ঢাকাSunday , 10 January 2021
  1. epaper
  2. অর্থনীতি
  3. আইন ও অপরাধ
  4. আন্তর্জাতিক
  5. ইতিহাস ঐতিহ্য
  6. ইসলামি দিগন্ত
  7. কুষ্টিয়ার সংবাদ
  8. কৃষি দিগন্ত
  9. খেলাধুলা
  10. গণমাধ্যম
  11. জনদূর্ভোগ
  12. জাতীয়
  13. জেলার খবর
  14. তথ্য প্রযুক্তি
  15. দিগন্ত এক্সক্লুসিভ

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছে দৃষ্টিনন্দন মসজিদ

Link Copied!

আল্লাহর ঘর মসজিদ। মুমিনের সম্পর্কও মসজিদের সাথে। আর মসজিদের সম্পর্ক জান্নাতের সাথে। মসজিদ মাদ্রাসা তৈরি করা নবী, রাসুল, মুমিনদের কাজ। কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছে দৃষ্টিনন্দন এ মসজিদ । জরাজীর্ণ মসজিদ থেকে নতুন নির্মিত এই মসজিদ করায় ঝূঁকি কেটেছে মুসল্লীদের। নতুন সৌন্দর‌্যমন্ডিত এ মসজিদ পেয়ে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করছে মুসল্লীরা।
দেলের খোরাক হোক আর আবেগ হোক দৃষ্টিনন্দিত এই মসজিদটি দেখতে জেলাসহ জেলার বাইরে থেকে বিভিন্ন ধর্মপ্রাণ মুসল্লী এবং পর্যটকরা আসছেন এখানে।
জানা যায়, বৃদ্ধ বাবা শিল্পপতি ছেলেকে একদিন বলেছিল যে, তোমার কাছে আমার কিছু চাওয়ার নেই। শুধু গ্রামে একটা ভাল মসজিদ নির্মাণ করে দিবে। বাবার স্বপ্ন পূরণে ছেলে প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে দৃষ্টিনন্দন মসজিদ ঘর নির্মাণ করলেন। যিনি সন্তানের কাছে এ দাবী করেছিলেন তিনি হলেন মোঃ আলিমুদ্দিন শেখ (৮৭)। দেশের স্বনামধন্য কনস্টাকশন ঠিকাদার ব্যবসায়ী এসিউর কোম্পানীর স্বত্বাধিকারী শিল্পপতি শেখ সাদীর বাবা তিনি।
তিনি অত্যন্ত ধর্মভীরু এবং একজন আল্লাহওয়ালা ব্যক্তি। প্রায় ১৫ কাঠা জমির উপর মসজিদটি কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার নন্দনালপুর ইউনিয়নের সদরপুর গ্রামের দক্ষিণপাড়ায় নির্মান করেছেন। ঢাকাস্থ শীর্ষস্থানীয় রিয়েল এস্টেট কোম্পানি এশিউর গ্রুপের চেয়ারম্যান শেখ সাদী বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডও চালিয়ে যাচ্ছেন।
এলাকাবাসী জানায়, ১৯৮৭ সাল থেকে ওই এলাকার ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা একটি জরাজীর্ণ মসজিদে ইবাদত করে আসছিল। ওই এলাকার বাসিন্দা হিসেবে আলিমুদ্দিন শেখও ওই মসজিদে নামাজ আদায় করতেন।মসজিদের ভবণ ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা দেখে শিল্পপতি ছেলে মোহাম্মদ শেখ সাদী’র কাছে একটা ভাল মসজিদ ঘর নির্মাণের ইচ্ছা পোষণ করেন।বাবার ইচ্ছে পূরণ করতে ২০১৯ সালে প্রায় তিন কোটি টাকা ব্যয়ে দৃষ্টিনন্দন মসজিদ ঘর নির্মাণের কাজ শুরু করেন ছেলে।
