ঢাকাTuesday , 20 April 2021
  1. epaper
  2. অর্থনীতি
  3. আইন ও অপরাধ
  4. আন্তর্জাতিক
  5. ইতিহাস ঐতিহ্য
  6. ইসলামি দিগন্ত
  7. কুষ্টিয়ার সংবাদ
  8. কৃষি দিগন্ত
  9. খেলাধুলা
  10. গণমাধ্যম
  11. জনদূর্ভোগ
  12. জাতীয়
  13. জেলার খবর
  14. তথ্য প্রযুক্তি
  15. দিগন্ত এক্সক্লুসিভ

ঘূর্ণিঝড় অনাবৃষ্টি বা খরা ভূমিকম্প দুর্ভিক্ষ মহামারি অগ্নিকাণ্ড মানুষেরই কর্মের ফল

Link Copied!

“প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারন ও করণীয় আমল”

প্রাকৃতিক দুর্যোগ বর্তমান সময়ের অন্যতম প্রধান সমস্যা। প্রাকৃতিক দুর্যোগ যথা ঘূর্ণিঝড়, শিলাবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি বা খরা, ভূমিকম্প, দুর্ভিক্ষ, মহামারি, অগ্নিকাণ্ড প্রভৃতি মানুষেরই কর্মের ফল। ধর্মীয় ও নৈতিক অবক্ষয়ে পৃথিবী ভারাক্রান্ত। ঝড়, ভারী বর্ষণ, অনাবৃষ্টি বা খরা, ভূমিকম্প, দুর্ভিক্ষ, মহামারি, অগ্নিকাণ্ড প্রভৃতি, শৈত্যপ্রবাহ এরই পরিণাম।

আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তিনি তোমাদের জন্য আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেছেন। এই পানি থেকে তোমরা পান করো এবং এ থেকেই উদ্ভিদ উৎপন্ন হয়, যাতে তোমরা পশুচারণ করো। এ পানি দ্বারা তোমাদের জন্য উৎপাদন করেন ফসল, যয়তুন, খেজুর, আঙ্গুর ও সর্বপ্রকার ফল। নিশ্চয় এতে চিন্তাশীলদের জন্যে নিদর্শন রয়েছে।’ (সূরা নাহল : আয়াত ১০-১১)।

উপর থেকে বৃষ্টি বর্ষিত না হলে সারা পৃথিবী তামা হয়ে যাবে। মাটি পাথরের মতো শক্ত নিষ্প্রাণ হয়ে উর্বরতা হারাবে। পশু, পাখি, কীট, পতঙ্গ তথা স্থলভাগের সকল প্রাণী জীবন হারাবে। তাই যখন অনাবৃষ্টি দেখা দেয় তখন একে গজব হিসাবে বিবেচনা করা হয়। নবী করিম (সা.) বলেছেন, আল্লাহ বলেন, যদি অবলা প্রাণী ও গৃহপালিত পশুরা না থাকত তাহলে মানুষের নাফরমানির ফলে আজাব স্বরূপ আমি চিরতরে বৃষ্টি বন্ধ করে দিতাম। (আল হাদীস)।

অতি বৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, শিলাবৃষ্টি, অকাল বর্ষণ, আগুনে বাতাস, কাল বৈশাখি ইত্যাদি আমাদের বোরো ও আমন ধান নষ্ট করে। আগুনে বাতাসে পাকা ধানের গাছ পুড়ে যায়, পরিপুষ্ট ধান চিটা হয়ে যায়। একফসলি জমির কৃষকের জন্য এর চেয়ে বড় আজাব আর কী হতে পারে?

এমন খরা, দাবদাহ, অনাবৃষ্টির সময় আল্লাহর কাছে তওবা ইস্তেগফার করা এবং শাসক ও জনগণ একসাথে খোলামাঠে গিয়ে সুন্নাত অনুযায়ী দুই রাকাত বৃষ্টি প্রার্থনার নামাজ জামাতে আদায় করলে আল্লাহর রহমতের বৃষ্টি বর্ষণ শুরু হয়ে থাকে। এ নামাজকে বলা হয় ইসতিসকার নামাজ। সমাজের বড় ছোট নেক নাফরমান নির্বিশেষে সব মানুষ নিজ নিজ গোনাহ থেকে ক্ষমাপ্রার্থনার আশায় ইসতিসকার নামাজ পড়ার সুফল যুগে যুগে পেয়ে গেছে। এখন খরার সময় বৃষ্টির জন্য পবিত্র মক্কা মদিনার প্রধান দুই মসজিদে ইসতিসকার নামাজ পড়া হয়। সাথে সাথে বর্ষণও হতে দেখা যায়।

