শুক্রবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২২, ১০:২১ অপরাহ্ন

উৎসবপ্রিয় বাঙালি ও ফানুসের আগুন

Reporter Name / ৪১ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
আপডেট টাইম : বুধবার, ৫ জানুয়ারী, ২০২২, ১:১৩ পূর্বাহ্ন

বাংলাদেশের মানুষ কতটা উৎসবপ্রিয়, তার বড় উদাহরণ প্রতি বছরের দুই ঈদে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কোটি মানুষের বাড়ি ফেরা। এই ঝুঁকি নেওয়ার পেছনে উৎসব একটি বড় উপলক্ষ হলেও মূল উদ্দেশ্য প্রিয়জনের সান্নিধ্য। অর্থাৎ, একদিকে উৎসব, অন্যদিকে প্রিয় মানুষের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি। ফলে করোনাভাইরাসের মতো অতিমারি উপেক্ষা করেও ফেরি-লঞ্চ ও ট্রেনের ছাদে চড়ে মানুষেরা বাড়ি যায়, দেশে যায়। যে বাড়ি, যে দেশ বুকপকেটে খুব যত্নে থাকে। ফলে মানুষকে কোনও বৈজ্ঞানিক, স্বাস্থ্যগত এমনকি প্রশাসনিক ভয়ভীতি দেখিয়েও তার এই আনন্দ উদযাপন থেকে বিরত রাখা যায় না। তবে এই আনন্দের প্রকাশ অনেক সময় সমূহ বিপদও ডেকে আনে, যার বড় উদাহরণ ২০২১ সালকে বিদায়ের রাতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অন্তত ২০০টি আগুনের ঘটনা। অর্থাৎ নতুন বছরের আগের রাতে দেশের নানা প্রান্ত, বিশেষ করে রাজধানীর আকাশে রঙিন হয়ে ওঠে আতশবাজি আর ফানুসে। কিন্তু এই ফানুস কয়েকটি বড় ধরনের বিপদের সংকেত দিয়ে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে গণমাধ্যমের খবর বলছে, রাত বারোটা বাজার আগে থেকেই পুরনো ঢাকার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা বাড়ির ছাদে আতশবাজি ফোটাতে শুরু করেন। ফানুসও ওড়ান। ধোলাইখাল বড় মসজিদের সামনে একটি পাঁচতলা ভবন থেকে কিছু ফানুস উড়িয়েছিলেন ভবনের বাসিন্দারা। এর একটি উপরে না ওঠে নিচে নেমে যায়। পরে সেটি ভবনের বৈদ্যুতিক তারের সঙ্গে জড়িয়ে গেলে আগুনের সূত্রপাত হয়। সেই আগুন থেকে ভবনটির পাশের গাড়ির টায়ারের কয়েকটি দোকানে লেগে যায়। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে বাসা থেকে নিচে নেমে নিরাপদ স্থানে অবস্থান নেন। এলাকার বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আগুন নিভিয়ে ফেলে।

বাস্তবতা হলো, পুরনো ঢাকার ঘিঞ্জি এলাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হতো। এখানের নিমতলি, চকবাজার ও চুড়িহাট্টার আগুনের বিভীষিকা জনমনে এখন জ্বলজ্বলে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স বলছে, বর্ষবরণের উদযাপন শুরু হওয়ার পরপরই ঢাকার অন্তত সাত জায়গায় আগুন লাগার তথ্য পাওয়া গেছে। একটি বেসরকারি টেলিভিশনের খবরে বলা হয়েছে, বর্ষবরণের রাতে রাজধানীসহ দেশের  বিভিন্ন স্থান থেকে প্রায় ২০০ আগুন লাগার সংবাদ আসে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কন্ট্রোল রুম এবং জরুরি সেবা ৯৯৯-এর কাছে।

