ঢাকাSunday , 18 April 2021
  1. epaper
  2. অর্থনীতি
  3. আইন ও অপরাধ
  4. আন্তর্জাতিক
  5. ইতিহাস ঐতিহ্য
  6. ইসলামি দিগন্ত
  7. কুষ্টিয়ার সংবাদ
  8. কৃষি দিগন্ত
  9. খেলাধুলা
  10. গণমাধ্যম
  11. জনদূর্ভোগ
  12. জাতীয়
  13. জেলার খবর
  14. তথ্য প্রযুক্তি
  15. দিগন্ত এক্সক্লুসিভ

৫ম রমজান :: আত্মশুদ্ধির মাস রমজান রমজানের ৩ দশকের তাৎপর্য

Link Copied!

আলহামদুলিল্লাহ আমরা চারটি রোজা অতিক্রম করে ৫ম রোজার জন্য তারাবীহ পড়ছি। রহমতের ৫টি রোজা অতিক্রম করতে শুরু করেছে।
নবী করিম (সা:) বলেছেন, রমজানের প্রথম দশক রহমতের, দ্বিতীয় দশক মাগফেরাতের, তৃতীয় দশক দোজখের আগুন থেকে মুক্তির।
রমজান মাসকে ৩ ভাগে ভাগ করার রহস্য, এ মাসে প্রথমত, ওই সমস্ত লোক যারা পাপ কাজ থেকে মুক্ত থাকে। যারা রমজান আগমনের অধির আগ্রহে থাকে। অপুরন্ত রহমতের বার্তা নিয়ে রমজান তাদের জন্য আগমন করে। তারা রমজানের শুরু থেকেই রহমত পেয়ে থাকে।
দ্বিতীয়ত,ওই সমস্ত লোক যারা সাধারণ পাপে লিপ্ত থাকে। তবে রমজান আসায় তওবাহ করে গোনাহ থেকে দূরে থাকে আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করে। প্রথম দশক শেষ হওয়ার পরই তাদের মাগফেরাতের বার্তা শোনানো হয়।
তৃতীয়ত, ওইসব লোক যারা অধিক পাপিষ্ট। রোজার একাংশ অতিবাহিত হওয়ার সাথে সাথে উহার প্রতিদান ক্ষমার দ্বারা শুরু হয়। পরিশেষে দোজখের উপযোগী বান্দাদের আল্লাহ নাজাত বা নিস্কৃতি দিয়ে দেন।
এভাবে রোজাদার আল্লাহর রহমত, মাগফেরাত ও নাজাতের মধ্যে শামিল হয়।
প্রথম দশক ‘রহমত’
==========
‘রহমত’ শব্দটি আরবি। এর অর্থ হচ্ছে করুণা, দয়ামায়া, কৃপা, অনুকম্পা, অনুগ্রহ ইত্যাদি। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে এ ব্যাপারে দুটি শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে আর তা হচ্ছে ‘রহমান’ ও ‘রহিম’। রহমান শব্দটি পবিত্র কোরআনে ৫৭ বার উল্লেখ রয়েছে। যার অর্থ পরম করুণাময়। পরম করুণাময় আল্লাহ রহমান, রহিম যে নামেই ডাকি না কেন তিনি দয়া বা রহমত কারও জন্য এক মুহুর্তের জন্যও বন্ধ করে দেননি, তিনি রহমান।
‘রহিম’ শব্দটি পবিত্র কোরআনে ১২২ বার উল্লেখ হয়েছে। যার অর্থ হচ্ছে অতি মেহেরবান, অতিশয় দয়ালু। যাঁরা দুনিয়ার জীবনে আল্লাহ ও রাসুল (সা.)–কে মেনে ইসলামের অনুশাসন বা রীতিনীতি মেনে জীবন পরিচালনা করেছেন। আল্লাহর দয়া বা রহমত সর্বকালে সর্বক্ষণ বর্ষিত হতে থাকে। বিশেষ করে পবিত্র মাহে রমজানের প্রথম দশকে এর ব্যাপকতা আরো বৃদ্ধি পেতে থাকে।