এই নামাজে রাষ্ট্রপ্রধান, শাসক বা তার প্রতিনিধি থাকলে দোয়া আরো দ্রুত কবুল হওয়ার নজির রয়েছে। ইসতিসকার নামাজ পড়ার সময় আল্লাহর নবী (সা.) নিজের পরনের চাদরের এক মাথা উল্টে অন্য মাথায় নিয়ে গিয়ে গোটা চাদরটিই আড়াআড়ি উল্টে গায়ে দেন। এটি আবহাওয়ার চলমান অবস্থাটি একশভাগ পাল্টে দিয়ে, আল্লাহ যেন বৃষ্টি দান করেন, তারই বাহ্যিক নমুনা এবং কার্যত প্রার্থনা। একবার নামাজ শেষে মানুষকে বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে ঘরে ফিরতে হয়।

দেশ বা অঞ্চলের বিশিষ্ট মুত্তাকি পরহেযগার আলেমকে দিয়ে এ নামাজ পড়ানো এবং কেন্দ্রীয় বা স্থানীয় প্রশাসক এ জামাতে শরিক থাকা বিধেয়। বিশেষ করে নাফরমান বান্দাদের বিনম্র উপস্থিতিও বৃষ্টি প্রার্থনার ফলাফল উত্তম হয়ে থাকে। নিজেদের পশু পাখি ও ছোট্ট শিশুদেরও বৃষ্টি প্রার্থনার নামাজের সময় মাঠে নিয়ে যাওয়ার বিধান রয়েছে। যেন আল্লাহ যার ওপরই হোক দয়া করে বৃষ্টি দান করতে পারেন। পাপী বান্দাদের ক্ষমা প্রার্থনায় আল্লাহ দ্রুত খুশি হয়ে গজব তুলে নেন। নেক বান্দাদের ওপর দয়া করেও তিনি রহমতের বৃষ্টি বর্ষণ করে থাকেন।

দাবদাহ, খরা, দুর্ভিক্ষ ও অনাবৃষ্টির সময় উলামায়ে কেরাম, জনসাধারণ ও সমাজপতিদের কর্তব্য মহানবী (সা.) এর এই সুন্নাতকে জিন্দা করা। সবাইকে আহ্বান করে, জায়গায় জায়গায় ইসতিসকার নামাজ আদায় করা। আল্লাহর রহমত ক্ষমা ও করুণা লাভে এই সুন্নাত খুবই পরীক্ষিত ও কার্যকর।

সাহাবিদের জীবনে আমরা দেখি, বিপদে-মুসিবতে তাঁরা নামাজে দাঁড়াতেন, ধৈর্য ধারণ করতেন। আমরা যদি নবী করিম (সা.) ও সাহাবায়ে কিরামের মতো মসজিদমুখী হই, গুনাহ পরিত্যাগ করি, তবে প্রাকৃতিক এসব দুর্যোগ থেকে আমরা পরিত্রাণ পাব। (মিশকাত: ৫৩৪৫)। বান্দার গুনাহ যখন বেশি হয়ে যায়, আল্লাহ তাআলার অসন্তুষ্টি বৃদ্ধি পায়। তখন তিনি আজাব-গজব হিসেবে ঘূর্ণিঝড়, শিলাবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি বা খরা, ভূমিকম্প, দুর্ভিক্ষ, মহামারি, অগ্নিকাণ্ড ইত্যাদি নাজিল করেন। আল্লাহর আজাব থেকে বাঁচার জন্য আমাদের সঠিকভাবে দীনের ওপর চলতে হবে। নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, দান-সদকা অপরের অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে । ভালো কাজ করতে হবে।

হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, ‘সদকা আল্লাহর অসন্তুষ্টিকে নিভিয়ে দেয় এবং অপমৃত্যু রোধ করে।’ (তিরমিজি: ৬০০)।

আল্লাহু তাআলা অযথা কাউকে শাস্তি দিতে চান না; বরং মানুষের ওপর যে বিপদ আসে, তা তাদের কৃতকর্মের ফলস্বরূপ। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমাদের যে বিপদাপদ ঘটে, তা তোমাদের কৃতকর্মের ফল এবং তোমাদের অনেক অপরাধ তিনি মাফ করে দেন।’ (সুরা আশ্-শূরা: ৩০)।