মধ্যরাতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আগুনের খবর দ্রুতই ছড়িয়ে পড়ে সোশাল মিডিয়ায়। সাংবাদিক মুহসিন কবির ফেসবুকে লেখেন: ‘বর্ষবরণ যেন এখন মৃত্যুবরণের কারণ হতে চলেছে। বড় ধরনের দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পেলাম। পাশের ভবন থেকে ওড়ানো ফানুস পড়ে আমাদের ভবনের পেছনের অংশে টিনশেড ঘরের ওপর। সেখান থেকে গড়িয়ে নিচে পড়ে যায়। যেখানে আগুনটা ধরে যাওয়ার সব উপাদানই ছিল। ভাগ্যিস, আমাদের চোখে পড়ে। আমাদের চিৎকার শুনে পাশের ভবনের ছাদ থেকে একটি ছেলে দ্রুত দুই বালতি পানি এনে ঢেলে দেওয়ায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রেহাই মেলে।’ এই অভিজ্ঞতার আলোকে মুহসিন কবির লিখেছেন, রাজধানীর মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ফানুস নিষিদ্ধ হওয়া দরকার। একই বিষয়ে সাংবাদিক মীর মুশফিক আহসান লিখেছেন: ‘আরেকটা নিমতলি ট্র্যাজেডির পর কি ঢাকায় ফানুস ওড়ানো বন্ধ করবেন?’

ফানুস মূলত আগুনের চাপে শূন্যে উড়িয়ে দেওয়া এক ধরনের বেলুন, যাকে  ‘আকাশপ্রদীপ’ বা ‘আকাশ লণ্ঠন’ও বলা হয়ে থাকে। ধারণা করা হয়, এর উৎপত্তি চীনে। যে কারণে অনেকে একে ‘চীনা লণ্ঠন’ নামেও অভিহিত করেন। ফানুস কাগজে তৈরি একটি ছোট উষ্ণ বায়ু বেলুন, যেখানে নিচের দিকে একটি ছোট অগ্নিকুণ্ড স্থাপন করা থাকে। সাধারণত মোম দিয়ে এই আগুন জ্বালানো হয় এবং এই আগুনের ফলে তৈরি চাপ কাগজের তৈরি ফানুসটিকে উপরে নিয়ে যায়। তীব্র বাতাস না থাকলে এই ফানুস অনেক উঁচুতে উঠতে পারে। একসময় আগুন নিভে গেলে ফানুসটি নিচে পড়ে যায়। ভাসমান অবস্থায়, প্রচলিত নকশার ফানুস যতক্ষণ সোজা থাকে ততক্ষণ চারপাশের কাগজে আগুন লাগার শঙ্কা কম। তবে বায়ুপ্রবাহ অথবা কোনও কিছুর সঙ্গে ধাক্কা লেগে ফানুসটি হেলে পড়লে আগুন লেগে যেতে পারে। এতে চারপাশের কাগজের খোলটি কয়েক সেকেন্ডেই পুড়ে যায়। আগুনের শিখা মাটিতে না পড়া পর্যন্ত জ্বলতে পারে। তবে শূন্যে ভাসমান থাকা অবস্থায় ফানুসটি পুরোপুরি পুড়ে গেলেও বিপদ নেই। কিন্তু যদি এটি অপেক্ষাকৃত নিচে থাকে এবং জ্বলন্ত অবস্থায় কোনও দাহ্য বস্তুর ওপরে গিয়ে পড়ে তখনই বিপদের শঙ্কা দেখা দেয়।

কখনও ফানুসের আগুন দাহ্য বস্তুর মাধ্যমে অনেক বড় অগ্নিকাণ্ডেরও জন্ম দিতে পারে। ২০১৩ সালের পয়লা জুলাই ইংল্যান্ডের ওয়েস্ট মিডল্যান্ডসে স্মেথউইকের একটি প্লাস্টিক রিসাইক্লিং প্ল্যান্টে জ্বলন্ত ফানুস এসে পড়লে আগুনে প্রায় এক লাখ টন পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপাদান পুড়ে যায় এবং আনুমানিক ছয় মিলিয়ন পাউন্ড ক্ষতি হয়। ২০১৮ সালে ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরো শহরের কাছে রিওসেন্ট্রো কনভেনশন সেন্টারের একটি প্যাভিলিয়নের ছাদে জ্বলন্ত ফানুস এসে পড়ায় তা সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়। ইন্টারনেট খুঁজলে এরকম আরও উদাহরণ পাওয়া যাবে। এসব কারণে বিশ্বের নানা দেশেই ফানুস ওড়ানো নিরুৎসাহিত করা হয়।

