বুধবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২২, ০৪:৪২ পূর্বাহ্ন

চাকরির পেছনে না ছুটে উদ্যোক্তা হওয়ার পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক: / ৭৫ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
আপডেট টাইম : শনিবার, ২২ মে, ২০২১, ১২:৩২ অপরাহ্ন

যুব সমাজকে চাকরির পেছনে না ছুটে উদ্যোক্তা হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার (২২ মে) মৎস্যজীবী লীগের অনুষ্ঠানে এ পরামর্শ দেন তিনি। বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ের ওই অনুষ্ঠানে ভিডিও বার্তায় শুভেচ্ছা জানান তিনি।

এ সময় তিনি যুব সমাজের উদ্দেশ্যে বলেন, চাকরির পেছনে না ছুটে মৎস্য উদ্যোক্তা হোন। সব ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে চাই। জাতির পিতার আদর্শ নিয়ে বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে বাংলাদেশ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করছে। সবক্ষেত্রে বাংলাদেশকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে চাই এবং জাতির পিতা যে আদর্শ নিয়ে দেশ স্বাধীন করেছেন, সেই আদর্শ নিয়ে বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে চলবে বাংলাদেশ। তার জন্মশতবার্ষিকীতে এ প্রতিজ্ঞাই করবো, এই দেশকে সবদিক থেকে উন্নত ও সমৃদ্ধ করবো।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করছে। আমাদের লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করবে। ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে ৯৮ সালেই দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করি। দ্বিতীয়বার সরকারে এসে আমরা সেই লক্ষ্য পূরণ করি। খাদ্যের সঙ্গে পুষ্টিটা যাতে যোগ হয় তার ব্যবস্থা গ্রহণ করি।

শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের যুব সমাজকে প্রশিক্ষণ দেয়, জলাধারগুলো সংরক্ষণ করা। মাছ উৎপাদন যাতে বৃদ্ধি পায় তার ব্যবস্থা নেওয়া। গবেষণা করে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি করা। কৃত্রিম প্রজনন বৃদ্ধি করা। খাদ্য তালিকায় সবথেকে নিরাপদ পুষ্টি মাছই দেয়। একটা মানুষ ৬০ গ্রাম মাছ খেতে পারলে তার জন্য যথেষ্ট। এখন মানুষ ৬২ গ্রাম পর্যন্ত নিতে পারে। সুযোগটা সৃষ্টি হচ্ছে। একই সঙ্গে ব্যাপক কর্মসংস্থান হচ্ছে।

সরকার প্রধান বলেন, যুবসমাজকে পড়ালেখা শেষ করে চাকরির পেছনে না ছুটে, নিজেরাই যদি মৎস্য খামার করে মাছ উৎপাদন করে বিক্রি করে পয়সা পেতে পারে। পাশাপাশি সারা বাংলাদেশে ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলছি। সেখানে আমরা সবথেকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি খাদ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্প গড়ে তোলার দিকে। মাছ ও মৎস্যজাত যেকোনো কিছু প্রক্রিয়াজাত করতে পারে সেই সুযোগটাও সৃষ্টি হচ্ছে। কর্মসংস্থান ব্যাংক থেকে জামানত ছাড়া ঋণ নিতে পারবে। সেখান থেকে ঋণ নিয়ে নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ নদী-নালা, খাল-বিলের দেশ। বাংলাদেশে শত শত নদী রয়েছে। আমরা খাল-বিল ও জলাধারকে সংস্কার করার কাজ করে যাচ্ছি। সেখানে যাতে আরও বেশি পরিমাণ মাছ উৎপাদন হয় তার ব্যবস্থাও নিচ্ছি। আমাদের মাছের উৎপাদন যেখানে ২৭ লাখ মেট্রিক টন ছিল এখন প্রায় ৫০ লাখ মেট্রিক টন উৎপাদন করে যাচ্ছি।

সরকারপ্রধান বলেন, ইলিশ উৎপাদনে এক নম্বর। ইলিশ উৎপাদনে যথেষ্ট পদেক্ষপ নিয়েছি। মাছের প্রজনন সময়ে মৎস্যজীবীদের জন্য বিশেষ বরাদ্দ দিয়ে থাকি। প্রত্যেককে বিনা পয়সায় খাদ্য সাহায্য দিয়ে থাকি। বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও করে থাকি। তারা যাতে কষ্ট না পায় সেই ব্যবস্থাও করেছি।

তিনি বলেন, মাছ উৎপাদনে আমরা বিশেষ যত্ন নিচ্ছি। খাদ্য নিরাপত্তার পরে পুষ্টি নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়াতে এখন মানুষ পুষ্টিহীনতায় ভুগছে না। খাদ্য তালিকায় ভাতের পাশাপাশি মাছ, সবজি ও ফলমূল রাখতে অনুরোধ করেন তিনি।

মৎস্যজীবী লীগকে আরও সুসংগঠিত করার আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, মৎস্য উৎপাদনে আমাদের যুব সমাজ যাতে মনোযোগী হয়, সেই দিকে একটু দৃষ্টি দেওয়া। এই খাতে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে। সেই সুযোগটা কাজে লাগানো। এর জন্য প্রশিক্ষণ ও ঋণের ব্যবস্থা রয়েছে।

সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনাভাইরাস যাতে করো কোনো ক্ষতি করতে না পারে সেই দিকে বিশেষ দৃষ্টি দিতে হবে। নিজে সুরক্ষিত থাকতে হবে। অপরকে সুরক্ষিত রাখতে হবে।

মৎস্যজীবী লীগের সভাপতি সায়ীদুর রহমানের সভাপতিত্বে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, কেন্দ্রীয় কার্যকরী সদস্য শাহাবুদ্দীন ফরাজী, এবিএম রিয়াজুল কবির কাওছার এবং মৎস্যজীবী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ আজগর নস্কর।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর ....

এক ক্লিকে বিভাগের খবর