শুক্রবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২২, ০৯:৫৪ অপরাহ্ন

কুমারখালীতে খেজুর গাছ লাগিয়ে ভাগ্যবদল

তানভীর লিটন / ৭৪ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
আপডেট টাইম : সোমবার, ১০ জানুয়ারী, ২০২২, ১১:৪০ পূর্বাহ্ন

কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নের রায়ডাঙ্গা গ্রামের আশরাফুল। গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী খেজুর গাছ ও খেজুরের গুড়ের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি।
জেলায় প্রথমবারের মত বানিজ্যিকভাবে খেজুর গাছ লাগিয়ে সারা ফেলেছেন যুবক আশরাফুল। তিনি বিলুপ্তপ্রায় এই গাছের সংরক্ষণের পাশাপাশি খেজুর গাছের রস ও গুড় বিক্রি করে আয় করছেন লাখ টাকা। বর্তমানে তার খেজুর বাগানে চার শতাধিক খেজুর গাছ রয়েছে বলে জানান ।
খেজুরের রস ও গুড় বিক্রি করে আশরাফুলের প্রতিদিনের আয় ১৬ হাজার টাকা। ১ কেজি গুড় বিক্রি হচ্ছে ২৫০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত এবং প্রতি গøাস রসের দাম নিচ্ছে ১০ টাকা।
খেজুর গাছ সংরক্ষনের পাশাপাশি বানিজ্যিকভাবে খেজুর রস ও গুড় উৎপাদন করতেই আশরাফুল নিয়েছেন এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। প্রতিদিন ৫ শত লিটার রসে প্রায় ৮০ কেজি গুড় উৎপাদন করে খরচ বাদে আয় করছে ১৬ হাজার টাকা।
উদ্যোক্তা আশরাফুল ইসলাম জানান, গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী খেজুর গাছ প্রায় বিলুপ্তির পথে। আর তা দেখে আমি এই গাছকে বাণিজ্যিকভাবে সংরক্ষণ করার কথা ভাবি। সেই ভাবনা থেকেই আট বছর আগে আমি আমার পাঁচ বিঘা ধানী জমির আইলের তিন পাশে ৩ শত ১০টি খেজুর গাছ রোপণ করি। আজ সেই খেজুর গাছ থেকেই আমি আয় করছি লাখ লাখ টাকা। এবছর আরও খেজুর গাছ রোপণ করব বলেও তিনি জানিয়েছেন।
খেজুরের গুড় কিনতে আসা ব্যবসায়ী কামারুল ইসলাম রাশেদ জানান, আশরাফুল ভাইয়ের খেজুরের গুড়ের সুনাম শুনে আমি ঢাকা থেকে এসেছি। আজ ৫০ কেজি গুড়ের অর্ডার দিয়েছি, ক্রেতাদের সারা মিললে আমি আরও গুড় নিব।
রাকিবুল ইসলাম নামের এক খুচরা ক্রেতা বলেন, বাজারে নকল গুড়ের মাঝে আশরাফুল তার নিজ বাগান থেকে উৎপাদিত রস দিয়ে বিশুদ্ধ গুড় তৈরি করে তাই আমার বাড়িতে শীতকালীন পিঠা পুলি বানানোর জন্য এই গুড় কিনতে এসেছি।
আশরাফুল ইসলামের এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিতান কুমার মন্ডল বলেন, সরকারি ওয়েব পোর্টালের মাধ্যমে তার এই প্রশংসনীয় কার্যক্রম অনুপ্রেরণামূলক তুলে ধরাসহ বাজার সম্প্রসারণের জন্য কাজ করবে উপজেলা প্রশাসন।
উপজেলা বন ও পরিবেশ কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম জানান, তাল গাছ সংরক্ষণের মত খেজুর গাছকেও সংরক্ষণের জন্য কোন প্রকল্প গ্রহণ করা যায় কি না তা উর্ধতন কর্মকর্তাদের নিকট উপস্থাপন করব।
কুটির শিল্পের উপকরণ হিসেবেও খেজুর গাছের গুরুত্ব রয়েছে অনেক। তবে খেজুর গাছের সংরক্ষণ ও করোনার মধ্যে নিপা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়লে সেটি হবে আরও ভয়াবহ। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ-খেজুরের রস কাঁচা খাওয়ার পরিবর্তে বাণিজ্যিকভাবে এ রসের গুড় উৎপাদনে উৎসাহ প্রদান করতে হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর ....

এক ক্লিকে বিভাগের খবর