রবিবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২২, ০৫:২৮ পূর্বাহ্ন

আবার দেবে গেল মহাসড়ক !

নিজস্ব প্রতিনিধি / ৭১ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
আপডেট টাইম : সোমবার, ১৫ নভেম্বর, ২০২১, ২:১০ পূর্বাহ্ন

কুমারখালী বাস স্ট্যান্ড সংলগ্ন গোলচত্ত্বর এলাকায় কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী সড়কের দুইপাশ আবার দেবে গেছে। সড়কে অনেকটা চিকন খালের মত সৃষ্টি হয়েছে।  স্বাভাবিক চলাচলে বিঘ্ন হচ্ছে। বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। চলাচলে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন যাতায়াতকারীরা।  যাতায়াতকারীরা অভিযোগ করে বলেন, কয়েকমাস আগেও গোলচত্ত্বর এলাকায় সড়ক দেবে খাল তৈরি হয়েছিল। সংবাদ প্রচারের পর তা ঠিক করা হয়েছিল। আবারো দেবে গেছে। আসলে কাজের মান নিম্নমানের। তাই বারবার এমন বেহাল দশা জনগণের।

বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, গোলচত্ত্বর সংলগ্ন পশ্চিম – উত্তর পাশের সড়ক দেবে গেছে। দেবে ছোট বড় বেশ কয়েকটি চিক খাল তৈরি হয়েছে। যানবাহন ও জনগণ ওই ঝুঁকি ও ঝাঁকুনি নিয়েই চলাচল করছে। এ যেন কয়েক লেনের সড়ক!

 জানা গেছে, আঞ্চলিক এই মহাসড়কটি দিয়ে প্রতিদিনই হাজার হাজার বাস, ট্রাক, প্রাইভেট কার ও মাইক্রো, ব্যাটারি চালিত অটো,সি,এন,জি,মোটরসাইকেল,বাইসাইকেলসহ বিভিন্ন প্রকারের ছোট বড় যানবাহন ও মানুষ চলাচল করে। বাসস্ট্যান্ড এলাকাটি উপজেলার মধ্যভাগে অবস্থিত হওয়ায় সকল যানবহন ও জনগণ এই স্থান দিয়েই প্রয়োজনীয় স্থানে চলাচল করে থাকেন। কিন্তু গোলচত্ত্বর মোড়েই সড়কটি চিকন খালের মত কয়েকটা লাইন হয়ে আছে। এতে চলাচলে বিঘ্ন হচ্ছে। যানবহন গুলো উল্টে যাওয়ার উপক্রম হচ্ছে। যেকোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার সম্ভাবনা রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি বলেন, ‘ মাত্র আট মাস আগে এই মহাসড়কটির পূনর্নির্মানের শেষ হয়েছে। তন্মধ্যে চলতি বছরের জুনের দিকে গোলচত্ত্বর এলাকায় সড়ক দেবে যায়। পরে ২০ জুনে দাবা অংশে মেরামত করা হয়। কিন্তু বর্তমানে আবার সড়ক দেবে চলাচলে ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে। সিএনজি চালক মুরাদ হোসেন বলেন, প্রতিদিনই বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গাড়ি চালায়। বেশবিছু দিনই হল সড়কে খাল সৃষ্টি হয়েছে। গাড়িতে ঝাকুনি হচ্ছে। যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়ছে। যানবহন বিকল হচ্ছে।  চালক তুহিন শেখ। তিনি বলেন, গোলচত্ত্বর খুব গুরুত্বপূর্ণ মোড়। সব সময় ব্যস্ত থাকে। ২৪ ঘণ্টা যানবাহন ও জনগণ চলে। সড়কটি গুরুত্বসহকারে সংস্কার করা দরকার। নাম প্রকাশ না করা শর্তে একজন স্কুল শিক্ষক বলেন, গোলচত্ত্বর পার হয়েই উপজেলায় যেতে হয়। গুরুত্বপূর্ণ মোড়েই ঝুকিপূর্ণ সড়ক। যেকোন সময় দুর্ঘটনা হতে পারে। বাসস্ট্যান্ড এলাকার মুদিদোকানী আব্দুল মোমিন বলেন, ‘ গোলচত্ত্বর এলাকার যানবাহন গুলো খুব গতিতে চলে। অপরিচিত চালক গুলো এখানে এসে বিপাকে পড়ছে। সব সময় সময় দুর্ঘটনার ঝু্ঁকি বাড়াচ্ছে। যেন মৃত্যুফাঁদ হয়ে আছে সড়কটি।

এবিষয়ে কুমারখালী পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর এস এম রফিক বলেন, ‘ গোলচত্ত্বর এলাকাটি আমার নির্বাচনী এলাকায়। কয়েকবার করে একই স্থানে খালের সৃষ্টি হয়েছে। নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের কারণেই এমন খাল হচ্ছে। বিষয়টি সওজ (সড়ক ও জনপদ) বিভাগের দেখা উচিৎ। ‘ তিনি আরো বলেন, সওজের জায়গায় পৌরসভার কাজ করার সুযোগ নেই। তাই সমস্যা সমাধানে আমরা কিছু করতে পারছিনা। তবে সওজ বিভাগকে বিষয়টি গুরত্বসহকারে জানানো হবে।’

কুষ্টিয়া সড়ক ও জনপদ বিভাগের কার্যালয় সুত্রে জানা গেছে, প্রায় ১৯০ কোটি টাকা ব্যয়ে এই মহাসড়কের কাজের ঠিকাদার মেহেরপুরের জহুরুল ইসলাম কনস্ট্রাকশন। সড়ক দেবে যাওয়ায় গত ২০ জুন সংস্কার কাজ শেষ করেছে ঠিকাদার। এবিষয়ে কুষ্টিয়া সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ শাকিরুল ইসলাম জানান, কুমারখালী বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন গোলচত্বরে কিছুদিন আগে সংস্করণ করা হয়েছিল। কিন্তু পূনরায় দেবে গেছে। সেখানে এখন ঢালাই দিয়ে সংস্কারকাজ করতে হবে। তিনি দুর্ঘটনারোধে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে জানান।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর ....

এক ক্লিকে বিভাগের খবর