‘আর যখন তোমাদের ওপর মুসিবত এল, যার দ্বিগুণ তোমরা ঘটিয়েছ, তখন তোমরা বললে, এটা কোত্থেকে এল! (হে নবী) আপনি বলে দিন, এ তো তোমাদের পাপ থেকেই; নিশ্চয় আল্লাহ সব বিষয়েই সর্বশক্তিমান।’ (সুরা আল ইমরান: ১৬৫; মারেফুল কোরআন: ৬৭৫৩)।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেছেন, ‘মানুষের কৃতকর্মের কারণে স্থলে ও সমুদ্রে ফ্যাসাদ প্রকাশ পায়, যার ফলে আল্লাহ তাআলা তাদের কিছু কৃতকর্মের স্বাদ তাদের আস্বাদন করান, যাতে তারা ফিরে আসে।’ (সুরা রুম, আয়াত: ৪১)।

যখন অন্যায়-অনাচার, ব্যভিচার বৃদ্ধি পায়, অন্যের হক ভূলুণ্ঠিত হতে থাকে, মাপে কম দেওয়া ও চোরাচালানি প্রভৃতির প্রাচুর্য পরিলক্ষিত হয়, তখন দুর্ভিক্ষের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। আসমানি গজব একের পর এক নামতে শুরু করে প্রাকৃতিক দুর্যোগের নামে। (রুহুল মাআনি: ১১/৭৩; মারেফুল কোরআন: ৬/৭৫৩)। হাদিস শরিফে আছে, যে ব্যক্তি মাপে কম দেবে সে দুর্ভিক্ষ, মৃত্যু-যন্ত্রণা এবং শাসক কর্তৃক জুলুমের শিকার হবে। অন্য হাদিসে আছে, যে জাতির মধ্যে ব্যভিচার ছড়িয়ে পড়বে, সেখানে (ক্রমাগত) অনাবৃষ্টি দেখা দেবে। হজরত আবু সুফিয়ান (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, বনি ইসরাইল বংশ সাত বছর ধরে দুর্ভিক্ষে নিপতিত ছিল। তারা ক্ষুধার জ্বালায় মৃত প্রাণী ভক্ষণ করেছিল। এরপর তারা নিজেদের ভুল বুঝতে পারল এবং আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টিকল্পে পাহাড়ে চলে গেল। সেখানে ক্রমাগত কান্নাকাটি ও আহাজারি শুরু করল। আল্লাহ তাআলা তাঁর নবীর মাধ্যমে তাদের অবহিত করলেন, ‘যতক্ষণ না তোমরা অন্যের প্রাপ্য পরিশোধ করবে, আমি তোমাদের দোয়া কবুল করব না। তোমাদের প্রতি সদয়ও হব না।’ সুতরাং তারা যখন অন্যের হক আদায় করে দিল তখন আসমান থেকে বারিধারা বর্ষণ শুরু হলো। (মাজালিসে আবরার: ৪৫/২৭৪)।

গুনাহ বেশি হলে সবকিছু থেকে বরকত উঠে যায়। ফ্যাসাদ শুরু হয়ে যায়। বিপদ ও বালা-মুসিবত একের পর এক আসতেই থাকে। যুগে যুগে মানুষকে আল্লাহু তাআলা বিভিন্ন আজাব-গজব দিয়ে শাস্তি দিয়েছেন, সতর্ক করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর আমি অবশ্যই তোমাদের পরীক্ষা করব কিছু ভয়, ক্ষুধা এবং জান, মাল ও ফল-ফলারির স্বল্পতার মাধ্যমে। আর তুমি ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দাও। যারা নিজেদের বিপদ-মুসিবতের সময় বলে “নিশ্চয় আমরা আল্লাহর জন্য এবং নিশ্চয় আমরা আল্লাহরই দিকে প্রত্যাবর্তনকারী”, তাদের ওপরই রয়েছে তাদের রবের পক্ষ থেকে মাগফিরাত ও রহমত এবং তারাই হেদায়াতপ্রাপ্ত।’ (সুরা-২ বাকারা, আয়াত: ১৫৫-১৫৭)

 

রাকিবুল ইসলাম

সম্পাদক প্রকাশক : স্বদেশ র্বাতা ২৪ ডটকম

বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।