ঢাকাTuesday , 6 April 2021
  1. epaper
  2. অর্থনীতি
  3. আইন ও অপরাধ
  4. আন্তর্জাতিক
  5. ইতিহাস ঐতিহ্য
  6. ইসলামি দিগন্ত
  7. কুষ্টিয়ার সংবাদ
  8. কৃষি দিগন্ত
  9. খেলাধুলা
  10. গণমাধ্যম
  11. জনদূর্ভোগ
  12. জাতীয়
  13. জেলার খবর
  14. তথ্য প্রযুক্তি
  15. দিগন্ত এক্সক্লুসিভ

কুষ্টিয়ার পাখা পল্লী শ্রমিকরা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে

kushtiardiganta
April 6, 2021 8:50 am
Link Copied!

গরমে বেড়েছে লোডশেডিং। অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনগণের প্রাণ । একটু শীতল হাওয়ার খোঁজে ছুটছে তারা। ভ্যাপসা গরম থেকে বাঁচতে বৈদ্যুতিক ফ্যানের বিকল্প হিসাবে তারা তালের পাখার কোন বিকল্প নেই। গরম আর লোডশেডিংয়ের কারেণে বেড়েছে তালের পাখার চাহিদা। তাল পাখা চাহিদার কারণে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর পাখা পল্লীর ৫শত পরিবারসহ জেলার হাজার পরিবার ব্যস্ত সময় কাটোচ্ছে। তৈরি করছে বিভিন্ন ধরনের পাখা। প্রচন্ড গরম আর লোডশেডিংয়ে মানুষ যখন হাসফাঁস করছে ঠিক সে সময়ে হাতপাখা যেন একমাত্র সম্বল। গরমের তাপদাহ থেকে একটু শীতল হাওয়ায় প্রাণ জুড়াতে চায় সকলেই। স্বস্তি পেতে বিদ্যুৎ ফ্যানের বিকল্প হিসাবে তালের পাখা ব্যবহার করে।

বিদ্যুতের লাগামহীন লোডশেডিং ও প্রচন্ড গরমের কারণে তালের পাখার রয়েছে ব্যাপক চাহিদা। চাহিদার কারণে গরমের শুরু থেকেই পাখার জোগান বাড়াতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে কুষ্টিয়ার পাখা পল্লীর কারিগররা। এখন কুষ্টিয়া কুমারখালীর পাখা পল্লীর শ্রমিকরা পাখা তৈরিতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে। চলতি গ্রীষ্ম মৌসুমে হাত পাখার যোগান দিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে কুষ্টিয়ার খোকসা-কুমারখালীর তিন গ্রামের সহস্রাধিক নারী পুরুষ। গ্রামাঞ্চল থেকে তালপাতা সংগ্রহ করে পাখা শ্রমিকরা। তাল গাছ থেকে পাতা কেটে রোদে শুকায়। তারপর বাঁশ কেটে সাইজ করেন। বাঁশের নীলের অংশের খিলি দিয়ে পাখার উপরের অংশে বাঁধেন। আর বাঁশের ভীতরের বুটকীর অংশ দিয়ে পাখার ভীতর অংশে বাঁধেন। অনেকেই তালের ডাঁটি কেটে চিকন করে খিলি করেন। অনেকেই আবার নারকেলে খিল দিয়েও পাখা বাঁধেন। মহিলারা তাল পাতার উপর সমপরিমাণ খিল দিয়ে সুই আর সুঁতো দিয়ে নিপুন হাতে পাখা বাঁধেন। নারীরা কেউবা সুঁই সূতো দিয়ে পাতার সাথে খিঁল আঁটে। কেউবা পাতার ডাটি বানায়। এরপর লাল,নীল রং লাগিয়ে তৈরি করেন পাখা। কুষ্টিয়ার খোকসা ও কুমারখালী উপজেলার গোপগ্রাম, মট মালিয়াট ও সন্তোষপুরের প্রায় সহস্রাধিক পরিবার বিগত কয়েক দশক ধরে এ তাল পাতা দিয়ে বাহারি হাত পাখা তৈরী ও বাজারজাত করে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করে আসছে।

বসন্ত মৌসুমের শুরু থেকে শীতের আগ পর্যন্ত সারাদেশে তাল পাতার তৈরি হাত পাখার রয়েছে ব্যাপক চাহিদা। তবে বিদ্যুতের তীব্র লোডশেডিং ও প্রচন্ড তাপদাহের কারণে অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে হাত পাখার চাহিদা বেড়েছে দ্বিগুন হারে। বর্তমানে দু’উপজেলার তিনটি গ্রামের প্রায় সহস্রাধিক নারী শ্রমিক পাখা তৈরি করতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে। নাওয়া খাওয়া ভুলে তারা দিন রাত কাজ করে চলেছে। গ্রামের প্রতিটি পরিবারই পাখা তৈরির কারণে ওই গ্রামকে পাখা পল্লী বলে সকলেই চেনে। ওই গ্রামের মহিলারা সংসারের কাজের ফাঁকে ফাঁকে এ পেশার কাজ করেন। ওই আয় দিয়েই তাদের সংসার চলে। সবকিছুর সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে পাখার উপকরনেরও। তাই পাখা তৈরিতেও খরচ পড়ছে বেশি। খরচের তুলনায় দাম পাচ্ছেনা পাখা শ্রমিকরা।

দীর্ঘদিন ধরে তারা এ ব্যবসাকে টিকিয়ে রেখেছে। পাখা তৈরি ও বিক্রি করে হাজারো পরিবার জীবিকা নির্বাহ করছে। কিন্তু অর্থনৈতিক কারণে তাদের এ ব্যবসা বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। সকলের দাবী তাদেরকে সুদমুক্ত ঋণ বিতরণ করলে এ ব্যবসাকে আরো প্রসার করতে পারবে। অধিক পূঁজি থাকলে শীতের সময় তারা পাখা তৈরী করে মজুদ করতে পারলে ব্যবসা আরো ভাল হত। কুটির শিল্পের সাথে জড়িত এ সকল নারী শ্রমিকদের দাবী, সারা বছর লাভ জনক এ ব্যবসার সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি ও পুঁজি সংকট দুর করতে সহজ শর্তে ঋণ সুবিধার ব্যবস্থা করার। গরমের কারণে

কুষ্টিয়া কুমারখালীর পাখা পল্লীর শ্রমিকরা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে। পাখা তৈরির সরঞ্জামসহ বিভিন্ন সাইজের পাখা তৈরিতে ব্যস্ত তারা। এ পাখা শিল্পের ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে তাদেরকে আর্থিকভাবে সুদ মুক্ত ঋণের ব্যবস্থা করা যায় তাহলে এ ব্যবসা আরো প্রসারিত হবে। কুষ্টিয়া জেলা ছাড়াও বাইরে পাঠানো সম্ভব হবে বলে জানান পাখা পল্লীর মালিকরা ।

 

বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।