ঢাকাMonday , 8 August 2022
  1. epaper
  2. অর্থনীতি
  3. আইন ও অপরাধ
  4. আন্তর্জাতিক
  5. ইতিহাস ঐতিহ্য
  6. ইসলামি দিগন্ত
  7. কুষ্টিয়ার সংবাদ
  8. কৃষি দিগন্ত
  9. খেলাধুলা
  10. গণমাধ্যম
  11. জনদূর্ভোগ
  12. জাতীয়
  13. জেলার খবর
  14. তথ্য প্রযুক্তি
  15. দিগন্ত এক্সক্লুসিভ

কুষ্টিয়ার জন্মান্ধ ছাদেক আলী ঃ ভিক্ষা করেনা- একজন বাদাম বিক্রেতা

Link Copied!

ছাদেক আলী জন্মান্ধ একজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার মহিষকুন্ডি এলাকার বাঁধের বাজার গ্রামের এই দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ছাদেক আলীর বাদাম বিক্রি করেই কোন রকম চলছে সংসার। করেনা ভিক্ষাবৃত্তি। উপজেলা চত্বর, থানার সামনে, হাসপাতালে কখনো বা আল্লাহরদর্গা বাজারে সকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি পায়ে হেঁটে মাথায় করে বাদার বিক্রি করে সংসার চালান এই কর্মবীর। হাতে লাঠি, মাথায় বাদামের বস্তা আর গলায় ঝোলানো টাকার থলে নিয়ে ছাদেকের জীবন যুদ্ধ।
ছাদেক আলী অন্ধ হয়েই এক দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার মহিষকুন্ডি এলাকার বাঁধের বাজার গ্রামের নুর ইসলামের ছেলে সে। দুই মেয়ে ও স্ত্রী নিয়েই তার সংসার। সে শুধু মাত্র একটি লাঠির সাহায্যে চলাচল করে।
বিশ বছর ধরে পায়ে হেঁটে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বস্তায় ভরে বাদাম বিক্রি করেন ছাদেক, পলিথিন দিলে বেশি খরচ পড়বে বলে কাগজের ঠোঙ্গায় বিক্রিত বাদাম ক্রেতার হাতে তুলে দেয় সে। অবশ্য যদি কেউ বেশি করে বাদাম নেন সেই জন্য সামান্য কিছু পলিথিনও রাখেন। ছাদেক আলী উপজেলার চরাঞ্চল থেকে কাঁচা বাদাম সংগ্রহ করে। তারপর বাড়ীতে এনে ভেজে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ঘুরে বিক্রি করা তার রুটিন কাজ। প্রতিদিন দুই থেকে আড়াই’শ টাকার মতো আয় হয়। তা দিয়েই মোটামুটি চলে সংসার। এভাবে বাদাম বিক্রি করতে গিয়ে প্রায়ই বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় তাকে। রাস্তায় চলার পথে যানবহনসহ বিভিন্ন জিনিসের সাথে ধাক্কা খেতে হয়। ছোট দূর্ঘটনা মাঝে মধ্যেই ঘটে তার সাথে। তবুও জীবিকার জন্য এভাবেই বাদাম বিক্রি করে সে।

উপজেলার ডাংমড়কা এলাকার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আব্দুল আলীম সাচ্চু বলেন, আমি অনেক আগে থেকে দেখে আসছি উনি অন্ধ হয়েও পায়ে হেঁটে উপজেলার বিভিন্ন স্পটে বাদাম বিক্রি করেন। কারো কাছে ভিক্ষা চান না সে। আমিও মাঝেমাঝে উনার কাছ থেকে বাদাম কিনি।
সম্প্রতি আলাপকালে ছাদেক আলী বলেন, আমি বিশ/একুশ বছর ধরে বাদাম বিক্রি করি। এক প্রশ্নে তাকে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী হয়েও ভিক্ষা না করে বাদাম বিক্রি কেন করছেন? জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, ভিক্ষা করা খারাপ কাজ, কেন ভিক্ষা করবো! বাদাম বিক্রি করেই আল্লাহ বরকত দেয়, কষ্ট হলেও এই হালাল দিয়েই মোটামুটি সংসার চলে যায়। তিনি আরো বলেন, আমি যেমন ভিক্ষা না করে বাদাম বিক্রি করে সংসার চালায়, অন্য যারা প্র্রতিবন্ধী আছেন তাদের বলছি আপনারা কেউ ভিক্ষা করবেন না, কাজ করে খান। কাজ করে টাকা উপার্জন করুন। তাতে আল্লাহও খুশি হবেন, সুখে থাকবেন সবাই।
সাদা মনের মানুষ ছাদেক আলীর মতে, ভিক্ষাবৃত্তি সমাজের জন্য একটি অভিশাপ। তবে প্রতিবন্ধী হয়েও আমার মতো কোন একটি কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করা সম্ভব।
‘নবীর শিক্ষা করোনা ভিক্ষা মেহনত করো সবে‘ এই শিক্ষাটাই ছাদেক আলী দিয়ে গেলেন।

বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।