ঢাকাThursday , 13 January 2022
  1. epaper
  2. অর্থনীতি
  3. আইন ও অপরাধ
  4. আন্তর্জাতিক
  5. ইতিহাস ঐতিহ্য
  6. ইসলামি দিগন্ত
  7. কুষ্টিয়ার সংবাদ
  8. কৃষি দিগন্ত
  9. খেলাধুলা
  10. গণমাধ্যম
  11. জনদূর্ভোগ
  12. জাতীয়
  13. জেলার খবর
  14. তথ্য প্রযুক্তি
  15. দিগন্ত এক্সক্লুসিভ

কুমারখালীতে অভিযানে গিয়ে বাড়ির সদস্যদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি

Link Copied!

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে একটি বাড়িতে মাদক উদ্ধার করতে গিয়ে পুলিশের চারজন সদস্য এক ঘরে আটকা পড়েন। এ সময় বাড়ির লোকজনের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে পুলিশের এক উপপরিদর্শক (এসআই) আহত হয়েছেন। তবে পুলিশ ওই বাড়ি থেকে কোনো মাদক উদ্ধার করতে পারেনি। এ ঘটনায় পুলিশ একজনকে আটক করেছে। থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার পান্টি ইউনিয়নের বাগবাড়িয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহত এসআই সাখাওয়াত হোসেন পান্টি পুলিশ ক্যাম্পে কর্মরত। তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

কুমারখালী থানা-পুলিশের ভাষ্য, বাগবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা আবদুস সাত্তার মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তাঁর চার সন্তান আবদুর রাজ্জাক, শরিফুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম ও আশরাফুল ইসলামের থানায় থানায় মাদক ও মারামারির একাধিক মামলা রয়েছে। তাঁদের বাড়িতে মাদক রয়েছে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে সাত্তারের বাড়িতে অভিযান চালান পান্টি পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা। অভিযানের সময় সাত্তারের পরিবারের সদস্যরা বাধা দেন। একপর্যায়ে তাঁদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয়। এতে পান্টি পুলিশ ক্যাম্পের উপপরিদর্শক সাখাওয়াত হোসেন সামান্য আহত হন। পরে কৌশলে সেখান থেকে পুলিশ সদস্যরা চলে আসেন।

সাত্তারের পরিবারের সদস্যদের দাবি, পুলিশ মাঝেমধ্যেই তাঁদের উত্ত্যক্ত করে। অভিযানের নাম করে বাড়িতে থাকা টাকা, স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়। বাড়ির সদস্যদের তুলে নিয়ে মাদক মামলায় চালান দেয়।

তবে সাত্তারের পরিবারের সদস্যদের দাবি, পুলিশ মাঝেমধ্যেই তাঁদের উত্ত্যক্ত করে। অভিযানের নাম করে বাড়িতে থাকা টাকা, স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়। বাড়ির সদস্যদের তুলে নিয়ে মাদক মামলায় চালান দেয়। বৃহস্পতিবার একইভাবে চারজন পুলিশ ঘরে প্রবেশ করে তল্লাশি চালাতে থাকে। বৈশাখী খাতুন নামে এক নারীর সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয়। এ সময় পরিবারের অন্য সদস্যরা পুলিশ সদস্যদের ঘরে আটকে রাখেন। আটকা পড়া পুলিশ সদস্যরা ঘরে থাকা ৪৬ হাজার ৫০০ টাকা এবং বৈশাখীর গলায় থাকা একটি সোনার চেইন নিয়ে দরজা ভেঙে চলে যান।

এদিকে সকালের ঘটনার পর পুলিশ অতিরিক্ত সদস্য নিয়ে দুপুরে সাত্তারের বাড়িতে পুনরায় অভিযান চালায়। অভিযানে তাঁর বাড়ি থেকে একটি চায়নিজ কুড়াল, তিনটি খেলনা পিস্তল ও চাকু উদ্ধার করে। বাড়ির মালিক সাত্তারকে আটক করে থানায় নেয় পুলিশ।

সাত্তারের পুত্রবধূ বৈশাখী খাতুন বলেন, সকালে তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে খাবার খাচ্ছিলেন। হঠাৎ পুলিশ এসে ঘরে প্রবেশ করে মাদকের কথা বলে তল্লাশি শুরু করে। বাধা দেওয়ায় পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয়। বাড়ির লোকজন দরজায় তালা লাগিয়ে দেন। পরে পুলিশ টাকা ও গলার চেইন নিয়ে দরজা ভেঙে পালিয়ে যায়।

কুমারখালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আকিবুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, সাত্তারের পরিবারের পুরুষ সদস্যরা সবাই মাদক ব্যবসায়ী। বৃহস্পতিবারের অভিযানে তাঁদের বাড়ি থেকে কোনো মাদক উদ্ধার হয়নি। তবে অভিযানের সময় ওই পরিবারের সদস্যরা পুলিশের সঙ্গে ‘সিনক্রিয়েট’ করেন। সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে থানায় মামলা হচ্ছে। একজন আটক রয়েছে। ওই পরিবারের সদস্যদের অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।

বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।