ঢাকাWednesday , 17 November 2021
  1. epaper
  2. অর্থনীতি
  3. আইন ও অপরাধ
  4. আন্তর্জাতিক
  5. ইতিহাস ঐতিহ্য
  6. ইসলামি দিগন্ত
  7. কুষ্টিয়ার সংবাদ
  8. কৃষি দিগন্ত
  9. খেলাধুলা
  10. গণমাধ্যম
  11. জনদূর্ভোগ
  12. জাতীয়
  13. জেলার খবর
  14. তথ্য প্রযুক্তি
  15. দিগন্ত এক্সক্লুসিভ

রাজারবাগ পীরের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু দুদকের

admin
November 17, 2021 1:38 am
Link Copied!

রাজারবাগের পীর দিল্লুর রহমান। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ মামলার ফাঁদে ফেলে জমি দখল। আর পীরের এসব কাজে সহায়তা করেন মুরিদরা। বিভিন্ন ব্যক্তির বিরুদ্ধে অন্তত ৮০০ ভুয়া মামলা করার তথ্য মিলেছে। যার মধ্যে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধেই ৪৯টি মামলা করা হয়েছে। মামলা থেকে পরিত্রাণ পেতে ভুক্তভোগীরা জাতীয় প্রেস ক্লাবসহ বিভিন্ন স্থানে মানববন্ধন করেন। এমন কি সুপ্রিম কোর্টের ভেতরে এবং বাইরে মানববন্ধন করে প্রধান বিচারপতির হস্তক্ষেপ কামনা করেন। পীরের এসব কর্মকাণ্ড নিয়ে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ক্ষিপ্ত হয়ে অনেক সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। অবশেষে বহু মামলার শিকার কাঞ্চনের রিট আবেদনের মাধ্যমে বিষয়টি দেশের সর্বোচ্চ আদালতে গড়ায়। হাইকোর্ট মামলাগুলো স্থগিত করে পীরের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দেন। শুধু তা-ই নয়, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন রাজারবাগ পীরের সব আস্তানা বন্ধের যে সুপারিশ করে, তা বাস্তবায়নের জন্যও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেন আদালত। একইসঙ্গে পীরের অনুসারীদের বিরুদ্ধে করা মামলা তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়।

এরই আলোকে দুদক তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে তদন্ত শুরু করে দিয়েছে। রাজারবাগ পীরের অবৈধ সম্পদ অনুসন্ধানের কর্মকর্তারা হলেন- দুদক প্রধান কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম, সহকারী পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম, উপ-সহকারী পরিচালক মো. আলতাফ হোসেন। এ ছাড়া তদারককারী কর্মকর্তা হিসেবে পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেনকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সচিব মু. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার গণমাধ্যমকে বলেন, রাজারবাগ দরবার শরীফের পীর দিল্লুর রহমানের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে ধর্মের নামে ধোঁকা দেয়াসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সাত হাজার একর জমি ক্রয় ও অবৈধভাবে রাবার বাগান দখলসহ অন্যভাবে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে আদালত তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন। তার ভিত্তিতে তিন সদস্যের টিম গঠন করে অনুসন্ধানী কার্যক্রম শুরু করেছে দুদক। তিনি আরও বলেন, গঠিত টিমকে ৩০শে নভেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কর্মকর্তারা ইতিমধ্যে কার্যক্রম শুরু করেছেন। আশা করি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টিম প্রতিবেদন দিতে পারেবেন।

জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন হলে পীরকে ডাকা হবে কিনা? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন হলে অনুসন্ধানী টিম অবশ্যই তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন। জিজ্ঞাসাবাদ কমিশনে ডাকতে পারেন। বিদেশে পালিয়ে চাওয়া বন্ধে কোনো ধরনের ব্যবস্থা নিবেন কিনা? জবাবে তিনি বলেন, আদালতের নির্দেশেই এই অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। কর্মকর্তারা তাদের সার্বিক কার্যক্রম আদালতকে অবহিত করবেন। সেক্ষেত্রে আদালত ও দুদক টিম প্রয়োজন মনে করলে ব্যবস্থা নেবেন।
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, রাজারবাগ দরবার শরীফের পীর দিল্লুর রহমানসহ বিভিন্ন ব্যক্তি কমপক্ষে ৮০০টি ভুয়া মামলা করেছেন। ঢাকার শান্তিবাগ এলাকার বাসিন্দা কাঞ্চনের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন জেলায় নারী নির্যাতন, ধর্ষণ, চুরি ডাকাতি, মানবপাচারসহ বিভিন্ন অভিযোগে ৪৯টি মামলা দেয়া হয়েছে। কথা হয় কাঞ্চনের সঙ্গে। তিনি মানবজমিনকে বলেন, কারখানার মালিক পরিচয় দিয়ে নারায়ণগঞ্জের যুগ্ম জেলা জজ আদালতে আমার বিরুদ্ধে ৪৯তম মামলাটি করা হয়। কিন্তু সেই মামলার বাদীকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। আমাদের সম্পদ লুটেপুটে খাওয়ার জন্য রাজারবাগ পীর অনুসারীদের দিয়ে আমার বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা করে। আমার মতো আরও বহু লোক তার লালসার শিকার হতে হয়েছে। শিশুকে পর্যন্ত খুনের আসামি হতে হয়েছে। তিনি বলেন, আমার মতো এ রকম সাজানো মামলার আসামি আছে আরও অনেকে। ঢাকার সাইফুল্লার বিরুদ্ধে ৬০টি এবং জিল্লুর রহমান, হাফিজুর রহমান ও আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে ৪৮টি মামলা করেছে এই চক্র। অথচ পুলিশের ক্রিমিনাল রেকর্ডে আমার নাম নেই।

আইনজীবী এডভোকেট শফিক বলেন, ঘটনার সত্যতা না পাওয়ায় আদালত আসামিদের এই মামলা থেকে খালাস দিয়েছেন। কাঞ্চনের আরেক আইনজীবী এডভোকেট আবু হাসনাত ভূঁইয়া বলেন, আমি কাঞ্চনের বেশ কয়েকটি মামলার জামিন করিয়েছি। অনেক মামলার শুনানিও করেছি। এমনও হয়েছে, এক মামলা জামিন করার পর তার বিরুদ্ধে আরেক মামলা হয়। ফলে তাকে কারাগার থেকে বের করা সম্ভব হচ্ছিল না। একপর্যায়ে বুঝতে পারি তিনি সাজানো মামলার ফাঁদে পড়েছেন।

আইনজীবী এমাদুল হক বসির মানবজমিনকে বলেন, দেশের বিভিন্ন জেলায় আদালত একরামুল আহসান কাঞ্চনকে ৩৬ মামলায় খালাস দিয়েছেন। এখনো বাকি ১৩ মামলা। এসব মামলায় তিনি জামিনে আছেন। কাঞ্চনের স্ত্রী তামান্না আকরাম বলেন, ২০০২ সালে কাঞ্চনের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। এরপর তাদের সুখের সংসারে আসে দুই মেয়ে ও এক ছেলে। দেশের খুব কম থানা আছে, যেখানে তার স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা হয়নি। যেখানে মামলার শুনানি, সেখানকার কারাগারেই হয়েছে তার আবাসস্থল। পুলিশ নয়, কে কতোগুলো মামলার আসামি হবে, কে কতো বছর জেল খাটবে, সেই তালিকা করে মামলাবাজ সিন্ডিকেট।
এদিকে, গত ৯ই অক্টোবর রাজারবাগ দরবারের পীর-অনুসারীদের বিরুদ্ধে করা মামলা পরিচালনা করায় ক্ষতির আশঙ্কা থেকে নিরাপত্তা চেয়ে শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মাদ শিশির মনির। সাধারণ ডায়েরিতে (জিডি) তিনি লিখেছেন, এই মর্মে জানাচ্ছি যে, পেশাগত কাজের অংশ হিসেবে মক্কেলের প্রতিনিধি হিসেবে আমাকে আদালতে মামলা পরিচালনা করতে হয়। এক্ষেত্রে মক্কেলের বৈধ অধিকার রক্ষা করা আমার আইনগত ও নৈতিক দায়িত্ব। সমপ্রতি অনলাইন ও অফলাইন প্ল্যাটফরম এবং সাংবাদিকদের মাধ্যমে জানতে পারি যে, আমার পরিচালিত একটি মামলার (রাজারবাগ দরবার শরীফ সংক্রান্ত) বিবাদী পক্ষ ব্যক্তিগতভাবে আমার প্রতি বিরাগ পোষণ করছেন। তাদের পূর্ববর্তী কর্মকাণ্ডের ধরন দেখে আমি আশঙ্কা করছি তারা আইনবহির্ভূতভাবে আমার ক্ষতি করতে পারেন।

বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।