ফানুস ওড়ানো যাবে না—বাংলাদেশে এরকম কোনও আইন নেই। তবে ১৮৬০ সালের ফৌজদারি কার্যবিধির ২৬৮ ধারায় জনউপদ্রব সৃষ্টির জন্য শাস্তির কথা উল্লেখ আছে, যেখানে মানুষের অধিকার হরণ কিংবা তার জন্য বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, এমন কোনও কাজ করলে সেটিকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আইনের এই বিধানের আলোকেও ফানুস নিষিদ্ধ করা যায়। কারণ, এটি জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করে এবং আগুন লাগিয়ে দিয়ে প্রাণহানির মতো পরিস্থিতি তৈরি করে।

ফানুস ওড়ানোর বিরুদ্ধে ২০১৮ সালে ঢাকা মহানগর পুলিশের একটি নির্দেশনা আছে। ওই বছরের ৭ জানুয়ারি ডিএমপির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এখন থেকে রাজধানীতে যেকোনও ধরনের ফানুস ওড়ানো থেকে বিরত থাকতে হবে। এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশের ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কিছু ব্যক্তি বা গোষ্ঠী বিভিন্ন অনুষ্ঠান উপলক্ষে ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন জায়গা থেকে আকাশে ফানুস উড়িয়ে দিচ্ছেন। ফানুসে কেরোসিন দ্বারা প্রজ্বলিত বাতি থাকায় এগুলো জ্বলন্ত অবস্থায় জনবহুল মহানগরীর বিভিন্ন জায়গায় পড়ছে। এতে অগ্নিকাণ্ডসহ নানা নিরাপত্তাজনিত হুমকি সৃষ্টি হচ্ছে। মহানগরীতে ফানুস ওড়ানো অব্যাহত রাখলে যেকোনও সময় বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারে।

তবে ফানুস ওড়ানোর সঙ্গে বৌদ্ধ ধর্মের আচার সম্পৃক্ত বলে তখন এই নিষেধাজ্ঞা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছিল। যদিও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, তারা যেহেতু পুলিশের অনুমতি নিয়েই ফানুস উড়িয়ে থাকেন, তাই তারা এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বেন না।

প্রশ্ন হলো, ফানুস নিষিদ্ধ করলেই কি উৎসবপ্রিয় বাঙালি তা মানবে? মানছে না তো। ২০১৮ সালেও ডিএমপির ওই নির্দেশনা কেউ মানেনি। কারণ, ফানুস তৈরি ও বেচাকেনা নিষিদ্ধ হয়নি। দোকান তো বটেই, রাস্তার পাশে ফুটপাতেও ৩০-৪০ টাকা দিয়ে একটি ফানুস কিনতে পাওয়া যায়। একসঙ্গে অনেক অর্থাৎ পাইকারি কিনলে আরও কম দাম। ফানুস তৈরিও খুব জটিল কিছু নয়। যারা ঘুড়ি বানাতে পারেন, তারা ফানুসও তৈরি করতে জানেন।

তবে এ বছর দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রায় ২০০ জায়গায় যে ফানুসে থেকে আগুন লাগলো তার কারণ সম্ভবত অতিরিক্ত বাতাস। ৩১ ডিসেম্বর অর্থাৎ শুক্রবার রাতে তুলনামূলক অনেক বাতাস ছিল। ফলে অনেক ফানুস জ্বালিয়ে উপরে ছেড়ে দিলেও সেটি খুব বেশি উঁচুতে ওঠার আগে আশপাশে গিয়ে পড়েছে এবং যেখানেই কোনও দাহ্য বস্তুর ওপর গিয়ে পড়েছে সেখানেই ছোট-বড় আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। যদিও কোথাও প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।

