শুক্রবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২২, ১০:১০ অপরাহ্ন

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর ভন্ডপীর তাসেরের অবৈধ আস্তানা সিলগালার দাবিতে মানববন্ধন

রাকিবুল ইসলাম / ৪২ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৩ জানুয়ারী, ২০২২, ৪:৪১ পূর্বাহ্ন

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ভন্ডপীর তাসেরের অবৈধ আস্তানা সিলগালার দাবিতে এলাকাবাসী মানববন্ধন করেছে। তাসেরের সকল অপকর্মের প্রতিবাদে কল্যানপুর বাজারে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আবার আলোচনায় উঠে এসেছে দৌলতপুরের কথিত ভন্ডপীর তাসের উদ্দিন ও তার অপকর্মের আস্তানা চরদিয়ার পাক দরবার শরিফ নামের আড়ালে থাকা মানুষ ঠকানোর কারখানা।
গত ৭-০১-২০২২ তারিখ শুক্রবার বিকেলে নারী লাঞ্ছনার প্রতিবাদে ও ভন্ডপীর তাসের উদ্দিনের অপকর্মের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠা উত্তেজিত জনতা । স্থানীয় জনসাধারণের রোষানল থেকে ভন্ডপীর তাসের উদ্দিনকে ও তার অপকর্মের আস্তানাকে রক্ষার নামে তাসেরের অনুসারীরা নীলনকশা বাস্তবায়নে মরিয়া হয়ে উঠে।
কথিত এই ভন্ড পীর কে বাঁচাতে ৯-০১-২০২২ তারিখে কুষ্টিয়া ডিসি কোর্ট প্রাঙ্গণে লোক দেখানো মানববন্ধন করে।

দৌলতপুর উপজেলার হোগলবাড়িয়া ইউনিয়নের কল্যাণপুরে অবস্থিত কথিত “দরবারে রেসালাতে মোজাদ্দেদিয়া” দরবার শরিফ।
এখানকার পীরের সম্পর্কে জানতে চাইলে এলাকাবাসী জানান চোর তাসের উদ্দিনের পীর তাসের হয়ে উঠার গল্প।যা যে কোনো সিনেমার গল্পকেও হার মানাবে। নব্বই দশক থেকে আল্লার দর্গা এলাকায় একটি সংঘবদ্ধ চোর-ডাকাত দলের নেতৃত্ব দিতো এই তাসের। নিজের প্রভাব বিস্তারের জন্য তৎকালীন উগ্রবাদীদল “ফ্রীডম পার্টি” তে নাম লেখান তাসের।

৯৫ সালে একটি সাইকেল চুরির অপরাধে সহযোগীসহ হাতে নাতে ধরা খেয়ে আল্লারদর্গা হাইস্কুল মাঠে জনতার বেদম গণধোলাই খান। এর পর আরোও চুরি-ডাকাতির অভিযোগে ৪/৫ বছর এলাকা ছাড়া হয় আজকের ভন্ডপীর তাসের উদ্দিন।

এরপর ২০০০ সালের দিকে এলাকায় ফিরে এসে ভালো হওয়ার ঘোষণা দিয়ে উক্ত এলাকায় গড়ে তোলেন ছোট্ট একটি বসার আস্তানা, আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। ধর্মান্ধ কিছু মানুষের “মগজধোলাই” করে শুরু করেন ধর্মব্যবসা। বিনাপূজিতে বিশাল লাভ জনক ব্যাবসার ফাঁদ পেতে ফেলেন তিনি, তার বসার আস্তানার পাশে ঈদগাঁ ও গোরস্তানের জায়গা দখল করে সম্প্রসারণ করেন আস্তানা এরপর বিভিন্ন লোকের জমি অন্যায়ভাবে জোরপূর্বক দখল এমনকি পাশে হিসনা নদী দখল করে এই ভূমি দস্যু তাসের উদ্দিন বর্তমানে গড়ে তুলেছেন এক বিশাল সাম্রাজ্য।

আরও জানা যায়, মোজাদ্দেদিয়া তরিকায় প্রধান ধর্মগুরু বা পীরের দায়িত্ব পালন করছেন এই চোর-ভূমি দস্যু ও আইনের চোখে ফেরারী তাসের উদ্দিন।
সাধারণ মানুষের ধর্মবিশ্বাস কে পুঁজি করে ধর্মব্যবসার মাধ্যমে প্রতি বছর ওরসের নামে কোটি কোটি টাকা তিনি কামিয়েছেন।
অবৈধ ধর্মব্যবসা টিকিয়ে রাখতে জেলার বড় বড় পদ ধারীদের মাসে মাসে দিতেন মোটা অংকের মাসোহারা। এ ভাবে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন তাসের উদ্দিন।

গত ০৬-০৬-২০২১ তারিখে খুন হয় দরবারের এক ভক্ত নাম রাসেদ। এরপর থেকেই বেকায়দায় পড়তে থাকে ভন্ডপীর তাসের উদ্দিন। খুনের মামলার আসামী হন তিনি। এরপর থেকেই পলাতক আছে তাসের। পলাতক আসামী হয়েও কুষ্টিয়ার আদালত কে ধোঁকা দিয়ে গিয়ে বোকা হয়েছেন।
ভক্ত রাসেদ হত্যা মামলায় গত ১৭-১০-২০২১ তারিখে কুষ্টিয়ার আদালতে ভুয়া তাসের উদ্দিন সাজিয়ে অন্য আরেক ভক্তকে জেল হাজতে পাঠায় ।

জানা যায়,, এলাকাকে মাদকসেবিদের অভয়ারণ্যে পরিনত করেছে। দরবারের লোকজন, কুষ্টিয়া সহ বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা মাদকসেবীরা দরবারের আশপাশের স্থানে মাদকসেবন করে চলে যায়। আর মাদক ব্যাবসায়ীরা দরবারকে নিরাপদ আশ্রয় স্থল হিসেবে ব্যবহার করে।
এ কারনেই কথিত দরবারে সব সময় থাকে কঠোর পাহারার ব্যাবস্থা। যাতে করে বাইরের কেউ সহজেই ভিতরে প্রবেশ করতে না পারে।
এ সব বিষয় নিয়ে এলাকাবাসীর সাথে মতবিরোধ চলে আসছিলো।

স্থানীয় জনতার দরবারে হামলার কারন অনুসন্ধানে জানা যায়, দীর্ঘদিন প্রায় ৭মাস যাবৎ ভন্ড তাসের উদ্দিন পলাতক আছে। তার দরবারের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে আছে। সেই সাথে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় আছে তার অবৈধ ব্যাবসার দেখভালকারীরা।
এমতাবস্থায় দরবারের সবাইকে সুসংগঠিত করতে দরবারে আরও কঠোর পাহারা এবং জনবল বৃদ্ধি করতে থাকে এবং যাতে এলাকাবাসী দরবারের কাছে ঘেঁষতে না পারে তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়।এমতাবস্থায় দরবারে পাশে নদীতে নামা এক মহিলাকে কটুবাক্য করা কে কেন্দ্র করে এ হামলার ঘটনা ঘটে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর ....

এক ক্লিকে বিভাগের খবর