ঢাকাFriday , 16 September 2022
  1. epaper
  2. অর্থনীতি
  3. আইন ও অপরাধ
  4. আন্তর্জাতিক
  5. ইতিহাস ঐতিহ্য
  6. ইসলামি দিগন্ত
  7. কুষ্টিয়ার সংবাদ
  8. কৃষি দিগন্ত
  9. খেলাধুলা
  10. গণমাধ্যম
  11. জনদূর্ভোগ
  12. জাতীয়
  13. জেলার খবর
  14. তথ্য প্রযুক্তি
  15. দিগন্ত এক্সক্লুসিভ

পবিত্র নগরী মক্কার দিনগুলো আজও ভাসে স্মৃতিপটে- (০১)

মাহমুদ শরীফ
September 16, 2022 12:40 pm
Link Copied!

যাত্রা হলো শুরু
প্রতিটি মুসলিম ইমানদারের মনে আল্লাহর ঘর পবিত্র কাবা দর্শন ও তাওয়াফ করার ইচ্ছা চিরন্তন। আমিও এই ইচ্ছা লালন করতাম সব সময়। মহান মাবুদের দরবারে এজন্য সাহায্য চেয়ে দোয়া করতাম প্রতিদিন। শেষ পর্যন্ত গত ১১ডিসেম্বর ২০১৮ তারিখ, এয়ার ওয়াল্ড ইন্টারন্যাশনাল হজ্জ গ্রুপের মাধ্যমে কুয়েত এয়ার ওয়েজের একটি বিমানে বেলা সোয়া ১১ টায় ঢাকা হযরত শাহ জালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর ত্যাগ করি। বিমানে যেহেতু প্রথম সে কারনে বেশ ভয় হচ্ছিল। সাড়ে ৫ ঘন্টা উড়ার পর কুয়েত এয়ারপোর্টে বিমান ল্যান্ড করলো। ২ ঘন্টা বিরতি, তারপর ওমরার জন্য নিয়্যত করে এহরামের কাপড় গায়ে দিয়ে অন্য বিমানের যাত্রী হলাম। ২ ঘন্টা ৫ মিনিট ফ্লাই করার ব্যবধানে সন্ধ্যায় জেদ্দা এয়ারপোর্ট পৌঁছে গেলাম। বিমান থেকে নেমে এয়ারপোর্টের অফিসিয়াল আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে বাইরে এলাম। মনের ভেতর তখন এক নতুন অনুভূতির ঢেউ। পা দিয়েছি স্বপ্নের দেশে, প্রিয় রসুলের পবিত্র ভূমিতে। আমার লালিত স্বপ্ন সাধ পূরণ হতে চলেছে। চারিদিকে আলোর ঝলকানি। প্রসস্ত রাস্তার দুই পাশে খেজুরের গাছ শোভা বাড়িয়েছে। তালবিয়া পড়ছি আর মিটাচ্ছি চোখের তৃষ্ণা। মনে ব্যকুলতার শেষ নেই। কখন দেখতে পাবো আল্লাহর ঘরকে? বাস দেরি করছে কেন? বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন ধরনের মানুষের আনাগোনা। অপেক্ষা করছি আমাদের জন্য নিদ্ধারিত সংস্থা আল হিজাজি কোম্পানির বাসের জন্য। এহরামের পোষাক পরিধানের পর থেকেই মুখে এক নাগাড়ে উচ্চারণ করছি- লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক। লাব্বাইকা লা শারীকালাকা লাব্বাইক। ইন্নাল হামদা ওয়ান নিমাতা লাকা ওয়াল মূলক, লা শারীকালাক। অবশেষে প্রায় একঘন্টা পর বাস হাজির। মোয়াল্লেম আমিরুল ইসলাম বেলালী সবাইকে নিয়ে বাসে উঠলেন। বাস তো নয় এযেন আরেকটি বিমান !
বায়তুল্লাহর দর্শন
আল হিজাজী কোম্পানির উন্নতমানের আরামদায়ক এসি বাস আমাদের নিয়ে বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিমানবন্দর জেদ্দা থেকে পবিত্র মক্কার দিকে ছুটে চললো। রাস্তার দু’ধারে সোডিয়াম বাল্বের আলোর ঝলকানি। তারই মাঝে মাঝে খেজুর গাছের অবস্থান, কাঁচা জোসনার আলো পরিবেশক আরো মনোমুগ্ধকর করেছে। বাস ছুটে চলেছে অবিরাম, ঘন্টায় ১২০-১৪০ কিলোমিটার গতিতে বাস ছুটলেও আমাদের তর যেন আর সইছেনা, আরো দ্রুতগতি হলে বুঝি ভালো হত। লোকালয়,বাজার, পাহাড়, মরুভূমি পিছন ফেলে বাস ছুটে যাচ্ছে। আমরা তালবিয়া পড়ছি সুর করে। সারা বাসে একটাই আওয়াজ লাব্বাইক আল্লাহ….
ঘন্টা খানিক বাস চলছে। হ্যদয়ের একান্ত আকুতি কখন দেখতে পাবো সেই কাংখিত বাসনার পবিত্র কাবাকে! কখন দেখে দুটি নয়ন তৃষ্ণা মেটানোর সময় আসবে!পথ কেন এত দীর্ঘ হচ্ছে? নানান ভাবনা মনের গভীরে।