শুধু ফানুস নয়, যেকোনও উৎসবের সময়ে আতশবাজি পোড়াতেও নিষেধাজ্ঞা দেয়। কিন্তু মানুষ তা মানে না। কারণ, রাষ্ট্রীয় অনেক অনুষ্ঠানেও জমকালো আতশবাজির উৎসব করা হয়। সারা বিশ্বেই আতশবাজি উৎসবের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। সুতরাং, আতশবাজি নিষিদ্ধ করেও কোনও লাভ হয় না— যতক্ষণ না এর উৎপাদন ও বিক্রি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে।

বাস্তবতা হলো, আতশবাজি কিংবা ফানুস নিষিদ্ধ করা কিংবা এর উৎপাদন ও বিপণন বন্ধ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তরফে নাগরিকদের ভয়ভীতি দেখানো হলেও মানুষ ঠিকই এর বিকল্প বের করে ফেলবে। কারণ, উৎসব মানেই সেটি অন্যকে জানানো। ঘরে বসে একা একা উৎসব হয় না। ফলে মানুষ যখনই উৎসবের গন্ধ পায়, সে বাইরে বেরিয়ে আসতে চায় এবং নিজেকে প্রকাশ করতে চায়। আতশবাজি ও ফানুস সেই প্রকাশের একটি মাধ্যম।

তাহলে সমাধান কী?

সমাধান হচ্ছে সচেতনতা এবং আত্মনিয়ন্ত্রণ। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, শুক্রবার রাতে আমরাও ছাদে ফানুস নিয়ে উঠেছিলাম। প্রতিবেশীরা ছিলেন। শিশু বৃদ্ধ সব বয়সী মানুষ ছাদে উঠে আশপাশের আতশবাজি দেখে উল্লসিত হয়েছেন। আমরাও ফানুস ওড়াতে চেয়েছিলাম। কিন্তু জ্বালাতে গিয়েই টের পেয়েছি তীব্র বাতাসে এগুলো ওড়ানো যাবে না। ওড়ালেই আশপাশে গিয়ে পড়ে দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। ফলে আমরা ফানুস ওড়ানো থেকে বিরত থাকি এবং আকাশে আতশবাজির ঝলকানি দেখে আনন্দ প্রকাশ করি। যদিও সেই আতশবাজির সঙ্গে প্রচুর ফানুসও উড়তে দেখেছি। কয়েকটি ফানুস দেখেছি জ্বলন্ত অবস্থায় দ্রুতগতিতে নিচে নেমে যাচ্ছে। সম্ভবত এসব ফানুস কোনও দুর্ঘটনার জন্ম দেয়নি।

মানুষ সুযোগ পেলেই উৎসব করবে, এটিই স্বাভাবিক। কিন্তু সেখানে পরিমিতিবোধ, সচেতনতা এবং ঝুঁকির বিষয়গুলোও মাথায় রাখা দরকার। এগুলো সিভিক সেন্স বা নাগরিক ভব্যতারও অংশ। স্বাধীনতা মানে যেমন আরেকজনের গায়ে থুতু ফেলা নয়, তেমনি উৎসবের স্বাধীনতা মানে আরেকজনের দাহ্য বস্তুতে জ্বলন্ত ফানুস ফেলে দেওয়া নয়। উৎসবের স্বাধীনতা মানে আরেক শরীর লক্ষ করে পটকা ফাটানো নয়। উৎসবের স্বাধীনতা মানে রাতভর উচ্চস্বরে গান বাজিয়ে প্রতিবেশী শিশু-বৃদ্ধ বা অসুস্থ মানুষকে বিব্রত করা নয়। উৎসবের আনন্দ মানে আরেকজনের নিরানন্দের কারণ না হওয়া।

সিভিক সেন্স আইন কিংবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে তৈরি করা যায় না। মানুষ এগুলো পরিবার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শেখে। শৈশব থেকেই তার মধ্যে নাগরিক ভব্যতার বিষয়গুলো ঢুকিয়ে দেওয়া গেলে মানুষ বড় হয়ে উৎসব করবে ঠিকই, সেখানে অন্যের অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তার বিষয়গুলোও তার মাথায় থাকবে। তাতে রাষ্ট্র ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব অনেক কমে যাবে।

লেখক: কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স এডিটর, নেক্সাস টেলিভিশন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর ....

এক ক্লিকে বিভাগের খবর