শুক্রবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২২, ০৯:৩৩ অপরাহ্ন

পাকিস্তান ও বাংলাদেশ: কৌশলগত মিল

আমনা এজাজ রাফি / ২৮ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৬ জানুয়ারী, ২০২২, ৯:৫৮ পূর্বাহ্ন

দারিদ্র্য এবং বহুজাতিক বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের বিরুদ্ধে লড়াই করছে দক্ষিণ এশিয়া। এ অঞ্চলের মধ্যে রয়েছে ভূখ-গত অব্যাহত বিরোধ ও আদর্শিক মতপার্থক্য। আঞ্চলিক নিরাপত্তাহীনতায় ভূমিকা রেখেছে এসব। ন্যূনতম সমন্বিত এই অঞ্চল সমুদ্রবন্দর এবং অর্থনৈতিক করিডোরের মাধ্যমে অর্থনৈতিক যোগাযোগ এবং আঞ্চলিক সংযুক্তি ধরে রেখেছে। অন্যদিকে বিরোধপূর্ণ রাজনীতির প্রেক্ষাপটে এখানে রাজনৈতিক পরিবেশ সংজ্ঞায়িত হয়। দক্ষিণ এশিয়াকে এসোসিয়েশন অব সাউথইস্ট এশিয়ান নেশনস (আসিয়ান) বা বৃহত্তর পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে তুলনা করলে, পরে উল্লেখিতরা আঞ্চলিক শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখায় অগ্রগতি করেছে।

আসিয়ান একটি সংগঠন হিসেবে গড়ে উঠেছে। কারণ, এর সঙ্গে যুক্ত আঞ্চলিক দেশগুলো অর্থনেতিক উন্নয়নের দিকে দৃষ্টি দিয়েছে।

যদিও দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে বিরোধ অব্যাহত আছে, তবুও এর সঙ্গে যুক্ত দেশগুলো অর্থনৈতিক সংযুক্তির মধ্য দিয়ে এবং রাজননৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের মধ্য দিয়ে সামনে এগিয়ে গেছে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক এবং আন্তঃনির্ভরতার ফলে যদি বিরোধের সমাধান করা না হয়, তাহলে তা থেকেই যাবে।

সিপিইসির সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়া এগিয়ে যাচ্ছে অর্থনৈতিক অখ-তা এবং আঞ্চলিক সংযুক্তির দিকে। বিশ্ব যে প্রবণতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে তাতে পূর্বাভাষ দেয় এই অঞ্চলটির প্রাসঙ্গিকতা। করিডোরের কর্মকাণ্ডে এ অঞ্চলে নতুন রাজনৈতিক প্লেয়ারের উদয় হওয়া প্রত্যাশিত। সমুদ্র বন্দর থেকে করিডোর পর্যন্ত দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের ক্রমবর্ধমান ভূমিকা, তাকে এ অঞ্চলে একটি ‘এক্টিভ প্লেয়ারে’ পরিণত করবে। এই পেক্ষাপটে, আঞ্চলিক দৃষ্টিভঙ্গি হওয়া উচিত অর্থনৈতিক উন্নয়ন। সমুদ্রবন্দর এবং কানেক্টিভিটিকে রাজনৈতিক অর্জন হিসেবে দেখা উচিত। আঞ্চলিক দেশগুলোর উচিত হবে না যুক্তরাষ্ট্র-চীন প্রতিযোগিতার অংশ হওয়া এবং ইন্দো-প্যাসিফিক সম্পর্ক গড়ে তোলার অংশ হওয়া। তাই আঞ্চলিক সংযুুক্তি এবং অগ্রগতির জন্য সার্কের দেশগুলোর উচিত রাজনৈতিক পার্থক্য ত্যাগ করে হাতে হাত ধরা।

পাকিস্তানের অর্থনীতির পতন হয়েছে। সেখানকার অর্থনৈতিক বিষয়টি নির্ভর করছে আভ্যন্তরীণ এবং বিদেশি ফ্যাক্টরের ওপর। বিদেশি বিষয় হলো আফগানিস্তান পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ। এসব ইভেন্ট পাকিস্তানের নিরাপত্তার ক্ষতি করেছে। ওই যুদ্ধের কারণে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের পতন হয়েছে পাকিস্তানে। আর আভ্যন্তরীণভাবে পর্যায়ক্রমিক রাজনৈতিক শাসকগোষ্ঠীর দুর্নীতি দেশের শিল্পকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এই ত্রুটি সত্ত্বেও পাকিস্তান জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে এবং আঞ্চলিক ফ্রন্টে লড়াই করেছে। বর্তমান সরকার দৃষ্টি নিবদ্ধ করেছে অর্থনৈতিক উন্নয়নের দিকে। পাকিস্তান আঞ্চলিক পর্যায়ে ভূ-অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড হাতে নিয়েছে।

এ অঞ্চলের অন্যদেশগুলো, যেমন বাংলাদেশ বঙ্গোপসাগর চীনকে ব্যবহারের সুযোগ দিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে আন্তঃআঞ্চলিক সংযুক্তির প্রতি সমর্থন প্রকাশ করা হয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও এখন প্রশংসনীয়। এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট শিজিন চ্যান বলেছেন, এ অঞ্চলে দ্রুত প্রবৃদ্ধির অর্থনীতির অন্যতম বাংলাদেশ। এখানে দারিদ্র্যের হার শতকরা ২৪.৬ ভাগ কমেছে।

উদীয়মান আঞ্চলিক করিডোরের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ এবং পাকিস্তান আঞ্চলিক সংযুক্তির নেতৃস্থানীয় প্লেয়ার হতে পারে। বিসিআইএমের (বাংলাদেশ-চায়না-ইন্ডিয়া-মিয়ানমার) অংশ বাংলাদেশ। অন্যদিকে সিপিইসিতে নেতৃস্থানীয় পাকিস্তান। দক্ষিণ, মধ্য এবং পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান এক ‘ক্রসরোডে’ অবস্থিত গোয়েদার বন্দর। আর চট্টগ্রাম বন্দর হলো বঙ্গোপসাগরের রুট। চীনকে বঙ্গোপসাগরে প্রবেশের সুযোগ দিয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ যেহেতু আঞ্চলিকতার প্রেক্ষাপটে চীনের দিকে ক্রমেই ঝুঁকে পড়েছে তাতে দেখা যাচ্ছে, দক্ষিণ এশিয়ার সমুদ্রবন্দরগুলো চীন নির্মাণ করলে তাতে সমর্থন আছে বাংলাদেশের। এতে আরো ইঙ্গিত মেলে যে, করিডোর সংযুক্তির মধ্য দিয়ে আঞ্চলিক অগ্রগতিতে সুবিধা রাখবে বলে মনে করছে বাংলাদেশ। এর প্রেক্ষিতে আঞ্চলিক সংযুক্তির ক্ষেত্রে কৌশলগত মিল রয়েছে পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের। উভয় দেশই তাদের আঞ্চলিক সংযুক্তিতে যুক্ত হতে পারে এবং অর্থনৈতিক করিডোরের সুবিধার ফল ভোগ করতে পারে।

(নিউ ইয়র্ক টাইমসের পাকিস্তানি সংস্করণ এক্সপ্রেস ট্রিবিউনে প্রকাশিত লেখার অনুবাদ)

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর ....

এক ক্লিকে বিভাগের খবর