কারণ পবিত্র মাহে রমজানের আগমনে এ মাসের বরকতে জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয়। জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। শয়তানকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করে রাখা হয়। ফলে রোজা পালন, কোরআন তিলাওয়াত, দান-সদকা ও জিকির-আজকার ইত্যাদি আদায়ে মশগুল হয়ে তাকওয়া অর্জনে সচেষ্ট হয়। আর রোজা পালনের মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে তাকওয়া অর্জন।
দ্বিতীয় দশক ‘মাগফিরাত’
=============
মহান আল্লাহতাআলার একটি গুণ হচ্ছে ক্ষমা করা। পবিত্র কোরআনে ক্ষমার ব্যাপারে তিনটি শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে। যথা: ‘গাফফার’ শব্দটির অর্থ হচ্ছে অত্যন্ত ক্ষমাশীল। পবিত্র কোরআনে এ শব্দটি ৫বার উল্লেখ হয়েছে। ‘গাফুর’, যার অর্থ হচ্ছে পরম ক্ষমাশীল। এ শব্দটি পবিত্র কোরআনে ৯১ বার উল্লেখ হয়েছে। ‘গাফির’, যার অর্থ হচ্ছে ক্ষমাকারী।
যেমন: সুরা মুমিন-এর ৩ নম্বর আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘তিনি গুনাহ ক্ষমাকারী’।
সুরা জুমার ৫ নম্বর আয়াতে উল্লেখ রয়েছে ‘জেনে রাখো তিনি পরাক্রমশালী পরম ক্ষমাশীল’। সুরা হিজর-এর ৪৯ নম্বর আয়াতে উল্লেখ রয়েছে ‘হে নবী! আপনি আমার বান্দাদের বলে দিন, আমি অবশ্যই ক্ষমাশীল পরম দয়ালু। সুরা জুমার ৫৩ নম্বর আয়াতে উল্লেখ রয়েছে, আল্লাহতাআলা অবশ্যই মানুষের সমুদয় গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন। অবশ্যই তিনি ক্ষমাশীল পরম দয়ালু।
হাদিস শরিফে উল্লেখ রয়েছে, শেষ রাতে আল্লাহতাআলা বান্দাকে ডেকে বলতে থাকেন: কে আছো ক্ষমা চাওয়ার? ক্ষমা চাও, আমি মাফ করে দেব।
উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়িশা সিদ্দিকা (রা.) রাসুলে পাক (সা.)–কে প্রশ্ন করেন, ইয়া রাসুলু (সা.)! আমি যদি শবে কদর পাই, তাহলে আমি ওই রাতে কী দোয়া পড়ব? উত্তরে রাসুল (সা.) বললেন: হে আয়িশা! তুমি পড়বে, হে আল্লাহ, আপনি ক্ষমাশীল, ক্ষমা করাকে পছন্দ করেন; অতএব আমাকে আপনি ক্ষমা করে দিন।
হাদিস শরিফে আরও বলা হয়েছে, যদি কেউ গুনাহ মাফের উদ্দেশ্যে ইস্তিগফার করে, তাহলে আল্লাহ পাক তাকে তিনটি পুরস্কার দেবেন।
(১) তার জীবনের কঠিন অবস্থা থেকে তাকে উদ্ধার করবেন।
(২) তাকে দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি দিয়ে দেবেন।
(৩) তাকে তার অনাকাঙ্খিত স্থান থেকে রিজিকের ব্যবস্থা করে দেবেন।
হাদিসে বলা হয়েছে, ঘুমানোর সময় যদি কেউ তিনবার ইস্তিগফার পড়ে, তার গুনাহ যত বেশি হোক না কেন, আল্লাহপাক তাকে ক্ষমা করে দেবেন।
আল্লাহতাআলা তাঁর বান্দার প্রতি বিভিন্ন সময় তাঁর গাফফার এবং গফুর নামের বদৌলতে ক্ষমা করেন। বিশেষ করে পবিত্র মাহে রমজানে মানুষকে ক্ষমা করে দেন। কারণ, এ মাসটি হচ্ছে রহমতের, মাগফেরাতের মাস।
শেষ দশক ‘নাজাত’
===========
