ঢাকাSunday , 23 May 2021
  1. epaper
  2. অর্থনীতি
  3. আইন ও অপরাধ
  4. আন্তর্জাতিক
  5. ইতিহাস ঐতিহ্য
  6. ইসলামি দিগন্ত
  7. কুষ্টিয়ার সংবাদ
  8. কৃষি দিগন্ত
  9. খেলাধুলা
  10. গণমাধ্যম
  11. জনদূর্ভোগ
  12. জাতীয়
  13. জেলার খবর
  14. তথ্য প্রযুক্তি
  15. দিগন্ত এক্সক্লুসিভ

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে গরমে কদর বেড়েছে তাল শাঁসের

Link Copied!

গ্রীষ্মের প্রচন্ড গরম আর খরতাপে ক্লান্ত শরীরে প্রশান্তি এনে দেয় তালের শাঁস। এর মোহনীয় ঘ্রাণ এবং স্বাদ অনেকেরই প্রিয়। কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে তীব্র গরমে কদর বেড়েছে তাল শাঁসের। মানুষ ছুটে এসে তাল শাঁস খেয়ে স্বস্তির ঢেকুর তুলছে। কুুুুমারখালীর শহর ও গ্রামের হাট-বাজারে চোখে পড়ছে তাল শাঁস বেচাকেনার। এছাড়াও বিভিন্ন সড়কের পাশে বড় গাছের নিচে ও ভ্যানের উপর ভ্রাম্যমান তাল শাঁস বেচাকেনার দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। রোদে অতিষ্ঠ মানুষ একটু স্বস্তির আশায় খাচ্ছে শাঁস, অনেকে নিয়েও যাচ্ছে বাড়ীতে। কুমারখালী বাসস্ট্যান্ড এলাকার তাল শাঁস বিক্রেতা ইউনুস আলী। তিনি উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের মোহননগর গ্রামের বাসিন্দা। বছরের অন্যান্য সময় ইটভাটায় কাজ করলেও এখন তারা চার বন্ধু মিলে তালের শাঁস বিক্রি করছে। চাহিদা থাকায় বেচা-বিক্রি ভালো বলে ইউনুস আলী বেশ খুশি। সে জানায়, একটি তাল থেকে দু’টি বা তিনটি শাঁস হয়। প্রতিটি শাঁস ৫ টাকায় বিক্রি করছি। যা গত বছরে চেয়ে দুই-তিন টাকা বেশি। তিনি আরো বলেন, গ্রাম থেকে কচি তাল কিনে আনতে হয়। তালের সংকট থাকায় এর দাম বেড়েছে। প্রতিদিন পনের’শ টাকার তাল শাঁস বিক্রি করি। এতে পাঁচ-সাত‘শ টাকা লাভ থাকে

। উপজেলার যদুবয়রা ইউনিয়নের চাদপুর বাজারে দেখা হয় তাল শাঁস বিক্রেতা স্বপন শেখের সাথে। তিনি পেশায় একজন ভ্যান চালক হলেও বর্তমানে তাল শাঁস বিক্রেতা। তিনি বলেন, তিন শাঁসের এক তাল ১২ থেকে ১৫ টাকায় বিক্রি করছি। তীব্র গরম থাকায় তালের চাহিদা বেশ ভাল। তিনি আরো বলেন, তিন থেকে চারশ টাকা দরে শাঁসের জন্য তাল গাছ কিনি। প্রতি গাছে ৭ থেকে ৮০০ পিচ তাল পাওয়া যায়। ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম বলেন, তীব্র গরমে অতিষ্ঠ জীবন। একটু স্বস্তি পেতে তাল শাঁস কিনতে এসেছি। উপজেলার পান্টি ইউনিয়নের বিরিকয়া গ্রামের মাসুদ হোসেন বলেন, বাড়িতে আটটি তাল গাছ আছে। প্রতিবারের ন্যায় এবারও ছয়টি গাছে তাল ধরেছে। কচি তাল হিসেবে বিক্রি করে দিয়েছি। তিনি আরো বলেন, ২/৩টি শাঁসের প্রতিটি তাল পাইকারী ৭ টাকা দরে বিক্রি করেছি। মওসুমী এই তাল শাঁসের পুষ্টিগুন ও উপকারীতার বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ আকুল উদ্দিন বলেন, এটা সুস্বাদু, অন্যদিকে কচি তালের শাঁসে জলীয় অংশ বেশি থাকে, যা দেহের পানি শূন্যতা পূরণ করে। ফলে জ্যৈষ্ঠের এ গরমে হাট-বাজারে বেশ কদর বেড়েছে তাল শাঁসের। তিনি সাধ্যমত খাওয়ার পরামর্শও দেন। কুমারখালীতে যত্রতত্র তালগাছ দেখা যায়। রাস্তার ধারে, বাড়ীর আসপাশে অবহেলায় বেড়ে উঠেছে অগনিত তাল গাছ। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা দেবাশীষ কুমার দাস বলেন, বাণিজ্যিকভাবে উপজেলার তাল গাছের তেমন বাগান নেই। তবে চাদপুর ইউনিয়নের জঙ্গলী নামক স্থানে সড়কের পাশে দুই শতাধিক তালগাছ আছে, যা সড়কের শোভা বাড়িয়েছে। তিনি আরো বলেন, সাধারণত বাসাবাড়িতেই মানুষ তালগাছ রোপন করে থাকে। উপজেলায় প্রায় দেড় হাজার গাছ আছে। বজ্রপাত রোধী এই তাল গাছ লাগানোর প্রতি তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।