শুক্রবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২২, ০৯:২৮ অপরাহ্ন

কুমারখালীর মাঠে মাঠে পিঁয়াজ লাগাতে ব্যস্ত কৃষক

মাহমুদ শরীফ / ৩৮ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৩ জানুয়ারী, ২০২২, ১০:৪৯ পূর্বাহ্ন

মাঠে মাঠে পিঁয়াজের চারা উত্তোলন ও রোপণে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে কুমারখালীর চাষিরা। দল বেঁধে পেঁয়াজের চারা রোপণ করা হচ্ছে বিভিন্ন এলাকায়। উপজেলা জুড়ে দেশীয় পেঁয়াজ এর চেয়ে হাইব্রিড জাতের কিং পেঁয়াজ বেশী লাগানো হচ্ছে এবারও।

চাষীরা বলছেন, খুব অল্প খরচে ভালো ফল পাওয়ায় এই হাইব্রিড জাতের কিং পেঁয়াজে তারা আগ্রহী হয়েছে। এদিকে পিঁয়াজ লাগানোর জন্য কৃষকদের পাশাপাশি স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরাও পেঁয়াজ লাগানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছে। উপজেলার মাঠে- মাঠে দল বেঁধে লাইন করে সকাল থেকে বিকেল পেঁয়াজের চারা রোপন করছে তারা। এবছর পেঁয়াজের দাম ভালো হওয়ায় পেঁয়াজ চাষে আগ্রহ বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্য সব ফসলের পাশাপাশি পেঁয়াজ চাষের প্রতি গুরুত্ব দিচ্ছেন চাষীরা।

উপজেলার মনোহারপুর, সদরপুর, যদুবয়রা, মহেন্দ্রপুর, জোতমোড়া, চাঁদপুর এলাকায় দেখা যায়, সেখানে মাঠের পর মাঠ জুড়ে পিঁয়াজের চারা রোপণে চাষিদের দম ফেলার সময় নেই। রুহুল আমিন নামের এক কলেজ শিক্ষার্থী জানান, ক্লাসের পাশাপাশি পিঁয়াজ লাগানোর কাজ করছি। পিঁয়াজ লাগিয়ে প্রতিদিন তিনশত টাকা হাজিরা পায়। এই টাকা দিয়ে আমি বই খাতা খরচ ও সেই সাথে পরিবারের কিছু সাহায্য করতে পারছি। মনোহারপুর গ্রামের কৃষক রাসেল বলেন, গত বছর আমি ১ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছিলাম। এ বছরে পেঁয়াজের অনেক দাম থাকায় এবার ৩বিঘা জমিতে পেঁয়াজ লাগাচ্ছি। শ্রমিক ঠিকমতো না পাওয়ায় স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের দিয়ে পেঁয়াজ লাগাচ্ছি। পিঁয়াজ চাষি সোহেল রানা জানান, আমরা চাষী মানুষ। শুধু ধান চাষ করলেই হবে না। এবার পেঁয়াজের দাম ভালো হয়েছে। তাই এবারে একটু বেশি করে পেঁয়াজ চাষ করেছি।

বিভিন্ন বাজার ঘুরে কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, পিঁয়াজের বীজ গত বছর ৬ থেকে ১০ হাজার টাকায় বিক্রি হলেও এবছর তা কমে বিক্রি হয়েছে ৩ থেকে ৬ হাজার টাকায়। পিঁয়াজের চারা কেজিতে ১৫০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হলেও এবার বিক্রি হচ্ছে ১৫ থেকে ২০ টাকা। আরো জানা গেছে, বীজ, চারা, সার, পরিচর্যাসহ এবার বিঘা প্রতি পিঁয়াজ উৎপাদনে কৃষকের খরচ হবে ২৮ থেকে ৩২ হাজার টাকা। এবছর মাঠে মাঠে বিদেশী কিং জাতীয় চারা রোপন করা হচ্ছে। এতে বিঘায় ৪৫ থেকে ৬০ মণ পিঁয়াজ উৎপন্ন হয়। যার বাজার মূল্য ৪০ থেকে প্রায় ৮০ হাজার টাকা হতে পারে। এবিষয়ে যদুবয়রা ইউনিয়নের জোতমোড়া গ্রামের কৃষক আমিরুল ইসলাম বলেন, তিন বিঘা জমির জন্য বীজ কিনেছিলাম দুই কেজি ১৬ হাজার টাকা দিয়ে। এবার চারা ভাল হয়েছে। আশা করছি গত বছরের চেয়ে অর্ধেক খরচে পিঁয়াজ ঘরে তুলতে পারব।
উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা গেছে, উপজেলায় মোট কৃষি জমির পরিমান ১৮ হাজার ২৪০ হেক্টর। গত বছর পিঁয়াজের লক্ষমাত্রা ছিল ৪ হাজার ৯৯০ হেক্টর এবং অর্জিত হয়েছিল ৫ হাজার ৫৯০ হেক্টর। যা কৃষি জমির ১৯ শতাংশেরও বেশি। এবছরও লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ৫ হাজার ৫৯০ হেক্টর। তবে পরবর্তীতে চারা পেঁয়াজ যেটা রোপন করা হচ্ছে এই পেঁয়াজটা মার্চ এপ্রিল দিকে উঠবে এবং বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করছেন কৃষি বিভাগ।

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ দেবাশীষ কুমার দাস বলেন, পিঁয়াজ কৃষকদের অর্থকারী ফসলের মধ্যে অন্যতম। এঅঞ্চলের মাটি পিঁয়াজ চাষে উপযোগী। কৃষি কর্মকর্তারা সবসময় কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে আসছে। আশা করছি এবারো ভাল ফলন ও দাম পাবে কৃষকরা। তিনি আরো বলেন, এবছর লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ৫ হাজার ৫৯০ হেক্টর। আশা করছি এবছরও লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। সময়মত কৃষকদের হাতে সময়মত প্রণোদনার বীজ ও সার পৌছে দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর ....

এক ক্লিকে বিভাগের খবর