শুক্রবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২২, ০৯:৪০ অপরাহ্ন

করোনার ধকল এবং করণীয়

ইসমাঈল হোসেন দিনাজী / ৩০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১১ জানুয়ারী, ২০২২, ১২:০৬ অপরাহ্ন

প্রায় দুই বছর ধরে আমাদের অর্থনীতির অবস্থা করোনা মহামারির ধকলে প্রায় চেপ্টা। অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক হিসাব অনুযায়ী কেবল ২০২০ সালে করোনার কারণে দেশের প্রায় ৮৫ হাজার কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অনুমেয়, গত বছর এ ক্ষতি আরও বেশি হয়েছে। দেশ যখন কিছুটা উন্নয়নের পথে অগ্রসর হচ্ছিল, তখন করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন আঘাত হানছে সারাবিশ্বে। ফলে তৈরি হয়েছে নতুন উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা। ইতোমধ্যে দেশে আবার ১১ দফা বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। এমনিতেই এর আগে যেক্ষতি হয়েছে তা কেটে ওঠা এখনও সম্ভব হয়নি। তার ওপর বিধিনিষেধসহ নতুন করে লকডাউন দেয়া হলে পরিস্থিতি কী দাঁড়াবে তা সহজেই বোঝা যায়। যারা নীতিনির্ধারক তাঁদের চোখ-কান খোলা রাখতে হবে। খবরাখবরের প্রতি সার্বক্ষণিক নজর রাখতে হবে। সেঅনুযায়ী জনকল্যাণে নিতে হবে কার্যকর পদক্ষেপ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে দেশে টিকাগ্রহণের হার ৭০ শতাংশে উন্নীত হলে এ বছরের মধ্যে করোনার শেষ হতে পারে। তারপর হয়তো এ ভাইরাসটি নিউমোনিয়ার মতো থেকে যাবে সারাবিশ্বে। এর মধ্যে হয়তো আরও কার্যকর টিকা ও ওষুধ আবিষ্কার হয়ে যাবে। ধরা যাক, ২০২২ সালের মধ্যে করোনার শেষ হতে যাচ্ছে, তবে এর অর্থ এমন নয় যে, এর পাশাপাশি বিশ্ব করোনার নেতিবাচক প্রভাব থেকে পুরোপুরি মুক্ত হতে পারবে। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রাক-মহামারি পর্যায়ে প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে এদেশের তিন বছরেরও বেশি সময় লাগতে পারে। ইতোমধ্যে করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন দেখা দেবার পর কাঁচামালের মূল্য ও পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। হাজার হাজার উড়োজাহাজ গ্রাউন্ডেড। দেশে দেশে বেড়েছে মূল্যস্ফীতি। তাই সামনে ভয়ানক পরিস্থিতি অপেক্ষা করছে এমনটা বলাই যায়। এ ক্ষেত্রে উন্নয়নশীল বিশ্বে শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দেবার আশঙ্কা রয়েছে। এতে তৈরি হতে পারে রাজনৈতিক অস্থিরতাও। ইউরোপের কোনও কোনও দেশে করোনা বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে জনগণ বিক্ষোভ করছেন। কোনও কোনও দেশে শুরু হচ্ছে সরকারের পালাবদল।
মনে রাখা প্রয়োজন, রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য প্রয়োজন বিপুল পরিমাণ অর্থের। সেজন্য বিশ্বের দিকে তাকিয়ে থাকলে চলবে কি? দুইটি ভ্যাকসিন কিংবা বুস্টার ডোজ নেয়া থাকলে এবং আল্লাহ চাইলে এতে দেশের নাগরিকদের শারীরিকভাবে কিছু হয়তো হবে না। কিন্তু জীবিকা বা অর্থনীতির কী হবে? বাইরের দুনিয়ার কোনও কোনও সরকার পূর্ব-অভিজ্ঞতা থেকে লকডাউন দিতে নানা চিন্তাভাবনা করছে। লকডাউন ব্যবহার করা হচ্ছে শেষঅস্ত্র হিসেবে। জীবন ও জীবিকা রক্ষা করবার জন্য তারা সমন্বয়তার নীতিগ্রহণ করছে। অতএব, যেকোনও সিদ্ধান্ত নেবার ক্ষেত্রে কলকারখানার মালিক ও ব্যবসায়ী সমাজের স্বার্থের কথাও চিন্তা করতে হবে। কেন না দেশে ব্যবসা-বাণিজ্য না থাকলে জাতীয় অর্থনীতি মুখ থুবড়ে পড়বে এটা নিশ্চিত। আয়-রোজগার ও মানুষের কর্মসংস্থানে টান পড়বে। এ জন্য ব্যবসায়ী সমাজ আগামী জুন পর্যন্ত ব্যাংকঋণের কিস্তি পরিশোধের যে অবকাশ চাইছেন, তা বিবেচনায় নেয়া প্রয়োজন। তবে তা যেন ঋণখেলাপি সাজবার অজুহাত না হয়। অনেকের মতে সার্বিক অর্থনীতির স্বার্থে প্রয়োজনে আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত এ নীতিসহায়তা অব্যাহত রাখা আবশ্যক। মনে হয়, যতদিন করোনার দাপট থাকে, ততদিন কিস্তি পরিশোধের সময়সীমা বাড়ানো যেতে পারে। যারা ইচ্ছাকৃতভাবে ঋণখেলাপি সাজতে চান, তাদের কথা আলাদা। কিন্তু অধিকাংশ উদ্যোক্তা এখন সমস্যাজর্জরিত। তাই ব্যবস্থাপনায় যারা আছেন, তাঁদের এসব বিষয় বাস্তবতার নিরিখে বিবেচনা করতে হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর ....

এক ক্লিকে বিভাগের খবর