক নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলার বিষয়ে প্রস্তাবিত বাজেট বক্তৃতায় গুরুত্ব প্রদান করা হলেও এক্ষেত্রে যে বরাদ্দ রাখা হয়েছে তা বাস্তবায়নের কোনো সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা বা রূপরেখা তুলে ধরা হয়নি। বাজেটে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীসহ সকলের জন্য খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করার গতানুগতিক বক্তব্য ছাড়া নতুন কোনো ব্যবস্থার কথা বলা হয়নি।’

ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ‘কৃষিখাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩৩ হাজার ৬৯৮ কোটি টাকা। কৃষি বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকা শক্তি। কৃষকরা বরাবরই তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পায়না। প্রস্তাবিত বাজেটে উৎপাদনের উপকরণের মূল্য হ্রাসের কোনো কথা বলা হয়নি। রাসায়ণিক সারের মূল্য কমানো, কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত সহ কৃষিখাতকে যথাযথ গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হয়নি।
বাংলাদেশে শিল্প খাত অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় করছে। ক্ষুদ্র, মাঝারি ও কুটির শিল্পে প্রায় তিন কোটি মানুষ সম্পৃক্ত। এ খাতকে প্রস্তাবিত বাজেটে যথাযথ গুরুত্ব দেয়া হয়নি।’

উল্লেখ্য, বাজেটের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনার পর আমরা আমাদের মূল্যায়ন জাতির সামনে তুলে ধরবো। আমাদের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া হলো- এ ঋণনির্ভর বাজেট জনগণের জন্য কোনো কল্যাণ বয়ে আনবে না।”

বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।