ঢাকাFriday , 19 November 2021
  1. epaper
  2. অর্থনীতি
  3. আইন ও অপরাধ
  4. আন্তর্জাতিক
  5. ইতিহাস ঐতিহ্য
  6. ইসলামি দিগন্ত
  7. কুষ্টিয়ার সংবাদ
  8. কৃষি দিগন্ত
  9. খেলাধুলা
  10. গণমাধ্যম
  11. জনদূর্ভোগ
  12. জাতীয়
  13. জেলার খবর
  14. তথ্য প্রযুক্তি
  15. দিগন্ত এক্সক্লুসিভ

একটি সড়কের কান্না আমাদের দুর্ভোগ

Link Copied!

সড়কের শরীর থেকে পিচ-পাথর উঠে গেছে। ভেতর থেকে কাদা-মাটি বেরিয়ে বিভৎস, অনেকটা ভয়াবহ দুর্ঘটনায় পড়া মানুষের ছিন্নভিন্ন দেহ, নাড়ি-ভুড়ি বেরিয়ে আসার মতোই কদাকার, কষ্টের চেহারা দিয়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে। অপারেশনের টেবিলে নিয়ে ডাক্তাররা আহত মানুষকে অভয় দেন, সারিয়ে তুলতে প্রাণপণ চেষ্টা করেন। এখানে দ্রুত প্রয়োজনীয় সেলাই, চিকিৎসা, রক্তদানসহ অন্যান্য ব্যবস্থা না নিলে রোগীকে প্রাণে বাঁচানো কষ্টসাধ্য।
আহত মানুষের সঙ্গে ক্ষত-বিক্ষত সড়কের তুলনা করা অপ্রাসঙ্গিক লাগতে পারে। কিন্তু পেশাগত জীবনের অভিজ্ঞতায় এর থেকে ভালো উদাহরণ আর পাচ্ছি না। আমি বিনয়ের সঙ্গে বলতে চাই, ক্ষত সারিয়ে স্বাভাবিক করে তুলতে মানুষের জন্য যেমন বৈজ্ঞানিক চিকিৎসা ব্যবস্থা রয়েছে, সেখানে যা দরকার তা সুচারুভাবে করতে হবে। অন্যদিকে সড়কের ক্ষেত্রে একই, বৈজ্ঞানিকভাবে দরকারী চাহিদা সড়কে যোগান দিতে না পারলে কোনভাবেই তা চলাচলযোগ্য রাখা সম্ভব না।
কুষ্টিয়া অঞ্চলের মানুষই শুধু না, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম-উত্তরবঙ্গের মানুষের যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা কুষ্টিয়া-পাবনা মহাসড়ক। সড়কটি উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের ৩২ জেলার প্রবেশদ্বার। এ সড়কের কুষ্টিয়ার ত্রিমোহনী থেকে ভেড়ামারার বারোমাইল পর্যন্ত বেহাল হওয়ায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে যাত্রীদের।

এখানে প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকায় খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি খারাপ হয়েছে তালবাড়িয়া, রানাখড়িয়া ও বহলবাড়িয়া এলাকায়। রানাখড়িয়া এলাকায় প্রায় এক কিলোমিটার অংশ পিচ ও পাথর উঠে সেখানে কাদা হয়ে আছে। ইট ফেলে যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।
বছর তিনেক আগে এ রকমই অবস্থা থাকাকালে সড়কের সংস্কার কাজ করা হয়। তখন পণ্যবোঝাই ভারী ভারী যানবাহন চলাচলের মতো সক্ষমতার বিষয়টি মাথায় রাখা হয়নি। সংস্কারকাজের কিছুদিন পর সড়কের বিভিন্ন স্থানে উঁচু-নিচু হতে দেখা যায়। বছর ঘুরতে না ঘুরতেই খানাখন্দের সৃষ্টি হয়ে সড়কটি একেবারেই যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।
সব মিলে বিগত ২০ বছর যাবত কুষ্টিয়া ভেড়ামারা রোডের বৈজ্ঞানিকভাবে কোন সংস্কার করা হয়নি।
বর্তমানে চলাচলের অযোগ্য এ রাস্তাটি বিভৎস, আগেই বলেছি ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হয়ে ক্ষত-বিক্ষত হয়ে সে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে। এ রাস্তা দিয়ে রোগী নিয়ে অ্যাম্বুলেন্স আসতে পারবে না, বরং হাসপাতালে নেওয়ার আগেই সে রোগী পরপারে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নিয়মিত এ রাস্তায় আমার যাতায়াত, আমার মতো কার বা মাইক্রোবাসে কেউ এ রাস্তায় যেতে চাইলে তাকে ভয়ানক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হবে। রাস্তার গর্তে গাড়ির চাকা আটকে বডি ও সাইলেন্সারে ধাক্কা খাবে, নিজের ব্যবহারের প্রিয় বাহনটির বারোটা বাজবে।
আবার ফিরে আসি সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রকৌশলীদের ভূমিকা নিয়ে। রাষ্ট্রের সকল শ্রেণী-পেশার মানুষের টাকায় এ রাস্তা তারা সংস্কার করেন। তা যদি টেকসই না হয়, আবার উল্টো সেই কৃষক-শ্রমিক-জনতার ঘাড়েই সকল দুর্ভোগ নেমে আসে, তাহলে প্রকৌশলীদের সক্ষমতা ও দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়। একটি রাস্তা মজবুত ও টেকসই করার জন্য যা প্রয়োজন তা নিশ্চয়ই আমাদের প্রকৌশলীরা জানেন বলে আমি বিশ্বাস করি, কিন্তু ঠিকাদার বা প্রকৌশলীদের ব্যক্তিগত লাভের জন্য এ রাস্তা সংস্কারে অনিয়ম করা হলে তার দায় তাদেরই নেওয়া উচিৎ।
চলাচলের অযোগ্য এ রাস্তায় মানুষের জান-মালের ক্ষতি হচ্ছে। বিশেষ করে ব্যক্তিগত গাড়ি নষ্ট হচ্ছে, সেখানে নির্বিকার এ রাস্তার দায়িত্বে থাকা প্রকৌশলীরা। ঝুঁকি ও ক্ষতির মুখে পড়ার চেয়ে রাস্তা চলাচলের অযোগ্য অথবা এ রাস্তায় ছোট গাড়ি চলাচল নিষেধ লিখে একটা সাইনবোর্ড তারা টাঙিয়ে দিতে পারতো। এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি না দেওয়ায় তাদের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারেন যে কেউ।
আমার বিশ্বাশ, কুষ্টিয়া অঞ্চলের মানুষ অত্যন্ত ভদ্র অত্যন্ত বিনয়ী এবং ধৈর্যশীল তাই তারা কখনোই সড়ক ও জনপথের উপরে কোন অসুন্দর চাপের সূচনা করেন না। আমরা বলতে চাই কারণ ব্যাখ্যা করে অতিসত্বর কর্তৃপক্ষ সকলকে অবহিত করবেন এবং ক্ষমা চাইবেন জনগনের এই ভোগান্তির জন্য। অন্যথায় পরিস্থিতি খারাপ হতে পারে।

ডা. এস এম মুসতানজিদ
সাবেক অধ্যক্ষ: কুষ্টিয়ামেডিক্যাল কলেজ।
সভাপতি কুষ্টিয়া নাগরিক কমিটি।

বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।