ঢাকাMonday , 12 October 2020
  1. epaper
  2. অর্থনীতি
  3. আইন ও অপরাধ
  4. আন্তর্জাতিক
  5. ইতিহাস ঐতিহ্য
  6. ইসলামি দিগন্ত
  7. কুষ্টিয়ার সংবাদ
  8. কৃষি দিগন্ত
  9. খেলাধুলা
  10. গণমাধ্যম
  11. জনদূর্ভোগ
  12. জাতীয়
  13. জেলার খবর
  14. তথ্য প্রযুক্তি
  15. দিগন্ত এক্সক্লুসিভ

অত্যন্ত মেধাবী স্মৃতিশক্তির অধিকারী যায়িদ ইবন সাবিত

দিগন্ত ডেস্ক
October 12, 2020 3:42 pm
Link Copied!

আল কুরআনের যা পড়তেন, তা সবই মুখস্থ রাখতে পারতেন। তিনি ছিলেন যায়িদ ইবন সাবিত । তিনি অত্যন্ত মেধাবী, স্মৃতিশক্তির অধিকারী ছিলেন।
রাসূল (সা) হিজরত করে মদীনায় এলেন। তিনি মদীনায়, পা রাখার পরই মদীনার মানুষ যায়িদকে সাথে করে নিয়ে গেল রাসূলের (সা) দরবারে।

রাসূল (সা) তাকে দেখেই বুঝে গেলেন যে, এ এক অসাধারণ মেধাবী কিশোর। আর রাসূল (সা) যখন জানলেন যে, এই কিশোর সতেরটি সূরার হাফেজ হয়ে গেছেন ইতোমধ্যেই তখন তো তাঁর বিস্ময়ের আর সীমা রইলো না।
রাসূল (সা) অসম্ভব খুশি হলেন এই সংবাদে। এরপর রাসূল (সা) স্বয়ং তাকে কুরআন তিলাওয়াত করতে বললেন।
যায়িদ রাসূলের (সা) আদেশ পালন করলেন।
তার কণ্ঠে আল কুরআনের সহীহ তিলাওয়াত শুনে মুগ্ধ হলেন রাসূল (সা)।
মদীনায় আছেন রাসূল (সা)।

 