জাহান্নামের ভয়াবহতা সম্পর্কে রাসুলু (সা.) ইরশাদ করেন: দুনিয়ার আগুন যা মানুষ ব্যবহার করে, তা জাহান্নামের আগুনের ৭০ভাগের ১ভাগ। অর্থাৎ দুনিয়ার আগুনের চেয়ে জাহান্নামের আগুনের তেজ আরও ৬৯ভাগ বেশি।
মানুষ যেহেতু ভুলের ঊর্ধ্বে নয়, সেহেতু ইচ্ছায়-অনিচ্ছায়, প্রকাশ্যে-অপ্রকাশ্যে, ছোট-বড় গুনাহ হয়েই যায়। এই গুনাহ থেকে যারা খাঁটি মনে তওবা ইস্তিফার করে, আল্লাহতাআলা তাদের ক্ষমা করতে পছন্দ করেন এবং তাদের ভালোবাসেন। আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।
আল্লাহতাআলা তাঁর বান্দাদের বিশেষ বিশেষ দিনে ও সময়ে মুক্তি দিয়ে থাকেন। বিশেষ করে পবিত্র মাহে রমজানের শেষ দশকে অগণিত মানুষকে রমজানের বরকতে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিয়ে দেন।
আল্লাহ তাআলা তাঁর গুনাহগার বান্দা-বান্দিদের রমজানের শেষ দশকে জাহান্নাম থেকে চির মুক্তির জন্য নির্ধারিত করে দিয়েছেন।
রোজার ফজিলত সম্পর্কে রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন: যে ব্যক্তি ইমানের সহিত সওয়াবের আশায় রমজানের রোজা রাখবে এবং তারাবির নামাজ আদায় করবে, তার অতীতের গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে। (বুখারি শরিফ)।
রাসুল (সা.) আরও ইরশাদ করেন: রোজা বান্দার জন্য কিয়ামতের দিন সুপারিশ করবে এবং বলবে, হে আমার রব! আমি দিনের বেলায় এ বান্দাকে পানাহার এবং স্ত্রী সম্ভোগ থেকে বিরত রেখেছিলাম, তাই তার জন্য আমার সুপারিশ গ্রহণ করুন। সেই মতে বান্দার জন্য রোজার সুপারিশ কবুল করা হবে। (মুসনাদে আহমাদ)।
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলে পাক (সা.) ইরশাদ করেন: প্রতিটি বস্তুর জাকাত রয়েছে, শরীরের জাকাত হচ্ছে রোজা। অর্থাৎ জাকাত আদায়ের মাধ্যমে যেভাবে সম্পদ বৃদ্ধি পায় ও পবিত্র থাকে এবং সব দুর্ঘটনা থেকে নিরাপদ থাকে; তেমনি সাওম বা রোজা পালনের মাধ্যমে মানুষের শরীরের সুস্থতা ও নিরাপত্তা লাভ হয় এবং গুনাহমুক্ত জীবনযাপনের তাওফিক হয় ও সার্বিকভাবে হেফাজতে থাকে।
রাসুলে পাক (সা.) আরও ইরশাদ করেন: রোজা হচ্ছে ঢাল স্বরূপ। অর্থাৎ ঢাল দিয়ে মুজাহিদগণ যেভাবে শত্রুর মোকাবিলা করে নিজেকে রক্ষা করতে সক্ষম হন, গাজি হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিতে পারেন; তেমনি একজন রোজাদার রোজা পালনের মাধ্যমে মানুষের প্রকাশ্য শত্রু শয়তানের মোকাবিলা করে নিজেকে গুনাহমুক্ত রাখতে সক্ষম হয়।
এমনিভাবে রোজাদারের উপর রহমত, মাগফেরাত ও নাজাতের বারিধারা চলতেই থাকে। তাই রমজানের ৩ দশকের হাকিকত বুঝে আমাদেরকে আমল করার তৌফিক দান করুন। আমিন।
(–মাওলানা খালিদ হোসাইন সিপাহী,
সম্পাদক প্রকাশক: কুষ্টিয়ার দিগন্ত
পরিচালক হক্কানী দরবার)

বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।