বুধবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২২, ০৪:৩৫ পূর্বাহ্ন

বিষপানে জীবনের ইতি টানলেন ইতি!

অনলাইন ডেস্ক / ৮৫ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
আপডেট টাইম : রবিবার, ১৩ জুন, ২০২১, ২:৪৩ পূর্বাহ্ন

‘বছর চারেক আগে বিয়ে হয়েছিল। ছেলে গাড়ি চালাতো। এক বছর পর গাড়ি বিক্রি করে দেয়। এরপর গাড়ি কিনবে বলে আমাদের কাছে তিন লাখ টাকা যৌতুক চায়। আমি মেয়ে বিয়ে দিছি কষ্ট করে, আমরা তো চারআনা দেওয়ার মতো তৌফিকও নাই। আমি নিজেই তিন-চার লাখ টাকা দেনা। যৌতুকের জন্য মেয়েরে প্রায়ই মারতো। টাকা দেওয়া লাগবে। মেয়েটা শান্তিতে ছিল না। অনেকবার বাড়িতে এসে কান্নাকাটি করছে। মাসখানেক আগেও মাইয়া (মেয়ে) কানতে কানতে বাড়ি আসছে।’এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন যৌতুকের নির্যাতন সইতে না পেরে আত্মহত্যার পথ বেছে নেওয়া ইতি বেগমের বাবা ইছা মুন্সি। তাঁর বাড়ি পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার বিচ্ছিন্ন চরমোন্তাজ ইউনিয়নের উত্তর চরমোন্তাজ গ্রামে। তিনি আরও বলেন, ‘মেয়েটা জ্বালা যন্ত্রণা সহ্য করতে না পাইরা বিষ খাইছে। মেয়েটা যে বিষ খাইছে আমাকে কেউ জানায়ওনি। আমি লোকজনের কাছে শুনে বেয়াইরে ফোন দিছি। পরে বিষ খাওয়ার দুই ঘন্টা পর হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা গেছে। আমি সুষ্ঠু বিচার চাই।’জানা গেছে, চার বছর আগে ওই ইউনিয়নের দক্ষিণ চরমোন্তাজ গ্রামের মজিবর মুন্সির ছেলে মটরসাইকেল চালক নবীন মুন্সিরসঙ্গে ইতির বিয়ে হয়। স্থানীয় লোকজন ও প্রতিবেশীরা জানান, বিয়ের এক বছর পর থেকে ইতি-নবীনের দাম্পত্য জীবনে কলহ শুরু হয়। প্রায় সময়ই ঝগড়া-ঝাটি লেগে থাকতো। ছেলে সন্তানের মুখও দেখেননি তারা। যৌতুককে কেন্দ্র করে স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির লোকদের মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকারও হতে হতো ইতিকে। অবশেষে এসব অত্যাচার সইতে না পেরে বিষপান করে জীবনের ইতি টানলেন ইতি।

তির শ্বশুর বাড়ির লোকজেনর দাবি, তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে শুক্রবার দেড়টায় ইতি বিষপান করে। তবে জানা গেছে, গুরুত্বর অসুস্থ অবস্থায় শ্বশুর বাড়ি থেকে ইতিকে গলাচিপা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। শনিবার দুপুর ১২ টার দিকে তার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মর্গে পাঠায় গলাচিপা থানা পুলিশ।এখন প্রশ্ন, তাহলে ইতি কি যৌতুকের বলি? এর উত্তরে ভিন্ন কথা বলছেন ইতির শ্বশুর বাড়ির লোকেরা। তাদের দাবি, ইতি মোবাইল চালাতো। ফোনে কথা বলতো। তাকে মোবাইল চালাতে না দেওয়ায় এবং তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে আত্মহত্যা করেছে। তবে যৌতুকের বিষয় জানতে ইতির স্বামী ও শ্বশুরের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেও তাদের পাওয়া যায়নি।এ ব্যাপারে চরমোন্তাজ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মো. মমিনুল ইসলাম বলেন, ‘ইতি বেগম নামে একজন বিষপান করার সংবাদ আমাদের কাছে আছে। হাসপাতালে নেওয়ার পথে সে মারা গেছে। পারিবারিক দ্বন্দ্বের কারণে সে বিষপান করে বলে জানতে পেরেছি।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর ....

এক ক্লিকে বিভাগের খবর