ঢাকাTuesday , 9 November 2021
  1. epaper
  2. অর্থনীতি
  3. আইন ও অপরাধ
  4. আন্তর্জাতিক
  5. ইতিহাস ঐতিহ্য
  6. ইসলামি দিগন্ত
  7. কুষ্টিয়ার সংবাদ
  8. কৃষি দিগন্ত
  9. খেলাধুলা
  10. গণমাধ্যম
  11. জনদূর্ভোগ
  12. জাতীয়
  13. জেলার খবর
  14. তথ্য প্রযুক্তি
  15. দিগন্ত এক্সক্লুসিভ

কুমারখালীতে আগুনে চার ভাইয়ের চার ঘর পুড়ে ছাই

Link Copied!

কুষ্টিয়ার ‍কুমাখালীতে আগুন লেগে আপন চার ভাইয়ের চারটি ঘর পুড়ে গেছে। মঙ্গলবার (৯ নভেম্বর) সকাল ৬ টার দিকে উপজেলার যদুবয়রা ইউনিয়নের চর এতমামপুর গ্রামে এ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে।

আগুনে চারটি টিনসেটের দোচালা ঘর ও ঘরে থাকা সকল আসবাবপত্র এবং তৈজসপত্র পুড়ে ছাই হয়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার গুলো দাবি করেন জ্বলন্ত চুলা থেকে এই ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের সুত্রপাত হয়। এতে প্রায় সাত লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থরা হলেন চর এতমামপুর গ্রামের মৃত হাসেম আলীর চার ছেলে ময়েন আলী খাঁ (৪০), চয়েন আলী খাঁ (৩৫), জয়নাল আলী খাঁ (৩২) ও বাবু আলী খাঁ (৩০)। তাঁরা পেশায় জেলে ও দিনমজুর।

এদিকে আগুন লাগার খবর শুনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিতান কুমার মন্ডল ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান।

প্রতিবেশীরা জানায়, ময়েন আলীর খাঁ’র স্ত্রী রেখা খাতুন মঙ্গলবার সকাল ৬ টার দিকে মাটির চুলায় রান্না করছিল। এসময় তিনি হলুদ আনতে শয়নকক্ষে যান। কয়েক মিনিটের মধ্যে চুলার কাছে ফিরে এসে দেখেন দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে জয়নাল আলী খাঁর ঘরে। এসময় আগুন আগুন বলে তিনি চিৎকার শুরু করেন।

রেখার চিৎকারে প্রথমে বাড়ির লোকজন এবং পরে আশেপাশের অর্ধশতাধিক প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। তাঁরা কেউ কলস ভরা পানি ছিটান, কেউ কলার গাছ নিক্ষেপ করেন, কেউবা পাশের বাড়ির সাবমার্সিবল মটর দিয়ে পানি ছিটান। এভাবে তাঁদের প্রায় চল্লিশ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। কিন্তু ততক্ষণে চার ভাইয়ের চারটি বসবাসের ঘর ও সকল আসবাবপত্র পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

ময়েন আলী খাঁর স্ত্রী ও প্রত্যক্ষদর্শী রেখা খাতুন বলেন, গরিব মানুষ আমরা। সকাল সকাল রান্না করে একটি কারখানায় কাজে যায়। প্রতিদিনের ন্যায় আজও সকালে রান্না করছিলাম। তরকারি রান্নার জন্য ঘরে হলুদ আনতে গিয়েছিলাম। কয়েক মিনিটের মধ্যে ফিরে এসে বিশাল আগুন দেখি এবং চিৎকার শুরু করি।

প্রতিবেশী আদম আলী মৃধা বলেন, চেঁচামেচি শুনে ছুটে এসে আগুন দেখতে পাই। সবাই মিলে পানি ছিটিয়ে ও কলাগাছ ফেলে প্রায় ৪০ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। আরেক প্রতিবেশী স্বপন আলী বলেন, অল্প জায়গায় চার ভাইয়ের বসবাস। এলাকার সবচেয়ে গরিব মানুষ এরা। পুনরায় ঘুরে দাঁড়াতে সরকারি ও বে-সরকারি সহযোগীতা দরকার।

অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্থ জয়নাল আলী খাঁ বলেন, আমরা চার ভাই কখনো মাছ ধরে বিক্রি করি। কখনো অন্যের কাছ থেকে মাছ কিনে বিক্রি করি। আবার কখনো অন্যের জমিতে দিনমজুরের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করি। আগুনের আমাদের সব কেড়ে নিয়েছে। আমরা পথে বসে গেছি। এখন পরিবার নিয়ে খোলা আকাশের নিচে ববসবাস করতে হবে।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিতান কুমার মন্ডল বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারদের খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। সরকারি অনান্য সহযোগীতা প্রাপ্তির জন্য লিখিত আবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।