ঢাকাWednesday , 21 April 2021
  1. epaper
  2. অর্থনীতি
  3. আইন ও অপরাধ
  4. আন্তর্জাতিক
  5. ইতিহাস ঐতিহ্য
  6. ইসলামি দিগন্ত
  7. কুষ্টিয়ার সংবাদ
  8. কৃষি দিগন্ত
  9. খেলাধুলা
  10. গণমাধ্যম
  11. জনদূর্ভোগ
  12. জাতীয়
  13. জেলার খবর
  14. তথ্য প্রযুক্তি
  15. দিগন্ত এক্সক্লুসিভ

কুমারখালীতে সরকারী নির্দেশনা উপেক্ষা করে চলছে কোচিং বাণিজ্য, মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি

Link Copied!

কুষ্টিয়া কুমারখালী উপজেলার বাশঁগ্রাম, শালঘরমধুয়া, দূর্বাচারা এলাকা ঘুরে দেখা যায় ইমরান মাষ্টার, আছির মাষ্টার, জাফর মাষ্টার, মাহাবুব মাষ্টার, এদের সবারই একটি করে নিজেস্ব কোচিং সেন্টার রয়েছে। এক একটি কোচিং এ প্রায় দুই শত ছাত্র-ছাত্রীকে বিভিন্ন ব্যাচ করে পড়ানো হয়, প্রতি ব্যাচে ৩০ থকে ৪০ জন ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে। লার্নার’স পয়েন্ট এর শিক্ষক ইমরানের যে কোচিং সেন্টার রয়েছে সেখানে গিয়ে দেখা যায় এক এক বেঞ্চে ৪ জন কে বসিয়ে ঐ ব্যাচ এ ২৫ জন কে সে পড়াচ্ছে, নেই কোনো দূরত্ব বা মুখে মাস্ক, ঐ বাজারেই গাইড লাইন নামের একটি কোচিং সেন্টার রয়েছে মাহাবুব রহমানের, সাংবাদিকদের উপস্থিত ঠিক পেয়ে তড়ি ঘড়ি করে কোচিং এর ফ্যান লাইট চালু রেখেই ছাত্র ছাত্রীদের ছুটি দিয়ে পালিয়ে যায় সবাই। শালঘরমুধুয়া শস্বান বাজার এলাকায় ইংলিশ কেয়ার হোম নামের একটি কোচিং রয়েছে, সেখান কার শিক্ষক জাফর স্যার তিনিও সাংবাদিকদের আসার খবর পেয়ে ছাত্র ছাত্রীদের রুমে আটকে রেখে বাইরে থেকে পালিয়ে যায়। পরে জাফর স্যারের ফোনে ফোন দিলে ফোন ও বন্ধ পাওয়া যায়, দুই ঘন্টা পার হলেও তার সাথে যোগাযোগ করা যায়নি, পরে বাজারের লোকজন তালা ভেঙ্গে ছাত্র ছাত্রীদের বের দেয়। ঐ বাজারের কিছু লোক জন অভিযোগ করে বলেন ইংলিশ কেয়ার হোম কোচিং এর শিক্ষক জাফর কোচিং এর দরজা ভিতর থেকে বন্ধ রেখে সুন্দরী ছাত্রীদের সাথে অনৈতিক কাজ করেন বলেও অভিযোগ পাওয়া যায়। ঐ কোচিং এর বিপরিতে ডিপেনডেন্ট কোচিং ও রয়েছেন সেই কোচিং এর শিক্ষক আছির মাষ্টার, তিনিও সাংবাদিক দের আসা ঠিক পেয়ে ছাত্র ছাত্রীদের ছুটি দিয়ে পালিয়ে যায়।
এসব শিক্ষক ভাড়া করা কক্ষে ব্যাচ করে একসঙ্গে ৩০ থেকে ৪০ জন শিক্ষার্থীকে বসিয়ে টিউশন বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে শিক্ষার্থীরা করোনা সংক্রমণের মারাত্মক ঝুঁকির মাঝে রয়েছেন। সারাদেশে সরকার যেখানে, করোনাভাইরাস থেকে রেহাই পেতে স্কুল কলেজ বন্ধ রেখেছে, সেখানে দলবদ্ধভাবে কোচিং কতটা নিরাপদ তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানিয়রা ।
মহামারি করোনা ভাইরাস থেকে রক্ষা পেতে সামাজিক দুরত্ব ও স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলতে কর্তৃপক্ষের নির্দেশ রয়েছে, কিন্তু কুষ্টিয়া কুমারখালী উপজেলায় বাঁশগ্রাম, দূর্বচারা ও শালঘরমুধুয়া এলকায় বেশ কিছু কোচিং সেন্টার ঠিক উল্টো পথে হাটছে। কিছু অসাধু কোচিং বাণিজ্যিকরা সরকারি আদেশের তোয়াক্কা না করেই চুপচাপ চালিয়ে যাচ্ছে তাদের অবৈধ কোচিং বাণিজ্য। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে গত বছরের মার্চ মাসের ১৬ তারিখে দেশের সব কোচিং সেন্টার বন্ধের নির্দেশ দেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। এদিন সচিবালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ নির্দেশ দেন তিনি।
তারপর থেকে এখনো পর্যন্ত সেই নির্দেশ জারি রয়েছে। কোচিং চালুর ব্যাপারে নতুন করে কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। দেশে তৃতীয় ধাপে বেড়েছে করোনা সংক্রমণ। করোনা সংক্রমণ রোধে মোট ১৮ দফা নির্দেশনা চূড়ান্ত করেছে সরকার। তার মধ্যে ন্তুত্বপূর্ণ একটি হল সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক, মাদ্রাসা, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়) ও কোচিং সেন্টার বন্ধ থাকবে।
এদিকে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কোচিং সেন্টার চালু থাকায় সচেতন মহলে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। করোনার ঝুঁকি নিয়ে কোচিং সেন্টারে আসা শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন। অভিভাবকদের দায়িত্বে অবহেলা ও খামখেয়ালীপনা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে সচেতনমহলে। কোচিং বাণিজ্য বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যাক্তি বলেন, কোচিংয়ের বিরুদ্ধে সরকারি নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। শুধু তাই নয়, করোনার কারণেও রয়েছে বিশেষ কিছু নিষেধাজ্ঞা। সেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কিছু শিক্ষক এ কার্যক্রম চালু করেছেন। যেখানে জীবনের চেয়ে শিক্ষা তথা ব্যবসাকে পণ্য বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। এই শিক্ষকদের বিরুদ্ধে প্রশাসন ও সরকার একটি শক্ত ভূমিকা নেবে বলে আমরা আশা করছি। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাজিবুল ইসলাম খান এর সাথে কথা বললে তিনি জানান এ রকম একটি অভিযোগ পেয়েছি, এই অভিযোগের তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে উপজেলা মাধ্যমিক অফিসারের কাছে, তদন্তে সত্যতা পেলে অবশ্যই এসব শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।