প্রতিদিনই এ সময় তাঁর কাছে আসতে থাকে বিভিন্ন এলাকা থেকে চিঠিপত্রের বহর। এর মধ্যে আছে পার্শ্ববর্তী দেশ ও এলাকার রাজাদের চিঠি। অধিকাংশ চিঠিতে ভাষাই ছিল সুরইয়ানী ও ইবরানী (হিব্র“)। মদীনায় তখন এই দু’টি ভাষা জানতো কেবল ইহুদিরা।
কিন্তু ইহুদিরা কখনই ইসলামকে ভালো চোখে দেখতো না। বরং দুশমনী করাই ছিল তাদের প্রধানতম কাজ।
মদীনার মুসলমানরাও এই দু’টি ভাষা জানতো না। ফলে বেশ সমস্যা দেখা দিলো। কী করা যায়? ভাবছেন রাসূল (সা)।
হঠাৎ তিনি ডাকলেন যায়িদ ইবন সাবিতকে কাছে, একান্ত কাছে ডেকে নিয়ে যায়িদকে বললেন ভাষা দু’টি শিখে নেবার জন্য।
রাসূলের (সা) নির্বাচন বলে কথা!
যায়িদ নিজেই বলছেন সেই স্মৃতিবাহী ঘটনার কথা।Ñ
রাসূল (সা) মদীনায় এলে আমাকে তাঁর সামনে হাজির করা হলো। তিনি আমাকে বললেন, যায়িদ আমার জন্য তুমি ইহুদিদের লেখা শেখ। আল্লাহর কসম! তারা আমার পক্ষ থেকে ইবরানী ভাষায় যা কিছু লিখছে, তার ওপর আমার আস্থা হয় না। রাসূলের (সা) নির্দেশে আমি ইবরানী ভাষা শিখলাম। মাত্র আধা মাসের মধ্যে এতে দক্ষতা অর্জন করে ফেললাম।
তারপর রাসূলুল্লাহর (সা) ইহুদিদেরকে কিছু লেখার দরকার হলে আমিই লিখতাম এবং রাসূলকে (সা) কিছু লিখলে আমিই তা পাঠ করে শোনাতাম।
হযরত যায়িদ! কী অসাধারণ তার মেধা এবং স্মরণশক্তি। তার এই মহান গুণের জন্য, এই দক্ষতা অর্জনের জন্য রাসূল (সা) যাবতীয় লেখালেখির দায়িত্ব অর্পণ করেন যায়িদের ওপর।
যায়িদ আরবি ও ইবরানিÑদুই ভাষাতেই লিখতেন।
রাসূলের (সা) সর্বপ্রথম সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন করেন উবাই ইবন কাব আল আনসারী। আর উবাই-এর অনুপস্থিতিতে রাসূলের (সা) এই মহান দায়িত্ব পালন করতেন যায়িদ ইবন সাবিত।
তারা ওহি ছাড়াও লিখতেন রাসূলুল্লাহর (সা) চিঠিপত্র। রাসূলের (সা) ওফাত পর্যন্ত যায়িদ এই দায়িত্ব পালন করেছেন অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে।
রাসূলের (সা) ওফাতের পরÑহজরত আবু বকর ও হযরত উমরের (রা) খিলাফত কালেও যায়িদ এই দায়িত্ব পালন করেন।
রাসূলের (সা) সময়ে যখন চিঠিপত্র কিংবা ওহি লেখার প্রয়োজন হতো, তখন যায়িদ হাড়, চামড়া, খেজুরের পাতা প্রভৃতি ব্যবহার করতেন।
পবিত্র আল কুরআনই ইসলামের মূল ভিত্তি। এই পবিত্র আল কুরআন সংগ্রহ ও সঙ্কলনের মহা গৌরবজনক সম্মানের অধিকারী হযরত যায়িদ ইবন সাবিত।
রাসূলের ওফাতের পর প্রথম খলিফা হযরত আবু বকরের (রা) সময়ে আরব উপদ্বীপে একদল মানুষ মুরতাদ (ইসলাম ত্যাগ করা) হয়ে মুসায়লামায় নিজেকে নবী বলে ঘোষণা করে। হজরত আবু বকর (রা) তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন। যদিও এই যুদ্ধে মুসলিম বাহিনী বিজয় লাভ করে এবং মুসায়লামা মুসলিম বাহিনীর হাতে নিহত হয়।
তবে যুদ্ধে একে একে শহীদ হয়ে যান সত্তর জন হাফেজে কুরআন।
একটি যুদ্ধে এত বিপুল সংখ্যক হাফেজে কুরআনের শাহাদাত কুরআন সংরক্ষণের ব্যাপারে হজরত উমরকে (রা) শঙ্কিত করে তোলে। তিনি খলিফা হজরত আবু বকরকে (রা) আল কুরআন সংরক্ষণের জন্য তা লিপিবদ্ধ করার জন্য বিশেষভাবে পরামর্শ দেন।

 