বাস চলেছে। ট্যাক্সিগুলো আরো দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে আমাদের বাস পিছনে ফেলে। এক সময় চোখের সামনে ভেসে উঠলো বিশাল দৃষ্টি নন্দন মক্কা গেট। বুঝতে আর অসুবিধা হচ্ছেনা যে আমরা প্রায় পৌঁছে গেছি। ইতিমধ্যেই ‘অনলি মুসলিম’ লেখা সাইন বোর্ডও চোখে পড়লো। বাসের ভেতর থেকেই দুরে একঝলক মক্কা টাওয়ার এর ঘড়ি দেখতে পেলাম। ঝাকুনি দিয়ে উঠলো সারা শরীর। এই তো পৌঁছে গেছি ! আর সহ্য হচ্ছেনা, মুখে তালবিয়া পাঠের গতি অজান্তেই বেড়ে গেল। অনেক বড় বড় বিল্ডিং আর ওভার ব্রীজ পেরিয়ে বেশ কোলাহল পুর্ন একটি স্থানে বাস থেমে গেল। মোয়াল্লেম আমিরুল সবাইকে নামার জন্য বললেন। খুলে গেল অটো দরজা। বাসের পেটের ভেতর থেকে সবাই নিজ নিজ ব্যাগ ল্যাগেজ নিয়ে নিলাম। এবার চারপাশে একটু চোখ মেলতেই দেখতে পেলাম বিভিন্ন দোকানে আরবী লেখা সাইন বোর্ড। বার বার ঘাড় ফিরিয়ে দেখছি। আলোর ঝলকানি চোখ ছানাবড়া। একটু দুরে সে-ই মক্কা টাওয়ার -বিশাল ঘড়ি, ঘাড় ভেঙ্গে দেখছি। হঠাৎ মোয়াল্লেম আমিরুল ইসলামের ধমক- ‘এই স্যার ! আসেন, সবাই হোটেলে পৌঁছে গেল আর আপনি হা করে কী দেখছেন?’ ফিরে এলাম বাস্তবে। তাইতো বাস ফিরে গেছে, যাত্রীরা রাস্তা পার হয়ে তাকিয়ে আছে আমার দিকে, আর আমি ওদের সাথে না গিয়ে বোকামির পরিচয় দিলাম ! বড্ড লজ্জা পেলাম বেখেয়ালি করার জন্য। পা চালিয়ে রাস্তা পার হয়ে একটি গলিতে ঢুকে “স্টার মিস ফালাহ” হোটেলে ঢুকলাম। পরে জানতে পেরেছি আমরা বাস থেকে মক্কার মিস ফালাহ এলাকার কবুতর চত্বরে নেমেছিলাম। আর ঐ গলিটির নাম আঁখের রসের গলি। হোটেলের ৫ম তলার ২নং রুমে মোয়াল্লেমসহ আমরা ৩জন উঠলাম। বাথরুমে যেয়ে ফ্রেস হয়ে আসতেই দেখি বাঙালি খাবার হাজির। বিমানে আরবীয় স্টাইলের খাবার খেতে মোটেও তৃপ্তি হয়নি। তাই খাওয়া পাগল এই বাঙালি আর দেরি করবে কেন? উটের গোস্ত সাথে সবজি আর ডাল, বিসমিল্লাহ বলে গপাগপ শেষ। এবার ধৈয্যের বাঁধ আর টিকছেনা, ছুটতে হবে কাবার দিকে। করতে হবে তাওয়াফ -সায়ী- মাথা মুন্ডন-গোসল। তারপর এহরাম থেকে হালাল হবো। মোয়াল্লেম সাহেব সবাইকে নিয়ে বায়তুল্লাহর দিকে ছুটলেন। তালবিয়া মুখে ছুটছি, চীর কাংখিত বাসনা, স্বপ্নের সেই লালিত অবয়ব কাবা আর একটু পরেই দেখবো, এখনই দেখতে পাবো। কোন দিকে খেয়াল নেই, মোয়াল্লেম মহদয়ের পিছু ছুটছি। রাস্তা শেষ হলো। স্বেত পাথরের বিশাল চত্বর। জুতা সেন্ডেল খুলে পিঠে ঝোলানো ব্যাগে রাখলাম। প্রধান গেট দিয়ে হেরেমে ঢুকলাম। চারপাশে মানুষের ভিড়। হেরেমের কারুকার্য আর আলোর বন্যায় চোখ ধাঁধাপূর্ণ। বহু মানুষকে ঠেলে এগিয়ে চলেছি। কোন দিকে কোন কিছুর খেয়াল নেই। শুধু মুখে লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক। লাব্বাইক লা শারীকালাকা লাব্বাইক। ইন্নাল হামদা ওয়ান নিমাতালাকা ওয়াল মূলক,লা শারীকালাক।
ঐতো, ঐতো কাবা! ঐতো আমার আল্লাহর ঘর, আমার কেবলা, এই ঘরকে কেবলা করেই এতদিন নামাজ পড়েছি। কালো গেলাফে কী মহিমান্বিত প্রাচুর্যপূর্ণ প্রান্জল শোভা তাঁর। শীতল হলো চোখ। অশান্ত মন।ব্যাকুল অন্তর। নিজের অজান্তেই মুখ থেকে বেরিয়ে এলো ‘আল্লাহু আকবার-লাইলাহা ইল্লাল্লাহ’। চোখের পানি আর বাঁধ মানলো না, মূল হেরেমের সিঁড়ির মাঝে দাঁড়িয়ে চোখের পানি ছেড়ে দিয়ে আমরা আপনজন হারা শিশুর মত কাঁদতে কাঁদতে কাবার মালিকের দরবারে দুই হাত তুললাম দোয়া করার জন্য। তখন রাত সোয়া একটা।

বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।