দোতলা বিশিষ্ট মসজিদের ছাদের চার কোনায় রয়েছে ১৯ ফিট উচ্চতায় ৪ ফিট দৈর্ঘ্য ও ৪ ফিট প্রস্থের চারটি মিনার ও মাঝখানে রয়েছে মিনারের সমউচ্চতায় ২৫ ফিট ডায়া একটি বড় গম্বুজ। গম্বুজের পাশেই রয়েছে একটি ছোট্ট কক্ষ। মসজিদের ফ্লোরে ব্যবহৃত হয়েছে ইন্ডিয়ান মার্বেল পাথর আর জানালায় ব্যবহার হয়েছে থাই গ্লাস।
মসজিদটিতে গ্রিলফুল ও স্লাডিং সহ মোট ৭০ টি জানালা রয়েছে। নিচতলা ৩৩ টা ও দেতলায় ৩১ টা সহ মোট ফ্যান রয়েছে ৬৪ টি। ধর্মীয় বিভিন্ন কারুকাজ করা মোট ৬ টা কাঠের মোটা দরজা স্থাপন করা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন এই মসজিদে।তন্মধ্যে প্রধান ফটকের প্রবেশ পথে তিনটা এবং বারান্দায় তিনটা। মসজিদের চারপাশে রয়েছে পাকা বাউন্ডারি দেওয়াল।দেওয়ালে ৪৯ টি সুসজ্জিত লাইটসহ মোট লাইট রয়েছে ৯৪ টি।বাউন্ডারির মধ্যে মসজিদ কমপ্লেক্সটির পাশেই রয়েছে একটি নূরানি হাফেজিয়া মাদ্রাসা।
এ বিষয়ে হক্কানী দরবারের পরিচালক মাওলানা খালিদ হোসাইন সিপাহী বলেন, আল্লাহর ঘর মসজিদ যিনি তৈরি করে দিলেন। আল্লাহ তাকে দুনিয়া ও আখেরাতে কল্যান দান করবেন। আল্লাহর বান্দাদের জন্য এ ঘরের বিনিময়ে জান্নাতের বালাখানার সম্মানে সম্মানিত হবেন। দুনিয়াতে সবকিছু যখন ধ্বংস হয়ে যাবে। আল্লাহর ঘর মসজিদগুলোকে আল্লাহ হেফাজত করবেন। আল্লাহর হুকুমে মসজিদগুলো বান্দাদের জন্য সুপারিশকারী হবেন। অতএব মসজিদ নির্মান করার অনেক ফজিলত ও হাকিকত রয়েছে। যাদের সামর্থ রয়েছে তারা অবশ্যই ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান তৈরি করে দিবেন। আল্লাহ তাদেরকে অবশ্যই মল্য দিবেন। যিনি মুসল্লীদের জন্য মসজিদটি নির্মান করেছেন আল্লাহ তাকে কবুল করুন।
নতুন নির্মিত দৃষ্টিনন্দন মসজিদের খতিব হাফেজ ক্বারী মাওঃ মাসুম বিল্লাহ্ বলেন, আমি দেশের বিভিন্ন জেলা ঘুরেছি, অনেক মসজিদে নামাজ পড়েছি, তবে এত সুন্দর মসজিদ কোথাও দেখিনি।
ভিন্ন এই সৌন্দর্য্যপূর্ণ মসজিদটি দেখতে এবং এখানে নামাজ আদায় করতে প্রতিদিনই আসছেন জেলা এবং জেলার বাইরে থেকে অনেক পর্যটকরা।
মসজিদ হোক মুমিনের জন্য কল্যাণময়ী। দ্বীন প্রতিষ্ঠার প্রধান কেন্দ্র হোক মসজিদগুলো। কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার নন্দনালপুর ইউনিয়নের সদরপুর গ্রামের দক্ষিণপাড়ায় নির্মিত এ মসজিদ হোক সকলের জন্য কল্যাণময়ী এই প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।

বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।