হজরত আবু বকর (রা) হজরত উমরের (রা) এই পরামর্শ গ্রহণ করেন। তিনি আল কুরআন লিপিবদ্ধ করার জন্য আহবান জানালেন যায়িদ ইবন সাবিতকে। বললেন, তুমি একজন বুদ্ধিমান নওজোয়ান। তোমার প্রতি সবার আস্থা আছে। রাসূলুল্লাহর (সা) জীবিত কালে তুমি ওহি লিখেছিলে। সুতরাং তুমিই এই কাজটি সম্পাদন কর।
হজরত আবু বকরের (রা) প্রস্তাবটি শোনার পর যায়িদ তার অনুভূতি ব্যক্ত করলেন এইভাবে : ‘আল্লাহর কসম! তারা আমাকে আল কুরআন সংগ্রহ করার যে নির্দেশ দিয়েছিলেন তা করার চেয়ে একটি পাহাড় সরানোর দায়িত্ব দিলে তা আমার কাছে অধিকতর সহজ হতো।’
আল কুরআন সংরক্ষণের কাজে হজরত যায়িদকে সহযোগিতার জন্য আবু বকর (রা) আরও একদল সাহাবাকে দিলেন। দলটির সংখ্যা ছিল পঁচাত্তর। তাদের মধ্যে উবাই ইবন কাব ও সাঈদ ইবনুল আসও ছিলেন।
যায়িদ খেজুরের পাতা, পাতলা পাথর ও হাড়ের ওপর লেখা আল কুরআনের সকল অংশ সংগ্রহ করলেন। এরপর হাফেজদের পাঠের সাথে তা মিলিয়ে দেখলেন।
হযরত যায়িদ!
কী সৌভাগ্যবান এক আলোর জ্যোতি।
রাসূলের (সা) ওহি লেখার দায়িত্ব যে বিশেষ সাহাবীদের ওপর ছিল, তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন যায়িদ ইবন সাবিত।
যায়িদ সকল সময় রাসূলের (সা) সাহচর্যে থাকার চেষ্টা করতেন। রাসূলের (সা) পাশে যখন বসতেন তখন কলম, দোয়াত, কাগজ, খেজুরের পাতা, চওড়া ও পাতলা হাড়, পাথর ইত্যাদি তার চার পাশে প্রস্তুত রাখতেন। যাতে করে রাসূলের (সা) ওপর ওহি নাজিলের সাথে সাথেই তিনি তা লিখতে পারেন।
রাসূলের (সা) প্রতি ছিল যায়িদের সীমাহীন ভালোবাসা। ছিল তাঁর প্রতি শর্তহীন আনুগত্য। এই ভালোবাসার কারণে তিনি সকল সময় চেষ্টা করতেন প্রাণপ্রিয় রাসূলের (সা) কাছাকাছি থাকার জন্য।
ভোরে, যখন ফর্সা হয়নি দূরের আকাশ, যখন কিছুটা অন্ধকারে ঢেকে থাকতো সমগ্র পৃথিবী, ঠিক সেই প্রত্যুষে নীরবে, অতি সন্তর্পণে যায়িদ পৌঁছে যেতে
ন দয়ার নবীজীর দরবারে। কখনো বা পৌঁছে যেতেন সাহরির সময়ে।
দয়ার নবীজীও প্রাণ দিয়ে ভালোবাসতেন যায়িদকে। যখন বদর যুদ্ধ সংঘটিত হয়, তখন যায়িদের বয়স মাত্র তের বছর। তার প্রবল ইচ্ছা ও বাসনা ছিল যুদ্ধে যাবার। কিন্তু বয়স কম থাকার কারণে তাকে অনুমতি দেননি মহান সেনাপতি রাসূল (সা)।
কিন্তু যখন উহুদ যুদ্ধ সংঘটিত হলো, তখন যায়িদের বয়স ষোল বছর। এখন কে আর তাকে যুদ্ধে যাওয়া থেকে বিরত রাখে!
না, কেউ তার গতিরোধ করেননি।
যায়িদ প্রবল প্লাবনের মত তরঙ্গ-উচ্ছ্বাসে যোগ দিলেন উহুদ যুদ্ধে।
যুদ্ধ করলেন প্রাণপণে। সাহসের সাথে।
যুদ্ধের ময়দানে যায়িদ। ষোল বছরের এক টগবগে যুবক। যুবকতো নয় যেন আগুনের পর্বত, বারুদের ঘোড়া! কম কথা নয়!
মাত্র এগার বছরে ইসলাম গ্রহণ। সতেরটি সূরার হাফেজে কুরআন। কাতেবে ওহির মর্যাদা লাভ। রাসূলের (সা) সেক্রেটারি হবার গৌরব অর্জন।
সম্পাদনায়,
মাওলানা খালিদ হোসাইন সিপাহী
পরিচালক
হক্কানী দরবার।

বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।